Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরআন নিয়ে গবেষণা: ইউউ বরাদ্দ দিলো ১০ মিলিয়ন ইউরো

কোরআন নিয়ে গবেষণা: ইউউ বরাদ্দ দিলো ১০ মিলিয়ন ইউরো
কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে ইউউ বরাদ্দ দিয়েছে ১০ মিলিয়ন ইউরো, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের আগমন ও পবিত্র কোরআনের প্রচার-প্রসারের ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউউ)১০ মিলিয়ন ইউরো বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ গবেষণা কাজ সম্পাদনের জন্য স্প্যানিশ গবেষক এবং ইতিহাসবিদ মার্সিডিজ গার্সিয়া ইরিনালকে নির্বাচন করেছে। ‘ইউরোপে কোরআন’ শিরোনামে চলমান গবেষণাটি সম্পন্ন করতে ছয় বছরের মতো সময় লাগবে। গবেষণায় কয়েকজন ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ববিদ ও ভাষাবিদ একযোগে কাজ করবেন।

মার্সিডিজ গার্সিয়া ইরিনাল এ বিষয়ে বলেন, এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কীভাবে কোরআন যা বিদেশি জাতির প্রতীক, ইউরোপীয় দেশসমূহের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, ইউরোপের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশদভাবে এ অঞ্চলে ইসলাম ও কোরআনের আগমন ঘটে। তবে এর আগে থেকেই এসব এলাকায় মুসলমানদের অস্তিত্ব ছিল।

স্পেনের এই ইতিহাসবিদ আরও বলেছেন, ল্যাটিন ভাষায় সর্বপ্রথম ১২ শতাব্দীতে কোরআন অনুবাদ করা হয়। খ্রিস্টানের ফ্রান্সিসকান ও ডোমিনিক সম্প্রদায় তখন পবিত্র কোরআনের অনুদিত এই পাণ্ডুলিপিটিকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিপ্লবের জন্য ব্যবহার করেছিল। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে, পবিত্র কোরআনের বার্তাসমূহ মিথ্যা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ। যা সম্পূর্ণ ভুল। আদতে কোরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা শুধু এ এলাকায় কোরআন প্রচারের শেকড়টা খুঁজে বের করতে চাই।

বিষয়টি ইসলামি স্কলাররা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আন নিসার ৮২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে আসত, তাহলে তাতে অবশ্যই তারা অনেক অসংগতি (দেখতে) পেতো।’

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মানুষকে মহাগ্রন্থ কোরআনে কারিম নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনের সন্দেহাতীত রহস্যাবলি, সুবিন্যস্ত ও সুসংহত বিষয়বস্তু আর আলংকারিক বর্ণনা শৈলীর সৌন্দর্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে তিনি নিষেধ করেছেন।

ইসলামের সত্যতা নিরূপণে এবং ঈমানের পরিপক্বতা অর্জনে কোরআনে কারিম নিয়ে অব্যাহত চিন্তাভাবনা ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আয়াতে আল্লাহতায়ালা কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য মানবজাতিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তবে কি তারা কোরআন সম্পর্কে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহ তালাবদ্ধ হয়ে আছে?' - সূরা মুহাম্মদ: ২৪

কোরআন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা-পর্যালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। চিন্তাভাবনা ও গবেষণা-পর্যালোচনার স্তরভেদ রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্যক জ্ঞানের পাশাপাশি কোরআন-হাদিস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িনের ব্যাখ্যা-মতামত জানা, আরবি ভাষার শব্দ, বাক্য, ব্যাকরণ, ছন্দ ও অলংকারশাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন জরুরি। এ ছাড়া পূর্ববর্তী কোরআন ব্যাখ্যাদাতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ, উম্মাহের মীমাংসিত বিষয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখা। এ সব বিষযে কোনো জ্ঞান না থাকলে কিংবা স্বল্প পরিমাণ থাকলে তার কোরআন নিয়ে গবেষণা গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!

একসঙ্গে ৫৮ জনের জানাজা!
জানাজার নামাজের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুক্রবার (১৬ আগস্ট) মসজিদে হারামে ফজরের নামাজের পর দুইবারে ৫৮ জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে হারামের এত সংখ্যক মানুষের নামাজে জানাজা একসঙ্গে আদায়ের ঘটনা আর ঘটেনি। ৫৮ জনের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন।

মসজিদে হারামে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে ‘আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ', অথবা 'আস সালাতু আলাল আমওয়াতি ওয়াল আতফালি ইয়ারহামু কুমুল্লাহ' বলে জানাজার নামাজের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

চলতি হজ মৌসুমে ফরজ নামাজের পর একবার জানাজা শেষে দ্বিতীয়বার ঘোষণা দিয়ে আবার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। এটা নিয়ে এক ধরণের কৌতূহল কাজ করছে। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, জানাজার জন্য আসা লাশের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দুইবার জানাজা পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পরও দু'বার ঘোষণা দিয়ে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023261620.jpg

