Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প  

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প   
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম  


  • Font increase
  • Font Decrease

 

ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন কোরীয় উপদ্বীপে দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করতে হবে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে যারা বাড়ি ফিরতে চায়। তাছাড়া এ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় তা বন্ধ করার সময় এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে কিম-ট্রাম্প বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনি এসব কথা জানান। 

এছাড়া এখনেই উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে এখনই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আন্তরিক। তবে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হলেই কেবল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

এ বৈঠকটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেতাদের ধন্যবাদ জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, শান্তি জন্য বড় এক ঘটনা ছিল আজকের দিনটি। দুই কোরিয়ার মানুষ একই সংস্কৃতি, ভাষা, জীবন যাপন ও নিয়তির অংশ। তাদের নিজেদের থেকে দূরে রাখার দিন শেষ হতে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর পর তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। এ সময় উনের সঙ্গে আবারো বৈঠকের ইচ্ছে আছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার সকালে কিমের সঙ্গে ৩৫ মিনিটের একান্ত বৈঠক শেষে দ্বিতীয় পর্বে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে হয়।

এরপরেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা সম্পূর্ণভাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করণে প্রতিজ্ঞা করেছেন। এরই মধ্য কিছু অবকাঠামেো ধ্বংস করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে কাজ করা হবে।

সমঝোতা স্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম বলেছেন, বৈঠক আয়োজন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

কোরীয় উপদ্বীপে পূর্ণাঙ্গ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসঙ্গে কাজ শুরুর অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া।

মঙ্গলবার (১২ জুন) দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর এই সংক্রান্ত একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধিদল।

তিন দিনের এ সফরে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক করবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) আইসিসি থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি প্রোসিকিউটর জেমস স্টুয়ার্ট বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।

এর আগে তারা পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির একটি চুক্তি হতে পারে।

এর আগে গত মার্চ মাসে ঢাকায় এসেছিল আইসিসির প্রতিনিধিদল। সে সময় প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকা পরিদর্শন করে।

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব
ছবি. বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মাবলম্বী মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও বেশি। যা সংখ্যায় ৬০ লক্ষের উপরে। থাইল্যান্ডে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিকে বড় বিষয় হিসেবে ধরা হয়। নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিঘ্ন পালনে দেশটি সহায়ক।

দক্ষিণ থাইল্যান্ড অর্থাৎ মালয়েশিয়া সীমান্তেই বেশিরভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস। মোট মুসলিমদের অর্ধেকই বাস করে—নারাথিওয়াত, ইয়ালা, সাথুন, পাত্তানি এবং সোংখালা প্রদেশের কিছু জেলায়। এছাড়া উত্তর থাইল্যান্ডেও রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293611565.jpg
হাই উৎসবে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ◢

 

গত শুক্রবার (১২ জুলাই) ব্যাংককের স্পোর্টস একাডেমি মাঠে থাই মুসলিমদের নিজস্ব মিলনমেলা ‘হাই উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়। এ মেলায় স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজেদের সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও খাদ্যাভ্যাসের রীতি তুলে ধরে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থাইরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিমদের এই উৎসবে অংশ নেয়।হাই উৎসবে বড় প্যান্ডেলের নিচে মূল মঞ্চে বিকেল থেকেই স্কুল পর্যায়ের হামদ-নাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই পর্যায়ে দর্শক শ্রোতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পর্বে হয়তো মানুষের ভিড় হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294341183.jpg
রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস ◢

 

এখানে যে কোনো নাইট মার্কেট বা উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান। হাই উৎসবেও ব্যতিক্রম নয়৷ ছোট বড় প্রায় ৬০টির মতো খাবারের দোকান রয়েছে মেলায়। দোকানগুলোতে গরুর কাবাব থেকে শুরু করে রয়েছে ছাগলের মাংস বা দুধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294469719.jpg
উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান ◢

 

এখানকার হালাল খাবার খেতে মুসলিমরা তো বটেই, ভিড় করে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠীর খাবার আইটেমগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মালয় খাবারের স্বাদ ও রঙের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293755759.jpg
ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের মিলনস্থল এই উৎসব ◢

 

জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হলেও ইসলামী ব্যাংকিং এখানকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যতম একটি দিক। হাই উৎসবেও রয়েছে ইসলামিক ইন্সুরেন্স, হালাল ফুড ইন্ড্রাস্টিজসহ আরো অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্টল৷ থাইল্যান্ডের মুসলিমরাও অন্য শহরগুলোর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মতো একত্রে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এখানে রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস। ব্যাংককের সবচেয়ে বড় মসজিদটিও রয়েছে এখানেই। এই মেলা শুধু কেনা বেচার জায়গাই নয়, ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থলও এটি।

থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ মুসলিমরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামিও রয়েছে অনেকের মধ্যে। যেমন সরকারি বাধার পরেও বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচেতন হতে ইচ্ছুক নয় এখানকার অনেক মুসলিম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293856809.jpg

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294108139.jpg
বোরকার ফ্যাশনে পরিবর্তন এনেছে থাই মুসলিমরা ◢

 

মেলায় দুটি প্যান্ডেলের নিচে রয়েছে মুসলিমদের পরিধেয় কাপড়ের দোকান। মুসলিমদের মধ্যে শার্ট প্যান্টের পাশাপাশি জোব্বা পরিধানের রেওয়াজ রয়েছে৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মুসলিমদের মতো বড় কুর্তার বদলে ধর্মীয় পোশাক বলতে জোব্বারই আধিক্য। আমাদের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ান ঘরানার পাঞ্জাবি এই উৎসবে খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ রয়েছে মেয়েদের বোরকার দোকান। বোরকার ফ্যাশনে যে কত ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব সেটা থাইল্যান্ডের এই বোরকার দোকানগুলো না দেখলে বোঝা যাবে না। আবার একরঙা সাদা বা কালো বোরকার দামও অনেক। কারণ এগুলোতে বসানো রয়েছে ঝকঝকে পাথর। দাম ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294262086.jpg
মুসলিমদের উৎসবে বক্তব্য রাখছেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ◢

 

আরেকটি স্টলে চলছে একটি কর্মশালা। যেখানে একজন মুসলিম পুরুষ কয়েকজন নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কিভাবে একটি ওড়নাকে ব্যাগ এবং হরেক রকমের পাগড়ি বা স্কার্ফের মতো ব্যবহার করা যায়।

সন্ধ্যা হলে মূল মঞ্চে অতিথিরা আসতে থাকেন। সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও বক্তব্য রাখছিলেন। থাই ভাষায় বললেও তার উপস্থাপনায় একটি ভিডিওতে ছিল ইংরেজি সাবটাইটেল। আর উপস্থাপনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘প্রদান করাই মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র