Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পৌনে ১১টায়, আগামী বছর দুই পর্বে

ইজতেমার আখেরি মোনাজাত পৌনে ১১টায়, আগামী বছর দুই পর্বে
ইজতেমার ময়দানের দৃশ্য, ছবি: সৈয়দ মেহেদি, বার্তা২৪.কম
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

টঙ্গী থেকে: তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার নেতৃবৃন্দ ২০২০ সালের ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ২০২০ সালে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ১২ জানুয়ারি। আর দ্বিতীয় পর্ব ১৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।

টঙ্গীর ইজতেমার ময়দানে রাতে আলমি শুরার নেতৃবৃন্দ বিশেষ মাশওয়ারায় (পরামর্শ) বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাশওয়ারায় বিশ্বের বিভিন্ন তাবলিগি মারকাজের মুরব্বিরা অংশ নেন। বৈঠকে ৫ দিনের জোড় ইজতেমার তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। চিল্লার সাথীদের নিয়ে ৫ দিনের বিশেষ জোড় ইজতেমা শুরু হবে ২৯ নভেম্বর শেষ হবে ৩ ডিসেম্বর।

অন্যদিকে আলমি শুরার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত চলতি বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় বারের মতো আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইলের মুরব্বি ও তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা যুবায়ের।

ইজতেমার আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত অন্যান্য নফল আমল শেষে শুরু হবে বয়ান। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মাওলানা খুরশিদ হেদায়াতি বয়ান করবেন। এর পর মাওলানা ইবরাহিম দেওলা বিশেষ নসিহত করবেন। এর পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

৫৪তম বিশ্ব ইজতেমায় বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ, আলেম-উলামা ও তাবলিগি সাথীরা অংশ নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে এবারের মতো মানুষ বিগত কোনো ইজতেমায় অংশ নেয়নি। মানুষের উপস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইজতেমার কাজ শুরু করতে হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিসহ আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শনিবার টঙ্গীতে আসবেন। এ জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা বেশ জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টঙ্গী ব্রিজ, কামারপাড়া ব্রিজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরের বাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ইজতেমা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ইজতেমা শেষে মুসল্লিদের বাড়ি ফেরার সময় এ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/16/1550266677588.jpg
ইজতেমার মূল মঞ্চ, এখান থেকেই বয়ান ও মোনাজাত হয়

তাবলিগের সূচনা
গত শতাব্দীর তিরিশের দশকে ভারতের প্রখ্যাত আলেমে হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি চারিত্রিকভাবে বিপর্যস্ত, শিক্ষাহীন, ধর্মকর্মহীন মুসলমানদের ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা দিয়ে ঈমানি বলে জাগিয়ে তুলতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী মেওয়াত অঞ্চলের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠিরমধ্যে প্রথম তবলিগের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ১৩৪৫ হিজরি সনে পবিত্র হজপালন করে দেশে ফিরে এসে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) যে তবলিগি কাজ শুরু করেন। তাবলিগ জামাতের মূল মারকাজ (হেডকোয়ার্টার) দিল্লির নিজামুদ্দিনে হলেও এর বার্ষিক সম্মেলনের (বিশ্ব ইজতেমা) স্থান হিসেবে বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়। চল্লিশের দশকে প্রথম বিশ্ব ইজতেমা ঢাকার রমনার কাকরাইল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে তুরাগ নদীর তীরের বর্তমান স্থানটিতে বিশ্ব ইজতিমা শুরু হয় ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে। পরে সরকারিভাবে তুরাগতীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

বিশ্ব ইজতেমায় দেশের লাখ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র হজের পর তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমাকে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ইজতেমার স্থান ও আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে মুসলমানদের বাংলাদেশে আগমন ঘটে এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে বিশ্বমুসলিমের পরিচয় ও ভাববিনিময়ের একটি সম্মিলন ও যোগসূত্র ঘটে।

মুসলমান জনগোষ্ঠির বৃহত্তম অংশকে ইসলামের বিশ্বাস ও আক্বিদায় সমৃদ্ধ ও বাস্তব অনুশীলনে অভ্যস্থ করা না গেলে মানব সমাজে ইসলাম সম্মত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এই উপলব্ধি থেকে মাওলানা ইলিয়াস তাবলিগ জামাতের সূত্রপাত করেছিলেন। বস্তুত কোরআনে কারিমের নির্দেশনা, রাসূলের শিক্ষা এবং পীর-মাশায়েখদের দেখানো পথে ইসলামের শিক্ষাকে সমাজে ও রাষ্ট্রের সবর্ত্র ছড়িয়ে দেওয়াই তাবলিগের মূল লক্ষ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/16/1550266745610.jpg
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ভিড়