 

হজযাত্রী এবং মক্কার আশপাশের এলাকার স্থানীয় সৌদি নাগরিক কিংবা কোনা প্রবাসী মারা গেলে তাদের জানাজা মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়। হজযাত্রীরা ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জানাজার জন্য, এটাই রীতি।

হজপালন করতে এসে কোনো হজযাত্রী হোটেল, বাড়ি কিংবা রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা হাসপাতালে মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয় না। তবে লাশ দেশে না পাঠালেও মৃত্যুবরণকারী হাজির মৃত্যুর সনদ যথাসময়ে তাদের পরিবার বা তাদের প্রতিনিধি কিংবা এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহের গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করাসহ যাবতীয় কাজ নির্দিষ্ট বিভাগ করে থাকে। মক্কার রুশাইফায় রয়েছে লাশের গোসল ও কাফন পরানোর ব্যবস্থা। হজপালনকারীদের লাশ বহন করার জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশের এখানে কোনো কিছু করতে হয় না।

মসজিদে হারামে জানাজার জন্য লাশ গাড়িতে করে কাবা শরিফের দক্ষিণে নবী করিম (সা.)-এর জন্মস্থানের পাশে বাবে ইসমাইলের কাছে রাখা হয়। ফরজ নামাজের পর ইমাম সাহেব লাশ রাখার স্থানে এসে জানাজার নামাজ পড়ান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566023327139.jpg

 

আরবদের মাঝে লাশ বহরকারী খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ অনেক। এটা তাদের একটি বিশেষ গুণ। এটাকে তারা সৌভাগ্য মনে করে। এজন্য লাশ পরিচিত হওয়া জরুরি নয়।

পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, জানাজার নামাজ আদায় করলে উহুদ পর্বত সমান সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যোগ হয়। জানাজার নামাজ আদায় করা- ‘ফরজে কেফায়া।’ অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ তা আদায় করলে সবাই দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করেন। আর কেউ যদি এই কাজ না করেন, তাহলে সবাই পাপের ভাগীদার।

ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ‘জানাজার নামাজ’ বলে যে ইবাদতটি পরিচিত, আরব দেশের জনগণ সেটিকে ‘সালাত আলাল মাইয়্যেত’ বা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া বলে থাকেন। জানাজার নামাজ মূলতঃ মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা।

এক হাদিসের মর্মার্থ হলো- জানাজা মুসলমানের অন্যতম হক। এতে অংশ নিলে পরকালের কল্যাণ লাভের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানের অধিকার সংরক্ষণের মতো মহৎ একটি কর্ম সম্পাদিত হয়।

 

আরও পড়ুন, হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
দেশে ফিরতে এয়াপোর্টে যাচ্ছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: শুরু হচ্ছে হজের ফিরতি ফ্লাইট। শনিবার (১৭ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া হজের ফিরতি ফ্লাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাজিরা দেশে ফিরবেন। এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন বাংলাদেশি হজপালনের জন্য সৌদি আরব এসেছেন। হজপালনে এসে সৌদি আরবে শনিবার পর্যন্ত ৮১ জন ইন্তেকাল করেছেন।

৪১৯ জন হাজি নিয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেদ্দা ছেড়ে যাবে বিমানের বিজি৩৫২০ ফ্লাইট। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। প্রথম দিন তিনটি ফিরতি ফ্লাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৬ বছরের জমানো টাকায় হজ!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের ৩৬৫টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশি হাজিরা। জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হাজিদের সেবা দিতে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566019669426.jpg

প্রত্যেক হাজি বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল আনতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৫৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই প্রতি পিস ব্যাগের ওজন ২৩ কেজি এবং বিজনেস ক্লাসে ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না।

আরও পড়ুন: হাজিরা মক্কা ছাড়তে শুরু করেছেন

বাংলাদেশের যাত্রীরা ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এবং সৌদির যাত্রীরা জেদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে ৫ লিটার জমজমের পানি বিনা মূল্যে নিতে পারবেন। সুতরাং মক্কা কিংবা জেদ্দা থেকে জমজমের পানি সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। বিমানে পানির জন্য প্রত্যেককে একটি করে টোকেন দেওয়া হবে। পরে ওই টোকেন দেখিয়ে জমজমের পানি সংগ্রহ করতে হবে বিমান বন্দরের নিদিষ্ট কাউন্টার থেকে।

পবিত্র হজপালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ৬০ হাজার হাজি মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ঢাকায় প্রি-ডিপারচার এরাইভাল সুবিধা পেয়েছেন এবং তাদের লাগেজ নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ফিরতি ফ্লাইট মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় না থাকায় হাজিদেরকে তাদের লাগেজ নিজ দায়িত্বে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: হজের খুতবা দেওয়া হয় যে মসজিদ থেকে

লাগেজসহ মক্কা থেকে হাজিদের জেদ্দা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে মক্কা বাংলাদেশ হজ মিশন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র