Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইজতেমার বয়ান শুরু, মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ

ইজতেমার বয়ান শুরু, মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
ইজতেমার ময়দানের প্রবেশপথে আগত মুসল্লিদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪.কম
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ইজতেমার ময়দান থেকে ফিরে: বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা।

শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরুর কথা থাকলেও বিপুল পরিমাণ তাবলিগি সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ছাত্ররা উপস্থিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাঠে ইজতেমার আমল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠের দায়িত্বশীলরা।

অবশ্য মঙ্গলবার ও বুধবার মাঠে আসা মুসল্লিরা জামাতবদ্ধ হয়ে আগে থেকেই আমল জারি রেখেছিলেন।

বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করেছেন মাওলানা আবদুল মতিন। তিনি মাঠে উপস্থিত হওয়া তাবলিগি সাথীদের সময়ের গুরুত্ব ও মূল্যায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বয়ানে অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকতে বলেন।

মাওলানা আবদুল মতিন বলেন, প্রতিটা মুহূর্তের জন্যে আল্লাহর সামনে আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। মুসলমানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। তাই অযথা নষ্ট না করে তালিম-তরবিয়ত ও দ্বীনী আলোচনার মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানোর কথা বলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550140084110.jpg

বয়ানে তিনি আরও বলেন, ইজতেমার মাঠে উপস্থিত আমরা কেউ অহেতুক কথাবার্তা বলবো না। সবসময় চার কাজ এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে মশগুল থাকবো। তাওহিদ, রেসালাত ও আখেরাতের ওপর ময়দানে দাওয়াত হবে। সর্বপ্রথম দিলের মধ্যে তাওহিদ তথা একত্ববাদের বিশ্বাস বসাতে হবে।

কোনো মানুষের দোষ-গুণ নিয়ে আলোচনা না করারও পরামর্শও দেন তিনি। তিনি বলেন, ভাই! মানুষের অন্তর দিল আল্লাহতায়ালার হাতে। দিলের মালিক আল্লাহ, আর আল্লাহ চাইলে পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

বয়ানের শেষ দিকে দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে মাওলানা আবদুল মতিন বলেন, খিত্তার জিম্মাদাররা ছয় নম্বরের ওপর বয়ান করে তাশকিল করবেন। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কোরআনের তালিম হবে, এরপর তাশকিল। জিম্মাদাররা তাশকিলের কামরা থেকে কাগজ নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বেলা ১২টা থেকে জোহর পর্যন্ত অন্যান্য আমল হবে। এর পর জোহরের নামাজ ও বয়ান।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের সময় ইজতেমার মাঠে যেয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে মুসল্লিদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে ইজতেমার মাঠ। মঙ্গলবার রাত থেকে সারাদেশের মুসল্লিরা ইজতেমার মাঠে জমায়েত হতে শুরু করেছেন।

ইজতেমার মাঠের প্যান্ডেলের বাইরে এমনকি পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও তুরাগ নদীর অপর পাশেও অস্থায়ী শামিয়ানা খাঁটিয়ে মানুষকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

ময়দানের বাইরের এবং ভেতরকার রাস্তাগুলোতে খুব ধীর গতিতে চলতে হচ্ছে। ইজতেমার মাঠের চারপাশের রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ। সামান্য পথ অতিক্রম করতে যথেষ্ট সময় লাগছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550140065319.jpg

প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলছেন, আগে যে ভিড় তারা ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের দিন দেখতেন সে ভিড় এবার প্রথম দিনেই শুরু হয়েছে। এই জনস্রোত অব্যাহত থাকলে শুক্রবার ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণকালের বৃহত্তম জুমার নামাজ।

শনিবার যখন আখেরি মোনাজাত হবে ততক্ষণে মানুষের ভিড় ময়দান ছাড়িয়ে পশ্চিমে তুরাগ পার হয়ে রানাভোলা, দক্ষিণে আব্দুল্লাহপুর, পূর্বে স্টেশন রোড এবং উত্তরে কামারপাড়া রাস্তা অতিক্রম করে যাবে।

এ ছাড়া দেশি-বিদেশি তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিরাও মাঠে আসতে শুরু করেছেন। পাকিস্তানের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা জিয়াউল হক ও মাওলানা উবাইদুল্লাহ খুরশিদ ইজতেমার মাঠে পৌঁছেছেন। মাঠে উপস্থিত হয়েছেন সৌদি আরবের শুরা সাথী শেখ গাসসান।

বিকেলের মধ্যে ভারতের শীর্ষ মুরুব্বি বিশেষ করে মাওলানা আহমাদ লাট, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা জুহাইরুল হাসান, ভাই ফারুক ব্যাঙ্গালুর, মাওলানা সানাউল্লাহ আলীগড় ইজতেমার মাঠে পৌঁছে যাবেন।

বিশ্ব ইজতেমায় আল্লামা আহমদ শফিও অংশ নেবেন। সন্ধ্যার মধ্যে মাঠে পৌঁছবেন তাবলিগের আলেম উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান ও আল্লামা আবদুল কুদ্দুস সহ অন্যরা।

বুধবার থেকে মাঠে অবস্থান করছেন, কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্য ও মুরব্বিরা। তারা হলেন- হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক, মাওলানা রবিউল হক ও মাওলানা মুহাম্মদ হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র