Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আল্লাহর সাহায্য কামনায় এসতেখারার নামাজ

আল্লাহর সাহায্য কামনায় এসতেখারার নামাজ
আল্লাহর সাহায্য কামনায় এসতেখারার নামাজ, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এসতেখারার নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যখন মানুষ কোনো কাজকর্ম করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। তখন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আল্লাহতায়ালার কাছে মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে যে নামাজ আদায় করা হয় তাকে এসতেখারার নামাজ বলে।

এসতেখারা শব্দের অর্থ
এসতেখারা শব্দের অর্থ মঙ্গল কামনা করা, কল্যাণ কামনা করা, শুভ ফল কামনা করা, সঠিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা প্রভৃতি।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, যদি এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, কোনো বিষয়ে কোনো প্রস্তাব এসেছে। অথবা কোনো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। কোনো সফরে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে অথবা কোনো কারবার শুরু করার ব্যাপারে অথবা কোনো চাকরি করা বা ত্যাগ করার ব্যাপারে, কোনো বাড়ি, জমি বা দোকান কেনাবেচার ব্যাপারে অথবা বিদেশে চাকরি করতে যাওয়ার ব্যাপারে অথবা কারো সঙ্গে কোনো সম্পর্কে জড়িত হওয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে যদি কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তা হলে তা সমাধানের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে মঙ্গল কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে দোয়া করাকে এসতেখারার নামাজ বলে।

অর্থাৎ যেকোনো ব্যাপারে কোনো ধরনের সমস্যা দৃশ্যমান হলে এসব বিষয়ে মন স্থির করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিমিত্তে আল্লাহতায়ালার নিকট মঙ্গল কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াকে এসতেখারার নামাজ বলে। এসতেখারার নামাজ পড়ে দোয়া পড়া মোস্তাহাব। এসতেখারার নামাজ আদায়ের পর যে দিকে মনের সাড়া বা ঝোঁক প্রবণতা অনুভূত হবে তা অনুসরণ করলে আল্লাহতায়ালার দয়ায় সাফল্য লাভ করা সম্ভব হবে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এসতেখারাকারী কখনও ব্যর্থ হয় না। পরামর্শকারী কখনও অনুতপ্ত হয় না এবং মিতব্যয়কারী কখনও অপরের মুখাপেক্ষী হয় না।’ –তাবারানি

এসতেখারাকারী সৌভাগ্যবান

এসতেখারাকারীকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৌভাগ্যবান বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাই এসতেখারার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার ফায়সালার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করা উচিত।

সাহাবি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর নিকট এসতেখারা করা আদম সন্তানদের সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহর মর্জির ওপর রাজি থাকাও আদম সন্তানের জন্য সৌভাগ্য। আদম সন্তানদের জন্য দুর্ভাগ্য যে, তারা আল্লাহর কাছে এসতেখারা করে না এবং আল্লাহর ফায়সালার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে।’ -মুসনাদে আহমাদ

এসতেখারার পদ্ধতি
এসতেখারা করার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে। ওই নিয়ম অনুযায়ী এসতেখারা করতে হয়। নামাজের নিষিদ্ধ সময় ছাড়া সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো সময়ে সাধারণ নফল নামাজের মতো দুই রাকাত এসতেখারার নামাজ আদায় করুন। তারপর আল্লাহর হামদ সানা ও রাসূলের ওপর দরুদ পাঠ করুন। অতঃপর নবী করিম (সা.)-এর শেখানো এসতেখারার দোয়া পড়ে কিবলামুখী হয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। তারপর মনের ঝোঁক প্রবণতা যেদিকে সাড়া দেয় তা আল্লাহর মর্জি মনে করে অনুসরণ করুন। অনিবার্য কারণে যদি নামাজের সুযোগ না হয় তাহলে শুধু দোয়া পড়লেই চলবে।

