Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

জানাজায় বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রসঙ্গে

জানাজায় বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রসঙ্গে
জানাজার নামাজের দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মৃতের জানাজায় অধিক সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি শরিয়তে কাম্য। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কোনো মৃতের জানাজার নামাজ একশ’ জন মুসলমান পড়ল, যারা সকলে তার মাগফিরাতের জন্য শাফায়াত করে তবে তাদের এ শাফায়াত অবশ্যই কবুল করা হবে।’ -সহিহ মুসলিম: ৯৪৭

জানাজার নামাজে শরিক হওয়া সওয়াবের কাজ এবং জীবিতদের ওপর মৃত মুসলমানের হক। এ জন্য বেশ কিছু হাদিস ও সাহাবাদের বাণীতে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য মৃত্যু সংবাদ প্রচার করার ব্যাপারে নির্দেশনা এসেছে।

সহিহ বোখারিতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি রাতে ইন্তিকাল করলে সাহাবারা তাকে রাতেই দাফন করে দেন। সকালে সংবাদটি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালে তিনি বলেন, কেন তোমরা আমাকে (তখন) জানালে না?’ -সহিহ বোখারি: ১২৪৭

অন্য আরেক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশি বাদশার ইন্তেকালের দিন তার মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে জানাজার স্থানে গেলেন, অতপর সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দি করে চার তাকবিরের সঙ্গে জানাজা আদায় করলেন।’ -সহিহ বোখারি: ১২৪৫

সুনানে বায়হাকির (৪/৪৭) এক বর্ণনায় এসেছে, রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) আসরের পর ইন্তেকাল করলে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কে তার মৃত্যু সংবাদ দিয়ে জিজ্ঞেস করা হলো- তার জানাজা কি এখন পড়া যেতে পারে? তিনি বলেন, আশপাশের গ্রামসমূহে খবর না দিয়ে রাফের মতো ব্যক্তির জানাজা পড়া যায় না।

এ বর্ণনার আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া মোস্তাহাব। কিন্তু জানাজার উদ্দেশ্য ছাড়া মৃতের গুণাবলী বর্ণনার উদ্দেশ্যে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা কিংবা বিলাপ আর্তনাদের সঙ্গে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), হজরত হুযায়ফা (রা.) প্রমুখ সাহাবারা নিজেদের মৃত্যু সংবাদ এভাবে প্রচারিত হওয়ার ভয় করে মৃত্যু সংবাদ কাউকে না জানাতে বলেছেন। -জামে তিরমিজি: ৯৮৪-৯৮৬

জামে তিরমিজির সূত্রে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, এ সংক্রান্ত অন্যান্য হাদিস ও কজকর্ম দ্বারা মৃত্যুর কারণে বিলাপ আর্তনাদ করা অথবা মৃতের গুণাবলী বর্ণনাসহ মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ইসলামি স্কলাররা এমনই বলেছেন। এতে জানাজা ও দাফনে শরিক হওয়ার জন্য মৃত্যু সংবাদ প্রচার করাকে নিষেধ করা হয়নি।

যেমন ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের মতো না করে শুধু জানাজার নামাজের সংবাদ দেওয়ার জন্য মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা মোস্তাহাব। কেননা হাদিসে জাহেলি যুগের মতো মৃতের গুণগান গেয়ে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে। -আল মিনহাজ, শরহে নববী: ৭/২১

হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মৃত্যু সংবাদ প্রচার নিষেধ নয়, নিষেধ তো হল জাহেলি যুগের কর্মকাণ্ড। -ফাতহুল বারি: ৩/১৪০

ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন, মৃত্যু সংবাদ প্রচার সংক্রান্ত হাদিসগুলোর সারকথা হলো-

১. আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও নেককারদের মৃত্যু সংবাদ দেওয়া সুন্নত।

২. মৃতের প্রভাব প্রতিপত্তি উল্লেখ করে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা মাকরূহ।

. বিলাপ, আর্তনাদের সঙ্গে প্রচার করা হারাম। -ফাতহুল বারি: ৩/১৪০

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, জানাজার কথা প্রচার করতে সমস্যা নেই। -আল জামেউস সগীর: পৃ. ৭৯

