Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

দেশের পথে একে একে ফিরে যাচ্ছে ‘সঙ্গীহীন লাগেজ’

দেশের পথে একে একে ফিরে যাচ্ছে ‘সঙ্গীহীন লাগেজ’
বিমানবন্দরের পথে মৃত্যুবরণকারী হাজীদের লাগেজ ল্যাগেজ, ছবি: বার্তা২৪
জাহিদুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা মোকাররমা (সৌদি আরব) থেকে: যার হাত ধরে ‘লাগেজ’ এসেছিলো- সৌদি আরবে, সেই ‘লাগেজ’ দেশে ফিরছে ‘সঙ্গীহীন’ হয়ে! ওই লাগেজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মক্কা-মদিনার অসংখ্য স্মৃতি। চিরন্তন সত্য ‘মৃত্যু’ এসব লাগজকে করেছে আবেগমাখা ও স্মৃতিময়। বাংলাদেশ থেকে আসা ১৩৩ জন হাজীর লাগেজ এভাবেই সঙ্গীহীন হয়ে ফিরছে নিজ দেশে।

এখন পর্যন্ত হজপালনে সৌদি আরব এসে ইন্তেকাল করেছেন ১৩৩ জন হজযাত্রী। যাদের মধ্যে ১১২ পুরুষ জন, ২১ জন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে মক্কায় ৮৩, মদিনায় ১৭, জেদ্দায় ৫, মিনায় ১৮ ও আরাফাতের ময়দানে ইন্তেকাল করেছেন ১০ জন। সর্বশেষ পবিত্র মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন গাইবান্ধার মো. ফজলার রহমান (৬৬)। তার পাসপোর্ট নম্বর- BT0042897। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/17/1537191947707.jpg

বিমানবন্দরের পথে মৃত্যুবরণকারী হাজীদের লাগেজ ল্যাগেজ, ছবি: বার্তা২৪

 

হজপালনে এসে মৃত্যুবরণকারী হাজীদের কেউ এসেছিলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। আবার কেউবা এলাকার পরিচিতজনদের সঙ্গে। রীতি অনুযায়ী হজপালনে এসে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন করা হয় সৌদি আরবে। মক্কায় ইন্তেকাল করলে মক্কার শরায়া কবরস্থানে আর মদিনা শরীফ ইন্তেকাল করলে বাকী কবরস্থানে।

বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর (হজ) মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান জানান, মৃত্যু এক অমোঘ সত্য বিষয়। এখানে ইন্তেকাল করা হাজীদের মৃতদেহ দেশে নেওয়ার জন্যে স্বজনদের অনেকেই মিশনে আসেন। তারা আমাদের কাছে বলেন, দেশে তার স্বজনরা শেষ বিদায় জানাতে মরদেহ দেশে নিতে চান। তবে মৃতদেহ এখান থেকে দেশে পাঠানো অত্যন্ত জটিল। তাই চলতি হজ মৌসুমে ইন্তেকাল করা হাজীদের দাফন করা হয়েছে পবিত্র ভূমিতেই। তবে মৃত্যু পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে আমরা ইন্তেকাল করা হাজীদের পাসপোর্ট ও মৃত্যু সনদ পাঠিয়ে দিচ্ছি ঢাকায়। সেখানে মৃতের উত্তরাধিকারদের যথাযথ প্রমাণ দিয়ে তা গ্রহণ করার জন্যে ঢাকার হজ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/17/1537191827085.jpg

মৃত্যুর তিন ঘন্টা আগে অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক, ছবি: বার্তা২৪

 

হজ মিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, তার ব্যাচের এক পুলিশ কর্মকর্তা বাবাকে হজে পাঠিয়েছিলেন। দাফনের পূর্বে ইমোতে যখন তার বাবার ছবিটা পাঠাচ্ছিলাম তখন বুকটা খা খা করছিলো! পানি ধরে রাখতে পারিনি। আরও কষ্টের ছিলো- যখন লাগেজগুলো পাঠাচ্ছিলাম।

সৌদি প্রবাসী সাংবাদিক আল আমীন জানান, হাজীদের কেউ মারা গেলে সঙ্গে থাকা স্বজন বা সহযাত্রীদের অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে যখন শেষ বিদায় জানাতে যান, তখন মনে হয় মৃত্যুটাই সত্য। যেটা আমরা প্রায় সময়ই ভুলে থাকি।

তিনি বলেন, আমরা ভুলে যাই; জীবন-মৃত্যুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করেও আমার মৃত্যুকে ভুলে থাকি।

