Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রস্তুত ইজতেমার ময়দান: স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সব কাজ

প্রস্তুত ইজতেমার ময়দান: স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে সব কাজ
ইজতেমার ময়দানের দৃশ্য, ছবি: বার্তা২৪.কম
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ইজতেমার ময়দন থেকে ফিরে: টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে। ওই দিন বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা।

শুক্রবার শুরু হলেও মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকেই অনেককে জামাতবদ্ধভাবে ইজতেমার মাঠে আসতে দেখা দেখা গেছে। তারা মাঠ প্রস্তুতির কাজে অংশ নিয়ে ইজতেমা শেষ করেই তবে বাড়ি ফিরবেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ২ দিনে ইজতেমা। এই দুইদিন ইজতেমা পরিচালনা করবেন আলমি শুরার পক্ষে হাফেজ মাওলানা যোবায়ের।

আর দিল্লির মাওলানা সাদের অনুসারী ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তাদের অনুসারীদের ইজতেমা ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু করে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ। এভাবে দুই দিন করে মোট চার দিন অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমার মাঠ প্রায় প্রস্তুত। হাজার হাজার তাবলিগি সাথী, সাধারণ মুসল্লি ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানে চট টাঙানোসহ যাবতীয় আনুষঙ্গিক কাজ করছেন।

মাঠের পূর্ব পাশে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বালু দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করছে। প্রতিদিন ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দল বেঁধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিত্বে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন।

মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের দক্ষিণ অংশে এখনও চটের ছাউনি দেওয়া বাকি। তবে বাঁশের খুঁটি পুতা হয়ে গেছে। নতুন চটের বান্ডেল মাঠে এসেছে, সেখান থেকে টানানোর জন্য তা নিয়ে যাচ্ছেন মুসল্লিরা।

বিদেশি মুসল্লিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টিনের ঘর। বিদেশি মেহমানদের কামরার দক্ষিণ পূর্ব পাশে মূল মঞ্চের কাজ করা হচ্ছে। বানানো হয়েছে নামাজের মঞ্চ। খুঁটিতে লাগানো হয়েছে মুকাব্বিরদের স্থান নির্দেশক কাগজও।

মাঠে জেলা অনুযায়ী বিভিন্ন খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান করবেন। খিত্তা নম্বর দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে প্রস্তুত ছাতা মাইক লাগানো, বিদ্যুতের তার টানানো, গ্যাসের লাইন স্থাপন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে একইসঙ্গে। অজুর হাউজ ও বাথরুম পরিষ্কার করার পাশাপাশি মাঠের ভেতরে চলাচলের রাস্তার প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের ৮ হাজার পাকা টয়লেট ও ১ এক হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারের বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তুরাগ নদীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৮টি ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।

বিশ্ব ইজতেমা সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন এবং দ্বীনের মেহনত কায়েমের লক্ষ্যে মুসল্লিরা দলে দলে ভাগ হয়ে ইজতেমার মাঠে কাজ করছেন। তিতাস গ্যাস, ডেসকো, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন মাঠ প্রস্তুতির কাজে সহায়তা করছে।

বিদেশি মেহমানদের জন্য ময়দানের উত্তর পশ্চিম পাশে তৈরি করা হচ্ছে টিনসেডের আলাদা থাকার জায়গা। মাঠের বাইরে ও মাঠের ভেতরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে।

তাবলিগের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩৮টি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ট্রেন বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। অন্যদিকে বিআরটিসি ৩০০ বিশেষ বাস সার্ভিসের সেবা দেবে।

ইজতেমা ময়দানে ১৭টি প্রবেশপথ আছে। এসব গেটে আর্চওয়ে থাকবে। ১৫টির বেশি ওয়াচ টাওয়ার বানানো হয়েছে। ময়দানের ওপর হেলিকপ্টারের টহল থাকবে। তাৎক্ষনিক বিচার, নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ খাবার এবং আনুষঙ্গিক বিষয় সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩০টি মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠের আশেপাশে কাজ করবে।

ইজতেমা দুই গ্রুপের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেকেই স্ব স্ব অংশের শেষের দিকে একটি করে মোনাজাত করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র