Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

মহান আল্লাহর দয়া থেকে কেউ দূরে নয়

মহান আল্লাহর দয়া থেকে কেউ দূরে নয়
মহান আল্লাহর দয়া থেকে কেউ দূরে নয়, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করছেন, ‘এটা এজন্য যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং ইচ্ছা করলে মুনাফিকদের শাস্তি দেন অথবা (তওবা করলে) ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ ‘এবং আল্লাহ কাফেরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোনো কল্যাণ পায়নি। যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ মুমিনদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেছেন (অর্থাৎ তাদেরকে যুদ্ধে জয়ী করেছেন)। এবং আল্লাহ শক্তিধর, মহা পরাক্রমশালী। -সূরা আহজাব: ২৪

বর্ণিত দুই আয়াতে আহজাবের যুদ্ধের ফলাফল এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সত্যবাদী যেসব মুমিন শত্রুবাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য বর্ম পরিধান করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেয়ার জন্য হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তারা আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে মহা পুরস্কার লাভ করবে। যদিও আহজাবের যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং তাদের কেউ শহীদও হয়নি। অন্যদিকে মুনাফিকদের মনোবল ছিল দুর্বল এবং তারা অন্যদের মনোবলও দুর্বল করে দিয়েছিল। ফলে তারা আল্লাহতায়ালার শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হয়ে গিয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে যারা তওবা করে মুমিনদের মধ্যে ফিরে এসেছিল তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে যেসব কাফির ও মুশরিক ভেবেছিল, তারা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করে ইসলামের শেকড় উৎপাটন করবে এবং আল্লাহর রাসূল ও তার অনুসারীদের ধ্বংস করে দেবে, তারা কোনো ধরনের গনিমতের মাল ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের এই শিক্ষা দেন যে, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই ইসলামের শত্রুকে ভয় না করে। অন্যদিকে শত্রুর সামনেও এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, মহান আল্লাহর পরিকল্পনার সামনে তাদের ষড়যন্ত্র কোনো কাজেই আসবে না। তারা আল্লাহর ক্ষমতার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এ কারণে, মুসলমানদের সমূলে উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে যেসব শত্রু ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তারা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের জনপদে ফিরে যায়। মুসলমানদের ধ্বংস করার ব্যাপারে তাদের মনবাসনা অপূর্ণ থেকে যায়।

এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো-

এক. সত্যবাদিতা শুধু কথায় প্রমাণিত হয় না। কাজেও আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাতে হয়। আমরা যেন ধর্মের সহযোগিতা করতে গিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা উদাসিনতা না দেখাই।

দুই. মহান আল্লাহর দয়া থেকে কেউ দূরে নয়। এমনকি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী মুনাফিকরাও অনুতপ্ত হয়ে তওবা করার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার ক্ষমা লাভের যোগ্য হতে পারে। এ ছাড়া, আল্লাহতায়ালা তার প্রজ্ঞা অনুযায়ী যাকে খুশি তাকে এমনিতেই ক্ষমা করে দিতে পারেন।

তিন. পার্থিব জীবনে চলার পথে বিভিন্ন পরিকল্পনা করার সময় শুধুমাত্র বস্তুগত সুযোগ-সুবিধা ও অবস্থা বিবেচনা করলে হবে না। বস্তুগত জগতের ঊর্ধ্বে আল্লাহতায়ালার গায়েবি সাহায্যের কথাও আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র