বয়ান হয় ২৪ ভাষায়
ইজতোমর শেষদিন আখেরি মোনাজাতের আগে দেওয়া বয়ানকে হেদায়েতি বয়ান বলা হয়। ওই বয়ানে তাবলিগের লক্ষ্য তুলে ধরার পাশাপাশি আল্লাহতায়ালাকে রাজি-খুশির জন্য কোরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রত্যেক মুসলমানকে নীতি আদর্শ মেনে চলার কথা বলা হয়। বলা হয়, আলেম-উলামাদের থেকে দ্বীন শিখে সে অনুযায়ী চলার কথা। আমল অনুযায়ী জীবন গড়ার কথা।

বুধবার থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে দেশের ৬৪টি জেলার তাবলিগ জামাতের সাথি, আলেম-উলামা ও মাদরাসার ছাত্ররা ময়দানে এসে নিজ নিজ জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। বিদেশি মেহমানরা অবস্থান করছেন টিন সেডে। এর পূর্ব পাশে স্থাপন করা হয়ে ইজতেমার মূল মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকেই তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা আরবি, উর্দু ও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় বয়ান করেছেন। তবে মূল বয়ান করছেন উর্দু ভাষায় সেটা বাংলাসহ ২৪টি ভাষায়া অনুবাদ করে শুনানো হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/16/1550266804528.jpg
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজ গাড়িতে করে আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে ইজতেমার মাঠে নিয়ে যাচ্ছেন

হেলিকপ্টারে করে আল্লামা আহমদ শফি ইজতেমায় শরিক হলেন
ইজতেমার দ্বিতীয় দিন হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি হেলিকপ্টারে করে এসে ইজতেমায় শরিক হয়েছেন। ইজতেমার মাঠে এসে তিনি জুমার নামাজে অংশ নেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী থেকে বেসরকারি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় বিমান টঙ্গীর বাটা সু কারখানা এলাকার হেলিপ্যাডে নামেন। পরে সেখান থেকে আল্লামা শফিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজ গাড়িতে করে ইজতেমায় ময়দানে নির্দিষ্ট কামড়ায় পৌঁছে দেন। শনিবার আখেরি মোনজাত শেষে ফের হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে ফিরবেন তিনি।

শুক্রবারের বয়ান
শুক্রবার ইজতেমার মাঠের বয়ানে বলা হয়, ‘পৃথিবীতে ঈমানের মূল্য অনেক বেশি। ঈমানকে মজবুত করতে হলে দাওয়াতি কাজে সময় লাগাতে হবে বেশি। মানুষ যেন আল্লাহতায়ালার হুকুমমতো সারাজীবন চলতে পারে সে চেষ্টা করতে হবে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে ও সারা দুনিয়ায় মানুষের মাঝে দ্বীন কায়েম করার জন্য ছড়িয়ে পড়তে হবে। দ্বীনের জন্য মেহনত করতে হবে। নিজের আমল দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সা.) যে কাজে খুশি হন তা আমাদের বেশি বেশি করতে হবে। আমাদের সবার আখেরাতের চিরস্থায়ী জিন্দেগির জন্য আবাদ করতে হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/16/1550266864979.jpg
গভীর রাতেও মুসল্লিরা আসছেন আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে 

নিরাপত্ত ব্যবস্থা ও যাতায়াত
মাঠের ১৭টি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। আর ইজতেমায় আগতদের যাতায়াতের জন্য ১৩৮টি বিশেষ ট্রেন, ৪০০টি বিআরটিসি বাস, পর্যাপ্ত লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো ইজতেমার ময়দান নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ৯ হাজার পুলিশ, দুই শতাধিক র‌্যাব, ৩ শতাধিক আনসার, ৩ শতাধিক ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইজতেমা মাঠে মোতায়েন রয়েছেন। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুরো ইজতেমার মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদেশি মুসল্লি
পুলিশের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমায় আমেরিকা, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, লেবানন, ফিলিস্তিন, চাদ, জিবুতি, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ৮০টি দেশের প্রায় তিন হাজারের বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