রাজবাড়ী সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকে নিয়ে হজে এসেছিলেন ৭ আগষ্ট। মদিনা আসেন ৭ সেপ্টেম্বর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ভর্তি করা হয় কিং ফাহাদ হাসপাতালে। সেখানে তার হার্টে ৩টা রিং পড়ানো হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনি মদিনার হজ মিশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশে ফেরার জন্যর নিজের সব প্রস্তুতির কথাও জানান। কিন্তু ওইদিন রাত ১১টার দিকে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। দেশে ফেরার প্রস্তুতির মুহূর্তে স্বামীর এমন মৃত্যুর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/17/1537191892384.jpg

সৌদি আরবের একটি কবরস্থানের দৃশ্য, ছবি: বার্তা২৪

এখন মদিনা থেকে স্বামীকে ছাড়াই রেবেকাকে ফিরে যেতে হবে বাংলাদেশে। দুই সন্তান, আত্নীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজনকে তিনি কি করে বোঝাবেন দীর্ঘদিনের দাম্পত্যসঙ্গীর শূন্যতার কথা!

হজ মিশনের কর্মকর্তারা বলেন, কি করেই তাকে সান্ত্বনা দেবো আমরা! বিশ্বাস করুন, তার অসহায় মুখ দেখলে কষ্টে হৃদয় ভেঙে আসে। তবে এটাই সত্য সবাইকে এভাবেই চলে যেতে হয়।

এতসব কিছুর মাঝে অনেকের কাছে এটাও তৃপ্তির বিষয়। মানুষটা নেই সত্য, কিন্তু লাগেজটা দেশে ফিরে যাচ্ছে পবিত্র ভূমি থেকে সেই মানুষটির স্মৃতি নিয়ে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' অর্থাৎ 'আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত।' সাদা দুই টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বারবার এ ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এবার হজপালন করলেন প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম। আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সফেদ-শুভ্র কাপড় পরে চোখে পানি নিয়ে মোনাজাত করেছেন হাজিরা জীবনের যাবতীয় পাপ মাফের জন্য।

এবার হজপালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। ২০১৮ সালে হজপালন করেছিলেন ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন। গতবারের তুলনায় এবার হজপালনকারীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ জন বেশি। এবারের হজপালনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রী ছিলো- ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ জন, আর সৌদি আরবের হজপালনকারী ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন (সৌদি নাগরিক ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন)। এই বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৪ জন (শতকরা ৫৩ ভাগ), নারী হজযাত্রী ১১ লাখ ৪ হাজার ১৭২ জন (শতকরা ৪৭ ভাগ)। এবার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ দম্পতি হজপালন করেছেন। হজযাত্রীরা আকাশ পথ, সড়ক পথ ও নৌ-পথ ব্যবহার করে হজপালন করতে সৌদি আরব এসেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এশিয়া মহাদেশ শীর্ষে। আর দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া। এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে হজপালন করছেন ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী ৪১-৬০ বছর বয়সী যাত্রীর হার শকতরা ৩৪ ভাগ। আর লিঙ্গ অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ৬৩ ভাগ। বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রী বেশি (শতকরা ৩৩ ভাগ) আর যাত্রী কম সিলেট বিভাগের (শতকরা ২ ভাগ)। হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ চাকরিজীবির বিপরীতে শতকরা ৪০ ভাগ ব্যবসায়ী এবার হজ পালন করেছেন।

হজযাত্রীর সংখ্যা হিসেবে শীর্ষ দশের অন্য দেশগুলো হলো- দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার ২১০), তৃতীয় ভারত (১ লাখ ৭০ হাজার), পঞ্চম মিসর (১ লাখ ৮ হাজার), ষষ্ঠ ইরান (৮৬ হাজার ৫০০), সপ্তম তুরস্ক (৭৯ হাজার), অষ্টম নাইজেরিয়া (৭৯ হাজার), নবম আলজেরিয়া (৩৬ হাজার) ও দশম স্থানে রয়েছে মরক্কো (৩১ হাজার)।

উল্লেখিত দেশসমূহ বাদে অন্য দেশসমূহের হজযাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন।

এবারও হজ উপলক্ষে সৌদি সরকার ৫ রিয়াল মূল্যমানের ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছে। প্রথমবারের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা রেডিওর মাধ্যমের সরাসরি ৬টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ৬টি ভাষা হলো- ইংরেজি, চাইনিজ, উর্দু, ফার্সি, ফ্রান্স ও মালি। সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো ৫০ ভাষার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হজ অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজপালনকারীদের মোবাইলে প্রতিদিন বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনামূলক প্রায় ৩২ লাখ এসএমএস পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র