Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত মঙ্গলবার

মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত মঙ্গলবার
ইজতেমার ময়দানের দৃশ্য, ছবি: বার্তা২৪.কম
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আলমি শুরার তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কাকরাইলের মুরব্বি ও শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা যোবায়ের আহমদ পরিচালনা করেন। এর পর রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে দিল্লি নিজামুদ্দিন মারকাজের তত্ত্বাবধানে মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমা শুরু হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত থেকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। তবে শনিবার সকালে বৃষ্টির জন্য তাদের বেশ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। পরে অবশ্য বৃষ্টির কারণে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইজতেমার সময় এক দিন বেড়েছে। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাত হবে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায়। যা আগে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। মোনাজাত পরিচালনা করবেন দিল্লি নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা শামিম আহমদ।

মাওলানা সাদের অনুসারীদের ইজতেমা রোববার বাদ ফজর নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা ইকবাল হাফিজের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত মুসল্লিরা ময়দানে অবস্থান করে বয়ান শোনার পাশাপাশি অন্যান্য আমল করছেন। বেশিরভাগ মূল বয়ান উর্দুতে হয়। সেই উর্দু বয়ান বাংলার পাশাপাশি আরবি, ইংরেজি অন্য বেশ কয়েকটি ভাষায় ভাষান্তর করে শোনানো হয়।

সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, ময়দানের ভেতরে এখনও অনেক অংশ ফাঁকা পড়ে আছে। তবে মাঠে অবস্থানরত মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাচ্ছেন। তারা বয়ান শোনার পাশাপাশি জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

ইজতেমা উপলক্ষে প্রশাসনের নেওয়া সব কার্যক্রম আগের মতোই রয়েছে। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বেও ইজতেমা ময়দানসহ পুরো টঙ্গীতে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ইজতেমা সমাপ্তির পর ইজতেমা ময়দানে থাকা সমস্ত মালামাল প্রশাসনের হেফাজতে থাকবে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসল্লি) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যেতেন না। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার পাশাপাশি জেলায় জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এবার তাবলিগ জামাতের মাঝে দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে দুই গ্রুপ এক সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা করছে। আর জেলার ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় আলমি শুরার তত্ত্বাবধানে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। সে পর্বে এবার বিশ্ব মুরব্বিরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ভারতের তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা আহমদ লাট, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা ও মাওলানা জুহাইরুল ইসলাম, বাংলাদেশের আল্লামা শাহ আহমদ শফি, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা মাহমূদুল হাসান ও আল্লামা কুদ্দুসসহ শীর্ষ আলেমরা অংশ নেন। এ ছাড়া সৌদি আরবসহ আরববিশ্ব ও অন্যান্য দেশের শূরা সদস্যরা ইজতেমায় অংশ নেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারির ইজতেমায় সারাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ধর্মপ্রাণ মানুষ, তাবলিগি সাথী ও উলামায়ে কেরাম অংশ নেন। মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত। জুমার নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা যোবায়ের।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র