Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন'

'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন'
মুসুল্লিতে সরগরম মসজিদে নববী। ছবি বার্তা২৪
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মদিনা (সৌদি আরব): বড় শহরগুলোর অনেক সুবিধার মধ্যে অসুবিধা হলো হাতের কাছে সব কিছু পাওয়া যায় না। সুপরিকল্পিত নগর বিন্যাসের আওতায় একেক এলাকা ও জোনে একেক রকম জিনিসের দোকান রয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলোর মতো হাতের কাছে সব কিছু জগাখিঁচুড়ি অবস্থায় পাওয়ার উপায় নেই আন্তর্জাতিক মানের শহরে।

মদিনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো আরো পরিচ্ছন্ন ও সুবিন্যস্ত। এক সহযাত্রীর চশমা ভেঙে যাওয়ায় ঘুরে ঘুরে যেতে হলো হাসপাতাল পাড়া নামে পরিচিত দাউদিয়া সুলাতানা এলাকায়। আশ শেফা হাসপাতাল কমপ্লেক্সে বেশ কিছু ফার্মেসি ও চশমার দোকান পাওয়া গেলো।

কিন্তু সমস্যা হলো সেখানকার সব কিছুই আন্তর্জাতিক মানের ব্রান্ডের মালামাল। সুপরিচিত কোম্পানির পণ্যের সমাবেশে কম দামের 'মেড ইন জিঞ্জিরা' মার্কা চাইনিজ, জাপানিজ জিনিসের পাত্তা নেই। মানুষের বায়িং ক্যাপাসিটি ভালো বলে চেইন শপের ছড়াছড়ি।

বাজারে সাধারণত মানের কম দামি ও হালকা কিছুই নেই। তাছাড়া ছোটখাট সারাই বা মেরামত করে কোন কিছু ঠিক করার ব্যবস্থাও নেই। সৌখিন ও বিত্তশালী সৌদিরা কোন কিছু নষ্ট বা অপছন্দ হলে ফেলে দিয়ে নতুন আরেকটি কিনে নেন।

নবীর ঠিকানা মদিনায় ইবাদত-আমলের পাশাপাশি ব্যবসারও রমরমা অবস্থা। সৌদিরা এসে কড়কড়ে রিয়েল ফেলে পছন্দের মালামাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দরদাম করছেন না। মূলত সবই ফিক্সড প্রাইসের দোকান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/29/1546088866463.jpg

চাশমার ব্যবসা করেন সৌদি নাগরিক আবদুর রহিম মোহাম্মদ ইয়ামিন। তার দোকানের নাম 'ইয়ামিন অপটিক্যালস'। এমন দোকানের শাখা দেশের বিভিন্ন স্থানে আছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের  এমডি। আমাদেরকে বললেন, 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন। ফলে কোনো হালাল কাজ করতে গিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।' 

লক্ষ্য করে দেখি, তার দোকানে পণ্যের দাম অপেক্ষাকৃত সস্তা। দোকানে পবিত্র কোরআনের আদেশমূলক আয়াতগুলো ডিসপ্লে করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আরবের অধিকাংশ মানুষই কোরআনের আদেশমূলক বা হুকুমের আয়াতগুলো মুখস্ত করে রেখেছেন। বাসচালক, টেক্সিচালক দিব্যি নিজের কাজ করতে করতে কোরআনের আয়াতগুলো সুরেলা কণ্ঠে, দরদের সঙ্গে তেলাওয়াত করছেন।

আবদুর রহিম মোহাম্মদ ইয়ামিন ফিজিক্সের গ্র্যাজুয়েট। শিক্ষকতা করেছেন কিছুদিন। বাপ-দাদা ব্যবসা করতেন বলে এ পেশার হাল ধরেছেন। বললেন, 'সব কাজ ও পেশাই ইবাদত, যদি তাতে মানুষের সেবার মনোভাব ও কল্যাণ চিন্তা থাকে। আর মানুষকে কষ্ট দিলে ইবাদতেরও ফল পাওয়া যাবে না।'

সৌদিতে মানুষকে সাহায্য করার একটা প্রবণতা সবার মধ্যেই আছে। মক্কা ও মদিনায় জীবন-যাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে ছাপিয়ে আধ্যাত্মিকতা অবস্থান করছে সর্বাগ্রে। নামাজের আহ্বান জানিয়ে আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই কাজ বন্ধ করে নামাজে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। দোকানপাট বন্ধ করে, গাড়ি থামিয়ে আগে নামাজ পড়ে নিচ্ছেন। ফরজ বা আল্লাহ হুকুম মানার ক্ষেত্রে কালবিলম্ব এখানে অকল্পনীয়।

