Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নামাজের মাধ্যমে সংসারে কল্যাণ ও বরকত আসে

নামাজের মাধ্যমে সংসারে কল্যাণ ও বরকত আসে
নামাজের মাধ্যমে সংসারে কল্যাণ ও বরকত আসে, ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সংসার-পরিবার আনন্দ উল্লাস ও সুখ-দু:খ ভাগাভাগির স্থান। পরিবার একজন ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থার আচার-আচরণ ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে পরিবারের গুরুত্ব অনেক বেশি।

এজন্য পরিবারের শান্তি, স্বচ্ছলতা, রহমত, বরকত ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হয়। নামাজ এমনই একটি আমল ও ইবাদত যার মাধ্যমে পরিবারে কল্যাণ ও বরকত আসে। যে সব পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত নামাজ আদায় করে, আল্লাহর রহমত ঘিরে রাখে।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ওই সব ঈমানদারগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামাজ খুশু-খুজুর (একাগ্রতা) সঙ্গে আদায় করে।’ -সূরা মুমিনুন: ১-২

যে সব ঘরে নামাজ আদায় করা হয় না, ওই ঘরগুলোকে হাদিসের পরিভাষায় কবরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের ঘরেও নামাজ আদায় কর এবং ঘরকে কবরে পরিণত করো না।’ –সহিহ বোখারি: ৪২০

সাহাবি হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে (ফরজ) নামাজ আদায় করে, তখন তার উচিত নিজের ঘরের জন্য (সুন্নত ও নফল) নামাজের কিছু অংশ নির্দিষ্ট করা। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তার নামাজের কারণে তার ঘরে বরকত দান করবেন।’ –সহিহ মুসলিম: ২৬৫

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ঘরে আল্লাহর আলোচনা হয় আর যে ঘরে হয় না তাদের উপমা যথাক্রমে জীবিত ও মৃত সদৃশ।’ –সহিহ মুসলিম: ২৬৫

সমাজের বহু পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি ও কলহ লেগে আছে। পরিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাও অহরহ ঘটছে। পারিবারিক কলহ কিংবা যৌতুককে কেন্দ্র করে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা এখন নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয়। যার ফলে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হচ্ছে। সমাজের মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে। পিতামাতার বিবাহ বিচ্ছেদের বিরূপ প্রভাব সন্তানের ওপর গিয়ে পড়ছে। যে সব সন্তানের পিতামাতার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে, সে সব সন্তানের বেড়ে উঠা কিংবা সুনাগরিক হয়ে উঠা অনেক দুরূহ ব্যাপার। পারিবারিক কলহ ঝগড়াঝাটি বা মারামরি করা মন্দ কাজ।

কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ -সূরা আনকাবুত: ৪৫

তাই, পরিবারে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে উদাসীনতা পরিহার করা খুবই জরুরি।

বহু পরিবার অভাব অনটন ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব রয়েছে। নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির ওপর আল্লাহর রহমত নিকটবর্তী থাকে। তাই নামাজি ব্যক্তির ব্যবসায়িক মন্দাভাব সহজে দূর হয়ে যায়। আল্লাহতায়ালা নামাজি ব্যক্তিকে সকল প্রকার আজাব-গজবের হাত থেকে রক্ষা করেন।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব (কোরআন) তেলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে, তারা এমন ব্যবসার আশা করতে পারে যা কখনও ধ্বংস হবে না।’ -সূরা ফাতির: ২৯

আল্লাহতায়ালা সবাইকে ফরজ নামাজ ব্যতিত সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরের আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র