Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

একাধিকবার হজপালনকারীদের অতিরিক্ত ফি মওকুফের আশ্বাস

একাধিকবার হজপালনকারীদের অতিরিক্ত ফি মওকুফের আশ্বাস
সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একাধিকবার হজ ও ওমরা পালনকারীদের অতিরিক্ত ফি মওকুফ এবং ২০১৯ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সেই সঙ্গে এজেন্সি প্রতি হজযাত্রী ১৫০ জন থেকে নামিয়ে ১০০ জন করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া মিনায় দ্বিতল খাট ব্যবস্থা বাতিলসহ বাংলাদেশিদের জন্য হজকোটা বাড়ানো, মিনা আরাফা মুজদালিফায় হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি মক্কায় সৌদি হজ এবং ওমরা মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. সালেহ মোহাম্মদ বিন তাহের বেনতেনের সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর বৈঠকে বিষয়গুলো চূড়ান্ত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মহাসচিব এম শাহাদাত হোসেন তসলিম।

এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে করার বিষয়টি গভীরভাবে ভাবছে। এ ছাড়া মিনায় দ্বিতল খাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, এজেন্সি প্রতি হজযাত্রী ১৫০ জন থেকে কমিয়ে ১০০ জন করা, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের কোটা বৃদ্ধিসহ বৈঠকে বেশকিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/26/1551156508551.jpg

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম সচিব আনিসুর রহমান, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন, কাউন্সিলর (হজ) মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, কনসাল (হজ) আবুল হাসান ও হাব মহাসচিব এম শাহাদাত হোসেন তসলিম।

বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখ, ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ সভাপতি ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম ইসা, রাবেতা আল আলম আল ইসলামি, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, মসজিদে হারামের গ্র্যান্ড ইমাম, মোয়াসসাসা কর্তৃপক্ষ, মদিনার আদিল্লার চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বেশকিছু দাবি নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (বিজি-০৩৫) যোগে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান, হাব মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শেখ নাজমুল হক সৈকত।

২ মার্চ প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র