Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গুজব রটিয়ে চরিত্রহনন শয়তানের কাজ

গুজব রটিয়ে চরিত্রহনন শয়তানের কাজ
গুজব রটিয়ে চরিত্র হনন শয়তানের কাজ, ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজ আবেদ
অতিথি লেখক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

গুজব ও গুজবের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবগত। স্বাভাবিক কথোপকথন থেকে শুরু করে বক্তব্য, লেখনি ও ছবির ইত্যাদি মাধ্যমে গুজব রটানো হয়। হালসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো পরিণত হয়েছে গুজবের খনিতে, যে খনির শেষ নেই।

স্বার্থের দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত আক্রোশ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও চিন্তা-চেতনার বিরোধকে পুঁজি করে গুজব নানাবিধ ছাড়ানো হয়। ক্ষেত্রবিশেষ অশ্লীল ও নোংরা ছবি বা ভিডিও প্রচার করা হয়। গুজবের মূলভিত্তি মিথ্যা এবং মিথ্যা।

গুজব রটনাকারীদের নোংরা মানসিকতা ধর্ম ও সমাজের কেউ সমর্থন করে না। আইনের দৃষ্টিতেও গুজব অপরাধের কাজ। যাচাই-বাছাই না করে গুজব রটানোর কারণে অনেক নিরপরাধের জীবন ও ক্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে। আবার অনেকে না জেনে অসত্য তথ্য প্রচার করে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সম্মান খুইয়ে, নিজেকে চিহ্নিত করেছেন মিথ্যাবাদী হিসেবে। কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘সব শোনা কথা (যাচাই-বাছাই করা ছাড়া) বলা কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ –সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯২

গুজব রটনাকারী পাপী ও মিথ্যাবাদী। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ বা পাপ অর্জন করে, অতঃপর কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর তা আরোপ করে, তাহলে সে তো মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য গুনাহের বোঝা বহন করল।’ -সূরা নিসা: ১১২

কোনো খবর দেখলেই বা শুনলে তা যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করা অনুচিত। কোরআনে কারিমে কোনো ধরনের ভুল তথ্য অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর-এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ -সূরা বনি ইসরাঈল: ৩৬

কোরআনের কারিমের সূরা আহজাবের ৫৭ ও ৫৮ নম্বর আয়াতে প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিশাপ দেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।’ ‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, আল্লাহর বান্দাদের যে কোনো ধরনের যন্ত্রণা বা কষ্ট দেওয়া হলে তা আল্লাহকে কষ্ট দেওয়ার শামিল। ঠিক যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহর বান্দাদের সাহায্য করা ও তাদের ধার দেওয়াকে আল্লাহর প্রতি ঋণ দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং প্রমাণ ছাড়া শুধু সন্দেহের বশে কারও সম্পর্কে কোনো অপবাদ দেওয়া যাবে না। গুজব ছড়ানো যাবে না। অপবাদ দেওয়া অনেক বড় গুনাহের কাজ। বস্তুত গুজব রটিয়ে ও অপবাদ আরোপ করে ধর্মীয় নেতাদের চরিত্র হনন করা ইসলামের শত্রুদের একটি পুরনো কূটকৌশল। এ ব্যাপারে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে হবে। কারো প্রসঙ্গে মিথ্যা, অপবাদ, গুজব ও কষ্টদায়ক কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কথা বলার সময় সাবধান হতে হবে। যে বক্তব্যের সত্যতা জানা নেই, সে সম্পর্কে কথা বলা যাবে না। প্রচার করা যাবে না।

মানুষ যদি ইসলামের এই শিক্ষা- জীবনের পরতে পরতে পালন করে, তবে সামাজিক অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। সব সময় সংশয়, সন্দেহ ও ভুল ধারণাবশত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা প্রচার করা যাবে না। গুজবে কান দেওয়া চলবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

৬২ হাজার ৭৪৫ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
জেদ্দা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করছেন হজযাত্রীরা, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজপালনে ৬২ হাজার ৭৪৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৬০৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ১৪১ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮৫টিসহ মোট ১৭৩টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টায় মক্কা থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। শেষ ফ্লাইট আগামী ৫ আগস্ট। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব ব্যবস্থাপনামহ ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু করেছে।

অনলাইনে হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ জন হজযাত্রীর।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে সৌদি আরবে ১২ জন ইন্তেকাল করেছেন। তন্মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের ৯ জন মক্কায়, মদিনায় ২ জন ও জেদ্দায় ১ জন ইন্তেকাল করেন।

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম

হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেম
হজযাত্রীদের ধর্মীয় পরামর্শক দলে আরও ৩ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গঠিত ওলামা-মাশায়েখদের দলে যোগ হয়েছেন আরও তিন আলেম। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর আগে ৯ জুলাই ৫৫ জন আলেমের একটি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তালিকায় যোগ হওয়া ওই তিনজন হলেন- হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (মুহাদ্দিস, মাদরাসাতুল আবরার, মাতুয়াইল, ঢাকা), বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দসের ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাসান যোবায়ের (শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা) ও মাওলানা সাজিদুর রহমান (মুহতামিম, দারুল আরকাম মাদরাসা, বি.বাড়িয়া)। তন্মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলী ও মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ওলামা-মাশায়েখদের দলে আগেই ছিলেন। এবার তালিকায় তাদের সঙ্গে সন্তানরাও যোগ হলেন। 

তালিকা দেখতে ক্লিক করুন 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে ওলামা-মাশায়েখদের হজ পালনের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় খরচে হজযাত্রীদের প্যাকেজে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের হজপালনে এবারই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওলামা-মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরবে যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। মনোনীত আলেমদের কোরবানি নিজ খরচে করতে হবে। মক্কা-মদিনায় তাদের ভ্রমনসূচি হজ কাউন্সিলর কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তারা নিজ অর্থায়নে হলেও স্ত্রী-সন্তানসহ গমন করতে পারবেন না।

এদিকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশিদের হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ওই দলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ তিনজন প্রতিমন্ত্রী, তিনজন সংসদ সদস্য, দু্’জন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক (মহাপরিচালক-৩) রয়েছেন।

এই দুই দল ছাড়াও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় সহায়তা করতে সরকার বেশ কয়েকটি টিম গঠন করে সৌদি আরব প্রেরণ করেছে। দলগুলো হলো- হজ চিকিৎসক দল, হজ প্রশাসনিক দল, হজ কারিগরি দল ও হজ চিকিৎসক দলের সহায়ক দল।

আরও পড়ুন:

হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৫ আলেমকে সৌদি পাঠাচ্ছে সরকার

সিইসিসহ হজ প্রতিনিধি দলে ৩ মন্ত্রী, ৩ এমপি

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রী হজপালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র