ফরজকে মজবুত করে আকড়ে ধরার পর অতিরিক্ত আমল করা হয় একাকী। সেগুলো লোক দেখানোর বদলে গোপনে করতেই পছন্দ করেন মানুষ। তবুও একটি আমল আরব ভূমিতে খুবই দৃশ্যমান, তা হলো সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও সোমবার রোজা পালন। সেদিনগুলো মক্কা ও মদিনার মসজিদে ইফতারে বসেন হাজার হাজার মানুষ।

আরেকটি লক্ষণীয় আমল হলো শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়। মধ্য রাত থেকে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত মসজিদ সরগরম থাকে নারী-পুরুষে। 'দারুল ঈমান', 'দারুল ইসলাম' ও 'দারুল আমান'-এর খোশবু ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। শান্তি ও নিরাপত্তার সুবাতাসে আমোদিত মানুষ উদ্ভাসিত হয় তাসবিহ, তাহলিল, হামদ ও সানায়। 

আপনার মতামত লিখুন :

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

পবিত্র কাবা ও মসজিদে হারামের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবাদতের জন্য পৃথিবীতে সর্বপ্রথম স্থাপিত গৃহ পবিত্র কাবাঘর। কাবার চারপাশে গড়ে ওঠা মসজিদই মসজিদে হারাম। কাবা ও মসজিদে হারামের সঙ্গে পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলমানের হৃদয় আধ্যাত্মিক সুতায় বাঁধা।

মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ পড়লে অন্যত্র ১ লাখ রাকাত নামাজেরও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আমার এ মসজিদে এক নামাজ অন্য মসজিদে হাজার নামাজ থেকেও উত্তম। তবে মসজিদে হারাম ছাড়া। কেননা মসজিদে হারামে এক নামাজ অন্য মসজিদের এক লক্ষ নামাজের চেয়ে উত্তম।'(মুসনাদে আহমাদ)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767670027.jpg
মসজিদে হারামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৭১৫

 

কাবাঘরকে ঘিরে নির্মিত মসজিদে হারামের আয়তন ৪ লক্ষ বর্গমিটার বা ৪৩ লক্ষ বর্গফুট। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এতে একসঙ্গে ৯ লক্ষ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তবে হজ বা রমজানের মওসুমে অতিরিক্ত আরও ৪০ লক্ষ লোকের স্থান সংকুলান হয় মসজিদে হারামে।

এতোবড় আয়োজনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। বছরে দুইবার কাবা ঘরের দরজা খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং কাবাঘরকে বিশেষ পানি দ্বারা ধোয়া হয়। প্রথমবার করা হয় শাবান মাসে আর দ্বিতীয়বার করা হয় জিলকদ মাসে। পবিত্র জমজমের পানি, তায়েফ গোলাপ জল এবং বহু মূল্যবান ঊড তৈল দিয়ে একটি পরিষ্কার মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়েই পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয়। আর এ কাজে নেতৃত্ব দেন দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদির বাদশাহসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767690112.jpg
মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়

 

আর মসজিদে হারামকে দৈনিক ৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদে হারামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতিদিন ১২৪৫ জন কর্মচারী লিপ্ত থাকেন। হজের মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজে ৪৭০ জন কর্মচারী বাড়ানো হয়। যে কারণে মোট কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১৫ জন। এর মধ্যে ২১০ জন মহিলা কর্মচারী থাকে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ চলাকালীন সময়ে ১৩১ জন অতিরিক্ত নারী কর্মচারীর খেদমত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যারা মসজিদে হারামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। মসজিদে হারাম পরিষ্কার ও পবিত্র করার কাজে ২০০ গ্যালন গোলাপজল ব্যবহার করা হয়। দ্রুততার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে পরিষ্কারের সাধারণ পদ্ধতি ছাড়াও নিত্যনতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারির ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563767703981.jpg
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের

 

কিছু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গোলাপজল ভরে মসজিদের মেঝে ও আশপাশে ছিটানো হয়। খাদেমগণ বাইতুল্লাহর মেঝে পরিষ্কারের সঙ্গে কাবার গিলাফ, হাজরে আসওয়াদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও জিনিসপত্রে প্রতিদিন পাঁচবার সুগন্ধি লাগান।

মসজিদে হারাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় কর্মচারীরা বিশেষ পোশাক পরিধান করে কাজ করেন। আর এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বড় অংশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের।

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র