যেমন- যদি কোনো নারী ঋতু বা প্রসব পরবর্তী স্রাব (নেফাস) অবস্থায় থাকে তবে তার পক্ষে নামাজ আদায় সম্ভব নয়। এ অবস্থায় শুধু দোয়া পড়ে ঘুমিয়ে যাবে, পরে মন যে দিকে সাড়া দেয় সে অনুযায়ী কাজ করা উচিত।

এসতেখারার দোয়া
এসতেখারার নামাজ আদায়ের পর হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া মোস্তাহাব। হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যেভাবে আমাদের পবিত্র কোরআন শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবে এসতেখারার দোয়াও শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো সময়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে তাহলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করো।

এসতেখারার দোয়া নিম্নরূপ-
‘হে আল্লাহ! আমি তোমার ইলমের ভিত্তিতে তোমার কাছে মঙ্গল কামনা করছি এবং তোমার কুদরতের দ্বারা তোমার অবারিত রহমত ভিক্ষা চাচ্ছি। কারণ তুমি কুদরতের মালিক এবং আমি শক্তিহীন। তুমি সব জানো, আমি জানি না এবং তুমি গায়েবের কথাও ভালোভাবে জানো।

হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞান মতে, এ কাজ যদি আমার জন্য, আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য এবং শেষ পরিণামের জন্য মঙ্গলকর হয়, তা হলে তা আমার ভাগ্যে লিখে দাও। আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং তা আমার জন্য বরকতপূর্ণ করে দাও। আর যদি এ কাজ আমার জন্য, আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য এবং পরিণামের জন্য অমঙ্গলকর হয়, তা হলে তা আমার থেকে দূরে রাখো এবং আমাকে তার থেকে বাঁচাও। আমার ভাগ্যে মঙ্গল লিখে দাও যেখানেই তা হোক। তারপর তার প্রতি আমাকে সন্তুষ্ট এবং অবিচল থাকার তৌফিক দাও।’

উপরিউক্ত দোয়া পড়ার পর কিবলামুখী হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। এভাবে সাতবার করা উত্তম। তা হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাফল্য লাভ করা যায়। সুতরাং সবাইকে এসতেখারার নামাজ আদায় করে আল্লাহর মঙ্গলের প্রত্যাশা করা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন :

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম

কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম
কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম, ছবি: সংগৃহীত

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেবে কওমি ফোরাম।

২ আগস্ট, শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের পরীক্ষায় মুমতাজ (স্টারমার্ক) বিভাগে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করেছে সংগঠনটি । অনুষ্ঠানে বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষক ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে 01674609982, 01670269028 এই নম্বরে নাম তালিকাভুক্তির জন্য যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

কওমি ফোরাম দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের নিয়ে একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন- মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আউয়ুবি, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ ও মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ‘আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ

আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ
আরও ৫ শতাংশ হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়, ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে আরও ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট কিংবা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিলো ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২২ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আরিফ মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের কথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টের জন্য ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে হজ অফিসের পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং তা অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে লিখিত আবেদনে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সুপারিশ থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে হজপালন করতে পারবেন না মর্মে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী অথবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর লিখিত আবেদন এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

প্রতিস্থাপন প্রাপ্তির জন্য এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না মর্মে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে। হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হজ নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হলেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সার্কুলার জারি করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দিয়ে থাকে। চলতি বছর দুই দফায় ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ হারে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এবার আরও ৫ শতাংশ হারে এই সুবিধা দেওয়া হলো।

হজযাত্রার জন্য প্রাক-নিবন্ধনের পর মৃত্যু ও অসুস্থতাসহ নানা কারণে যারা হজপালনে সৌদি আরব যেতে পারেন না, তাদের পরিবর্তে অন্যদের হজপালনের সুযোগকে রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন বলে। সৌদি দূতাবাস কর্তৃক হজ ভিসা দেওয়া বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্লাইট চালু সাপেক্ষে যাত্রীদের রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র