Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

কম টাকায় উমরার অফারে প্রতারণার আশঙ্কা

কম টাকায় উমরার অফারে প্রতারণার আশঙ্কা
কম টাকায় উমরার অফারে প্রতারণার আশঙ্কা, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে উমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বেশ কয়েক বছর উমরা ভিসা নিয়ে জটিলতার পর গতবছর থেকে বাংলাদেশের মানুষ উমরার সুযোগ পাচ্ছেন। সাধারণত রমজান মাসে উমরার জন্য বেশি ভিড় থাকলেও বছরের অন্য সময়ও প্রচুর বাংলাদেশি উমরাপালনে সৌদি আরব গমন করেন।

বাংলাদেশে বিভিন্ন হজ ও উমরা এজেন্সি উমরা পালনের প্যাকেজ ঘোষণা করে থাকেন। কিন্তু এসব প্যাকেজের মূল্য নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। এক এজেন্সির প্যাকেজের সঙ্গে অন্য এজেন্সির প্যাকেজের কোনো মিল নেই। এই সুযোগে অনেক অসাধু হজ এজেন্সি কম মূল্যে উমরার প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে। বিশেষ করে অল্প টাকায় উমরা পালনের সব বিষয়ের দায়িত্ব নেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ঠকানো হয় সাধারণ মানুষকে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আকর্ষণীয় এসব বিজ্ঞাপনে থাকে লোভনীয় সব অফার। কিন্তু উমরায় যেয়ে এসব অফারের কোনোটিই মেলে না। তাই এসব প্রতারক এজেন্সি থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন খোদ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাব (হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)।

তার পরও কম টাকায় পবিত্র উমরাযাত্রী সংগ্রহের অসম প্রতিযোগিতা চলছে দেশজুড়ে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে সেবার মান। আর বিদেশে যেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উমরাযাত্রীদের, এতে করে বিদেশের মাটিতে দুর্নাম হচ্ছে দেশের।

১৫ দিনের শর্ট প্যাকেজ ঘোষণা করে এক শ্রেণির মধ্যস্বত্ব্যভোগি দালাল উমরা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রী সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে এসব দালাল গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল উমরাযাত্রীদের কাছ থেকে মাত্র ৬০-৬৫ হাজার টাকায় উমরা পালনের জন্য পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে। এতে উমরা ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উমরার প্যাকেজ (১০-১২ দিন) মক্কা-মদিনার হোটেল ভাড়া (কাছের হোটেল ও শেয়ার রুম), খাবার (২ বেলা), ভিসা খরচ ও বিমান ভাড়ার (সরাসরি বিমান) ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন পরিদর্শন করানোর কথাও থাকে। এজেন্সি কর্তৃপক্ষ এসব হিসাব করে উমরা প্যাকেজ ঘোষণা করে থাকেন।

অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, ১০ দিনে এসব কিছুসহ উমরাযাত্রী প্রতি খরচ হয় ১ লাখ টাকার মতো। এর বাইরে কম খরচে উমরার প্রলোভনে যারা উমরা করতে যান, তাদেরকে দূরের হোটেলে রাখা হয়, খাবার খেতে হয় নিজ দায়িত্বে, মক্কা-মদিনার কোনো দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করানো হয় না, এমনকি ট্রানজিট বিমানে সৌদি আরব যেতে হয়। তাই সস্তা কোনো প্যাকেজে উমরায় না যাওয়াই শ্রেয়।

কিন্ত কতিপয় দালাল কম খরচে উমরা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উমরাযাত্রীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে। এসব উমরাযাত্রী দালাল চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছে। একাধিক এজেন্সি মালিক বার্তা২৪.কম এর কাছে এমনটিই দাবি করেছেন।

তারা বলছেন, কম টাকায় উমরা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও প্রচারপত্র বিলি করে উমরাযাত্রী সংগ্রহ করছে অনেকই। এদের মাধ্যমে উমরা পালন করতে গেলে যাত্রীরা প্রতারণার শিকার হবেন। এসব দালাল উমরা ব্যবসাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এদের সঙ্গে উমরা পালন করতে গেলে পবিত্র মক্কার ৪/৫ কিলোমিটার দূরের বাসায় থাকতে হবে। খেতে হবে নিজ দায়িত্বে। কম টাকায় উমরায় গেলে মক্কা-মদিনায় গিয়ে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত হারাম শরিফে যেয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ থাকে না বলেও জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র