ইবরাহিম হালাবি (রহ.) বলেন, বিশুদ্ধ মত হলো- মৃতব্যক্তির গর্ব-গৌরবের উল্লেখ ছাড়া সাধারণভাবে অলিতেগলিতে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা দোষণীয় নয়। কেননা জাহেলি যুগের প্রচার তো হলো- বিলাপ-আর্তনাদের সঙ্গে মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা। -শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ৬০৩

সুতরাং সাধারণভাবে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাতে কোনো সমস্যা নেই। আর তা মৌখিকভাবে যেমন করা যায়, তদ্রূপ বর্তমানে মাইকের মাধ্যমে আরও সহজেই পৌঁছানো যায়।

তবে, জানাজা কখন হবে এটি কোনো এলাকায় একবার জানিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু কোথাও কোথাও দেখা যায় দীর্ঘসময় নিয়ে মাইকে একই ঘোষণা বহুবার করা হয়ে থাকে। এমনটি করা ঠিক নয়। কেননা এতে অন্যদের কষ্ট হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

মদিনা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু
মদিনা হাইওয়ে, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: পবিত্র হজপালন শেষে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে বাংলাদেশি হাজি বহনকারী বাস দুর্ঘটনায় ১ জন হাজি ঘটনাস্থলে ইন্তেকাল ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাজির নাম নুরুল ইসলাম (৭০)। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী সদরে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টার দিকে মদিনা থেকে একশ' মাইল আগে ওয়াদি ফারা নামক স্থান বাসের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি উল্টে যায়। ওই বাসটিতে ৩৫ জন হাজি ছিলেন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাসের যাত্রীরা স্কাই ট্রাভেলসের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজপালনের উদ্দেশ্যে আসেন।

আহতদের মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নারী ছাড়া বাকিদের অবস্থা উন্নতির দিকে। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আহতদের ৮ জন মদিনা কিং ফাহাদ হাসপাতালে, মিকাত হাসপাতালে ৪ জন, উহুদ হাসপাতালে ২ জন, সৌদি-জার্মান হাসপাতালে ২ জন ও ইয়াতামা হাসপাতালে ২ জন চিকিতসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হজপালনে সৌদি আরবে এসে শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ৮১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭১ জন, নারী ১০ জন। মারা যাওয়া হাজিদের ৭২ জন মক্কায়, ৮ জন মদিনায় ও ১ জন জেদ্দায় ইন্তেকাল করেছেন।

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
সবার মাঝে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: এবারের হজের ভুল-ক্রটি সংশোধন করে আগামীতে হজ কার্যক্রম আরও সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মক্কায় সৌদি সরকারের দক্ষিণ এশিয়া হজ সেবা সংস্থা মোয়াসসাসার সঙ্গে হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মতবিনিময় ও নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আগামীতে হাজিদের আরও সুবিধা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত হাবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেশে ফিরে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজিদের কষ্ট হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোয়াসসাসা চেয়ারম্যান ড. রাফাত ইসমাইল বদর। তিনি বাংলাদেশি হাজিদের সুবিধায় সৌদি আরব সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'হাজিদের সুবিধা দেওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। হাজিদের আল্লাহর মেহমান উল্লেখ করে ড. রাফাত বলেন, ই-ভিসা সিস্টেম ও মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মতো সুযোগ-সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, এটা নিয়ে কাজ চলছে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566052174957.jpg

হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় হজ এজেন্সিগুলোর মালিক, প্রতিনিধি ও ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে হজে আসা বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোয়াসসাসার ডিরেক্টর জেনারেল ওমর সিরাজ আকবর নিজেকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি গর্ববোধ করি বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে পেরে।'

সৌদি আরব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (দক্ষিণ এশিয়া) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ফাহাদ রাহমা, হাব মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদারসহ হাব নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হাবের পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মোয়াসসারার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে পৌঁছার পর বিমান বন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গা মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও কংকর নিক্ষেপের স্থান জামারার হাজিদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে মোয়াসসাসা অফিস। মোয়াসসাসার অধীনে প্রায় শতাধিক মুয়াল্লিম রয়েছে। এই মুয়াল্লিমদের মাধ্যমে সৌদি আরবে হাজিদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র