মক্কা লাইব্রেরি: যেখানে পাঠক কম, দর্শনার্থী বেশি

মক্কা লাইব্রেরি: যেখানে পাঠক কম, দর্শনার্থী বেশি
মক্কা লাইব্রেরি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পবিত্র মক্কা নগরী থেকে (সৌদি আরব): মসজিদে হারামের পাশে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সাঈর স্থান থেকে পূর্ব দিকে গেলে একটি হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি দেখা যায়। বাড়ির জানালাগুলো কাঠের তৈরি। বাড়িটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়। বাড়ির সামনে সাইনবোর্ডে লেখা মাকতাবা মক্কা আল মোকাররমা। এটি মক্কা লাইব্রেরি বলে খ্যাত।

বলা হয় এবং অনেকেই মনে করেন, এ বাড়ির পবিত্র ভিটিতে জন্মগ্রহণ করেন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটা রাসূলের পিতা আবদুল্লাহর ঘর। এ ঘরেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে এ ঘরেই বসবাস করতেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563963990792.jpg
মক্কা লাইব্রেরির বাইরে টানানো সতর্কবার্তা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

যদিও এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাড়ির দেয়ালে লাগানো একটি নোটিশ বোর্ডেও বাংলাসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘হে মুসলিম ভাই! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঠিক জন্মস্থানের ওপর কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই। অতএব, এ স্থান থেকে বরকত গ্রহণ করা কিংবা এটাকে নামাজ ও দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা শরয়িভাবে জায়েজ নয়।’

মক্কা নগরীতে এই বাড়িটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। তাই হজ ও উমরা করতে আসা মানুষ এ বাড়িটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এখানে সবসময় দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে।

আসরের নামাজের পর গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের হাজিরা দলবেঁধে মক্কা লাইব্রেরিতে ছুটে আসছেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজিরা লাইব্রেরির চারপাশ ঘুরে ফিরে দেখছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563964038958.jpg
দূর থেকে দৃশ্যমান মক্কা লাইব্রেরি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সৌদি সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় এ লাইব্রেরির তত্ত্বাবধায়ন করে। বিশ্বের নামিদামি পাঠাগারগুলোর মধ্যে এই লাইব্রেরি অন্যতম। লাইব্রেরির প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, সৌদির বিখ্যাত শায়েখ আব্বাস কাত্তান ১৩৭০ হিজরিতে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেন।

বর্তমানে এর সংগ্রহে রয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক বই। এর মধ্যে ৮ হাজারের অধিক মুদ্রিত-অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপি রয়েছে। দুর্লভ পাণ্ডুলিপি আছে প্রায় ৫ হাজারের মতো।

লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। লাইব্রেরির বিশাল হলরুমে রয়েছে এক লাখেরও বেশি সংকলন। এর পরিসেবা বিভাগটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। যেকোনো আগ্রহী পাঠক এখানকার মনোরম পরিবেশে এসে অধ্যয়ন করতে পারেন। লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগ নির্ধারিত করা হয়েছে গবেষকদের জন্য। গবেষণার জন্য এখানে প্রায় ৬৮৪৭টি মূল পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩৫৮টি অনারবি এবং ২৩১৪টি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে প্রশিক্ষণ বিভাগ, ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি বিভাগ, মাইক্রো ফিল্ম বিভাগ, ফটো মাইক্রো ফিল্ম বিভাগ, হারামাইন স্টল, নারী বিভাগসহ আরও অনেক সুবিধা।

গুজব ছড়ানো কবিরা গোনাহ

গুজব ছড়ানো কবিরা গোনাহ
গুজব ছড়াবেন না, গুজবে বিশ্বাস করবেন না, এটা কবিরা গোনাহ, ছবি: প্রতীকী

দুষ্টু লোকেরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করে থাকে। সহজ-সরল মানুষের মাঝে মিথ্যা কথা, গুজব রটানো, অলিক কথাবার্তা ও নানা কল্পকাহিনী প্রচার করে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়।

কোনো বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু জানা না থাকলে আন্দাজে তা না বলার জন্য আল্লাহতায়ালা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা বনি ইসরাইলে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত বিশ্বাস নেই আন্দাজে তা প্রচার করো না। কেননা চোখ, কান ও অন্তর এ সবেরই জবাবদিহিতা করতে হবে।’

