Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্থিরতা নামাজের প্রাণ

স্থিরতা নামাজের প্রাণ
স্থিরতা নামাজের প্রাণ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি মাহফূযুল হক
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

খুশু অর্থ মনের স্থিরতা। ইসলামি পরিভাষায় খুশু বলা হয়- মনের গহীনে আল্লাহতায়ালার প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধাবোধ, ভক্তি, ভালোবাসা ও ভয় লালন করে বিনয়ের আতিশয্যে নামাজে নিমগ্ন হয়ে থাকাকে। সারকথা, মন নামাজ থেকে ছুটে অন্যকোনো কিছুর দিকে না যাওয়া, নামাজের মধ্যে মনে অন্যকিছুর খেয়াল না আসা, আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের অনুভূতি ও অবস্থা জাগ্রত থাকা ইত্যাদিই খুশু।

খুশু যদিও মনের একটি অবস্থার নাম কিন্তু বাহ্যিক অঙ্গে তার একটা ছাপ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়ে থাকে। তাই হাত, পা, চোখ, মাথা ইত্যাদি অঙ্গ নামাজের মধ্যে অহেতুক নড়াচড়া না করাও খুশুর অংশ।

খুশু নামাজের প্রাণ। এ ছাড়া নামাজ হবে নিষ্প্রাণ, মূল্যহীন, নিছক লাশ। নামাজের যত সওয়াব, ফজিলত, মর্যাদা ও পুরষ্কার কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে সে সবকিছু খুশুযুক্ত নামাজের জন্যই। খুশুবিহীন নামাজ মহান মালিকের কাছে সওয়াব ও পুরষ্কার যোগ্য হয় না।

জীবনে চূড়ান্ত সফলতা লাভের জন্য মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে গুণ অর্জন করতে বলেছেন তা হলো- নামাজের খুশু। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘অবশ্যই সফল হয়েছে ওই সকল মুমিন, যারা তাদের নামাজে খুশু (মনের স্থিরতা ও ধ্যান মগ্নতা) ধরে রাখে।’ -সূরা মুমিনুন: ১-২

খুশুর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে যেয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর জিকিরের (নামাজ) জন্য এবং যে সত্য তিনি অবতীর্ণ করেছেন তার (কোরআন) জন্য তাদের অন্তরে খুশু আসার (ভক্তি-বিগলিত হওয়ার) সময় কি এখনও আসেনি?’ -সূরা হাদিদ: ১৬

এ আয়াতে মহান আল্লাহ মনের মধ্যে খুশু অর্জনের আদেশ দিয়েছেন। আবার এ আয়াতের শেষাংশে তিনি পূর্ববর্তী পাপীদের মতো কঠিন মনের হতে নিষেধ করেছেন।
এ থেকে বুঝা যায় মানুষের পক্ষে মন কঠিন হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা আর মনের মধ্যে খুশু অর্জন করা সম্ভব। চেষ্টা করলে ও সদিচ্ছা থাকলে এক জন মানুষ এ গুণ অর্জন করতে পারবে।

মনের মধ্যে খুশু অর্জনের কিছু উপায়
১. খুশু লাভের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তার তওফিক ছাড়া কোনো সৎ কর্ম করার সাধ্য বান্দার নেই।

২. নামাজের আগে সকল সুন্নত ও আদব রেয়ায়েত করে অজু করা।

৩. অজু ও নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে দুনিয়াবি কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া।

৪. খুশু লাভের সদিচ্ছায় নামাজের বাহ্যিক সকল সুন্নত ও আদব রক্ষা করা। দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার স্থানে, রুকু অবস্থায় পায়ের মাঝে, সেজদা অবস্থায় নাকে, বসা অবস্থায় কোলে দৃষ্টি রাখা।

৫. নামাজে পাঠ করা প্রতিটি বাক্য ও শব্দকে তার অর্থ ও মর্ম বুঝে বুঝে মনের আবেগ থেকে উচ্চারণ করা। সেই অর্থ ও মর্মের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধিকে একাকার করে ফেলা।

. নামাজে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকা, এটাই আমার জীবনের শেষ নামাজ।

৭. নিয়মিত কিছুক্ষণ নিজেকে মৃত্যু, কবর, হাশর ও জাহান্নামের সম্মুখীন কল্পনা করা।

. নিয়মিত (সম্ভব হলে অর্থ বুঝে) কোরআন তেলাওয়াত করা।

৯. সকল কাজের ও সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন জিকির অর্থ বুঝে আদায় করা।

১০. হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাগণের নামাজ আদায়ের ধরণ পাঠ করা ও পরস্পর আলোচনা করা।

১১. নামাজে এ কথা ভাবা যে, আমি এখন সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছি। তিনি আমার প্রতিটি কথার উত্তর দিচ্ছেন।

মনে রাখতে হবে, নামাজে বাহ্যিক অঙ্গগুলোর অবস্থান ঠিক করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- নামাজে মনের স্থিরতা, মনের নিমগ্নতা ধরে রাখা। নামাজে হাত কোথায় থাকবে, দৃষ্টি কোথায় থাকবে, হাত কখন উঠাতে হবে আর কখন ছেড়ে দিতে হবে এগুলো নিয়ে হাদিস বিশারদ ও ফেকাহবিদদের মাঝে প্রচুর মতপার্থক্য আছে। কিন্তু নামাজ কবুল হওয়ার জন্য যে মন স্থির রাখতে হবে, ধ্যানমগ্নতার সাথে নামাজ পড়তে হবে এতে কিন্তু কোনো হাদিসবিদ, ফেকাহবিদ, তাফসিরবিদ মতপার্থক্য করেননি। সর্বসম্মত বিষয়ের প্রতি অত্যাধিক যত্নবান না হয়ে, বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিবাদ করে আমরা নিজেদের সময় ও সম্পর্ককে নষ্ট করি।

নামাজের কাজগুলোর মধ্যে সবার আগে ও সবার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে খুশুকে।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র