Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

অর্থনৈতিক মন্দা থেকে চোখ ঘোরাতেই কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল

অর্থনৈতিক মন্দা থেকে চোখ ঘোরাতেই কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল
কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ ধারা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কলকাতা


  • Font increase
  • Font Decrease

ঠিক যেমন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সরকার যে আচরণ করেছিল সেই আচরণ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের সঙ্গে করল। এই মত পোষণ করে কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ দেখান ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক ইমানুল হক।

৩৭০ ও ৩৫ ধারা আইনের পক্ষে এ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কলকাতার মেয়র তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, হকার আন্দোলনের নেতা শক্তিমান ঘোষ, স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, স্বরাজ অভিযানের নেতা কল্যাণ চক্রবর্তী।

উদ্যোক্তা ইমানুল হক বলেন, সোমবার (৫ আগস্ট) কাশ্মীর রাজ্যের অধিকার হরণ করা হলো, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করা হলো। যেটা কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে কোনভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। ১৯৩৫ সালে রাজা হরি সিং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কথা মেনে নিয়ে কাশ্মীরের জনগণ ছাড়া তাদরে জমি আর কেউ কিনতে পারবে না- এরকম একটি আইন বানিয়ে ছিলেন। সেই সময় ওই আইন ভারত সরকারও মেনে নিয়েছিল। সেই আইন আজ বাতিল করা হলো।

শুধু কাশ্মীরে নয় নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, হিমাচল প্রদেশ ও ত্রিপুরায় আছে একইরকম আইন। ঝাড়খন্ডে আছে, সিকিমেও আছে। এই আইন এমনকি পশ্চিমবঙ্গের সাঁওতাল আদিবাসীদের জন্যও আছে। কিন্তু কোথাও এ নিয়ে কোনো কথা বলা হলো না, শুধু করা হলো কাশ্মীরে। এটা সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য।

৩৭০ ধারার অনুরূপ ৩৭১ ও ৩৭২, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম সিকিমসহ ১১টা রাজ্যে আছে। সেই রাজ্যেও বাইরের লোক জমি কিনতে পারে না।

নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশে পারমিট নিয়ে সেখানে ঢুকতে হয়। কাশ্মীরে হয় না। কাশ্মীরের আইন-শৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো ছিল সেটাকে এরা অশান্ত করল। কাশ্মীরের সাংবাদিকদের হত্যা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে। কার্যত ওখানে এখন জরুরি অবস্থা চলছে। এখন শুনছি ওখানে গণহত্যার পরিকল্পনা চলছে।

সেখানে লোকাল থানার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও ৪৩ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের পক্ষে মোটেও ভালো হলো না। কাশ্মীরে প্রচুর ভারতপ্রেমী জনগণ ছিলেন তাদেরও ক্ষেপিয়ে তোলা হলো। যারা চাইতেন ভারতবর্ষের সঙ্গে থাকবে তাদেরও বিপদে ফেলা হলো।

ফলে এটা জঙ্গিবাদকে মদদ দেবে। চীনসহ অন্যান্য বিদেশি শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এর সুযোগ নেওয়া শুরু করবে। সুতরাং আমাদের দাবি কাশ্মীরে ৩৭০ ও ৩৫ নং ধারা ফিরিয়ে দেওয়া।

ভারতবর্ষের যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, উন্নয়ন নেই, কর্মসংস্থান নেই, আসামে এনআরসির নামে বাঙালি খেদাও, এইসব থেকে চোখ ঘোরাতে আজ এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো জানান ইমামুল হক।

আপনার মতামত লিখুন :

মূল্যবান বন্ধুকে হারালাম: মোদি

মূল্যবান বন্ধুকে হারালাম: মোদি
বাঁ থেকে প্রয়াত বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা অরুণ জেটলির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে এক টুইট বার্তায় মোদি লিখেন, ‘অরুণ জেটলির মৃত্যুতে আমি একজন মূল্যবান বন্ধুকে হারালাম, যাকে আমি কয়েক দশক ধরে জানার সম্মান পেয়েছি। বিভিন্ন ইস্যুর বিষয়ে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি এবং বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে বুঝতে তিনি কখনোই কালক্ষেপন করতেন না। তিনি আমাদের জীবনকে অজস্র সুখের স্মৃতি দিয়ে গেছে। আমরা তাকে মিস করব!’