বর্ণিত আয়াতের আলোকে ভিত্তিহীন প্রচারণা ও গুজব রটানোর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা সহজে অনুমান করা যায়। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র ছাড়া কেউ কোনো খবর কেউ প্রচার করলে সে সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। গুজব ছড়ানো, প্রচার ও বিশ্বাস কবিরা গোনাহ।

কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘হে মুসলমানগণ! যদি কোনো ফাসেক, মন্দ লোক কোনো খবর নিয়ে আসে, তাহলে তা যাচাই-পরীক্ষা করে দেখবে যেন অজ্ঞতাবশতঃ কোনো জাতির ওপর আক্রমণ করা না হয়। এরূপ কাজ করলে তোমাদেরকে নিজেদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনুতাপ করতে হবে।’ অর্থাৎ কোনো মন্দ লোকের খবর ততক্ষণ বিশ্বাসযোগ্য না, যতক্ষণ তা প্রমাণিত না হবে।

কোরআনে কারিমের এই সুনীতির অনুসরণ করা হলে গুজব রটনা বা মিথ্যা প্রচারণায় কোনো মুসলমান বিভ্রান্ত হতে পারে না। মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান ও বিশ্বাস না করার যেখানে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা প্রচারের কুফল বর্ণনা করা হয়েছে, সেখানে ন্যায় ও সত্য অনুসরণ এবং তাতে কোনো প্রকারের সংশয় না করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহ এবং সংশয়ের বিষয়গুলো হতে বিরত থাকার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য এবং ভুল ও নির্ভুল বিষয় যে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি নির্ধারণ করতে পারে। মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করা এবং তা প্রচার করা যেরূপ পাপ, সত্য ও ন্যায় সম্পর্কে সংশয়বোধ করাও তেমনি অপরাধ।

সূরা হুজরাতে এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! অধিক সংশয়বোধ হতে বিরত থাকো। কেননা কোনো কোনো সংশয় পাপকার্যের অন্তুর্ভুক্ত।’

এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা মুসলমানদেরকে সংশয়গ্রস্ত করে তোলে, তারা বড় পাপী। হাদিস শরিফে সংশয় সৃষ্টিকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সত্য সম্পর্কে তোমরা সংশয় সৃষ্টি হতে বেঁচে থাকো। কেননা সংশয় সৃষ্টি মিথ্যা কথা স্বরূপ।’

মিথ্যা প্রচার ও গুজব রটনা সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের এসব বাণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, গুজবের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই গুজবে কান দেওয়া যাবে না, গুজব বিশ্বাস করা যাবে না। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কিছু বলা ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানোর পেছনে শয়তানের হাত রয়েছে। সহিহ মুসলিমের ভূমিকায় ইমাম মুসলিম (রহ.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদের সূত্র থেকে হাদিস বর্ণনা করে বলেন, ‘মানুষের রূপ ধরে শয়তান অনেক সময় কিছু লোকের সামনে কোনো একটি মিথ্যা খবর রেখে যায়। তার রেখে যাওয়া মিথ্যা খবরটি সে লোকগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়ে বলে, একজন এসেছিলো, তার চেহারা ঠিকই চিনি, কিন্তু নাম কি তা জানি না। অমুক ঘটনার খবর দিয়ে গেলো।’

নবী করিম (সা.) ভিত্তিহীন কথা প্রচার করতে কঠিনভাবে নিষেধ করে বলেছেন, একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যা শুনবে, তাই বলে বেড়াবে। -সহিহ মুসলিম

আমরা তো সমাজের চলতে-ফিরতে অনেক কথা শুনতে পাই। যার অনেকগুলোই সত্য নয়। এসব অসত্য কথা প্রচার করা অনেক বড় গোনাহের কাজ। যা লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সমাজের অনেক মানুষ আছে, যারা এসব খবর প্রচারে খুবই মজা পান। শয়তান তাদের ব্যাপারে বড়ই খুশি। কারণ শয়তানের কাজটি তারা করে যাচ্ছেন।

গুজবের প্রেক্ষিতে সংঘঠিত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে মানুষের জ্ঞানের যথেষ্ট কমতি রয়েছে। মৌলিক ইসলামি জ্ঞানের অভাব থাকায় শয়তান অনেককে এমন পাপের কাজে লিপ্ত করায়। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। মিথ্যা প্রচার ও কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র