Alexa

অধীনস্থদের সঙ্গে প্রতারণা পাপ

অধীনস্থদের সঙ্গে প্রতারণা পাপ

অধীনস্থদের সঙ্গে প্রতারণা পাপ, ছবি: প্রতীকী

অধীনদের অধিকার পূরণ করা ইসলামের নির্দেশ। বিদায় হজের ভাষণে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অধীনদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

এ বিষয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ অসিয়ত ছিলো- ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে তোমাদের অধীনদের ব্যাপারে।’

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘তিন শ্রেণির লোক রয়েছে যাদের সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না। আর তাদের জন্য থাকবে মর্মন্তুদ শাস্তি। তন্মধ্যে এক শ্রেণি হচ্ছে- মিথ্যাবাদী প্রশাসক।’ সহিহ মুসলিম: ১০৭

কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে হাদিসটিতে রয়েছে শিক্ষার অনেক কিছু। কারণ, একজন প্রশাসক যখন মিথ্যাচার করে মানুষকে বোকা বানাতে চেষ্টা করে, তার অধীনস্থদেরকে মিথ্যা কথা দিয়ে বিভ্রান্ত করে। অথচ সে নিজেও বুঝতে পারে যে, তার অধীনস্থরা তার মিথ্যাচার সম্পর্কে অবগত। এমতাবস্থায় সেটা তাদের মনঃপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক সময় দেখা যায়, উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা আপনার ন্যায্য কোনো অধিকার বাতিল করে দেয়, যখন তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়- তখন সে বলে, এটা আমি করিনি; আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা করেছে। অথচ আপনি ভালোভাবেই বুঝতেছেন কে আপনাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কিন্তু আপনি অসহায়। এসব লোকের প্রতারণা, মিথ্যাচার ও শঠতা ধরা পড়ার পরও আপনার যেন কিছুই করার নেই। এসব লোকের জন্য দুনিয়াতে শুধু ঘৃণা আর ঘৃণা, তদ্রূপ আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকেও আখেরাতে তাদের জন্য থাকবে চরম অবহেলা ও মর্মন্তুদ শাস্তি।

অন্য এক হাদিসে আমরা দেখতে পাই, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘এমন কোনো বান্দা যাকে আল্লাহতায়ালা কারও দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়েছেন, আর সে তার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতারণা করা অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন।’ –সহিহ বোখারি: ৭১৫১

হতে পারে সাময়িকভাবে উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা এমন প্রতারণাকে তার অধিকার, ক্ষমতা কিংবা যোগ্যতা মনে করছেন। কিন্তু এটা কোনো যোগ্যতা নয়। ইসলাম মনে করে, কারও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়। এটা ভীষণ পাপের কাজ। এমন কাজ করে উর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা কিংবা প্রশাসক কিন্তু তার আখেরাতকে বিনষ্ট করছেন।

নবী করিম (সা.)-এর সেবক হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি দীর্ঘ দশ বছর নবী করিম (সা.)-এর খেদমত করেছি। তিনি আমার সম্পর্কে কখনও ‘উহ’ শব্দটি বলেননি এবং কোনোদিন বলেননি, এটা করোনি কেন? ওটা করোনি কেন? আমার অনেক কাজ তিনি নিজে করে দিতেন। -মিশকাত

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যার মাঝে তিনটি গুণের সমাবেশ হবে- আল্লাহ তার মৃত্যু সহজ করে দেবেন এবং তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। গুণ তিনটি হচ্ছে- ১. দুর্বলের সঙ্গে বিনয় ব্যবহার, ২. মাতা-পিতার প্রতি ভালোবাসা ও ৩. চাকর-চাকরানির সঙ্গে সদাচরণ।

আপনার মতামত লিখুন :