আরও পড়ুন: জরুরি অবস্থার সময় তিহার জেলে বন্দী ছিলেন জেটলি

তিনি আরও লিখেন, ‘বিজেপি এবং অরুণ জেটলি একটি অটুট বন্ধন ছিল। জ্বলন্ত ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি জরুরি অবস্থার সময় আমাদের গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি আমাদের পার্টির অনেক জনপ্রিয় মুখ হয়েছিলেন, যিনি পার্টির কর্মসূচি এবং আদর্শকে সমাজের বিস্তৃত অঞ্চলে প্রকাশ করতে পারতেন। জীবনের পূর্ণতা, বুদ্ধিদীপ্ত আর্শিবাদ, দুর্দান্ত রসিকতা এবং ক্যারিশমাটিক ব্যাক্তিত্ব দিয়ে অরুণ জেটলি সমাজের সমস্ত অংশের মানুষ দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক জ্ঞানের আধার, ভারতীয় সংবিধানের ওপর ছিল অনবদ্য দক্ষতা। ইতিহাস, গণতন্ত্র, পরিচালনা ও প্রশাসন সম্পর্কে এক অসীম জ্ঞানের ভান্ডার ছিলেন।’

আরও পড়ুন: অরুণ জেটলি মারা গেছেন

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এআইআইএমএস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা অরুণ জেটলি।

গত ৯ অগাস্ট থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে এআইআইএমএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন হয় জেটলির। সে সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেটলির অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন পীযূষ গোয়েল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি অরুণ জেটলি।

জরুরি অবস্থার সময় তিহার জেলে বন্দী ছিলেন জেটলি

জরুরি অবস্থার সময় তিহার জেলে বন্দী ছিলেন জেটলি
প্রয়াত বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি, ছবি: সংগৃহীত

সুষমা স্বরাজের মতো স্বনামধন্য রাজনৈতিক নেত্রীর মৃত্যুর কয়েক দিনের মাথায় আরেকজন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতাকে হারাল ভারত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এআইআইএমএস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা অরুণ জেটলি। ১৮ দিনের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র দুই কান্ডারির মৃত্যুতে দলটির অপরিমেয় ক্ষতি হয়ে গেল।

১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালীন ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন জেটলি। সে সময় তিনি যুবমোর্চার আহ্বায়ক ছিলেন। প্রথমে তাঁকে আটক করে আম্বালা জেলে রাখা হয়েছিল পরে দিল্লির তিহার জেলে আটকে রাখা হয়।

রাজনীতিবিদ হওয়ার পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য আইনজীবীও অরুণ জেটলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ভারত সরকারের অর্থ এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন: অরুণ জেটলি মারা গেছেন

মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন অরুণ জেটলি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে না দাঁড়ালেও গুঞ্জন ছিল, ফের মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভোটের ফলাফল বেরুনোর আগেই মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আপাতত কোনো ধরনের দায়িত্ব নিতে অনীহা জানিয়েছিলেন অরুণ জেটলি। এর পেছনে যুক্তি দেখিয়েছেন নিজের শারীরিক অসুস্থতার।

৬৬ বছর বয়সী অরুণ জেটলি গত দুই বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল তার। এ অবস্থায় লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও প্রচারণার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন প্র্যাকটিস করতেন। তিনি দিল্লি হাইকোর্টে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। বাজপেয়ী সরকারেও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন জেটলি। মোদি সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বাড়তি দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ইউপিএ আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অরুণ জেটলি রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র