Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাদামে অ্যালার্জি থাকায় নামিয়ে দেওয়া হলো প্লেন থেকে!

বাদামে অ্যালার্জি থাকায় নামিয়ে দেওয়া হলো প্লেন থেকে!
জন সিলভার ও তার বান্ধবি, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের এয়ারলাইনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছে একজন ব্রিটিশ ভ্রমণপিপাসু। তার বাদামে অ্যালার্জি থাকার জন্য, প্নেনের কেবিন ক্রু তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়।

২৫ বছর বয়সী জন সিলভার তুরস্কের এয়ারলাইন যোগে অ্যানটালিয়া থেকে তার বান্ধবির সাথে গ্যাটউইকে ফিরে আসছিলেন।

জন জানান, তাকে তুরস্কের পুলিশ বিমান থেকে উদ্ধার করে বের করে আনে কারণ কেবিন স্টাফ দাবি করেছিল, ‘তার মতো একজন’ এর প্লেনে চড়া ভ্রমণের নিয়ম বহির্ভূত।

ভ্রমণকারী জন জানান, কাজের জন্যেই তার নিয়মিত বিমানে যাত্রা করার প্রয়োজন হয়। বাদামে তার যে অ্যালার্জি আছে (Nut allergy) সেটা মোটে বায়ুবাহিত নয় এবং এই শুধুমাত্র বাদাম গ্রহণে অ্যালার্জির প্রকোপ দেখা দেয়।

ইভেন্ট ম্যানেজার জানায়, গ্যাটউইক ছাড়ার আগে চেক-ইনে তুরস্কের এয়ারলাইন ম্যানেজারের সাথে কথোপকথনে তার সম্পর্কে সকল তথ্য সম্পর্কে জেনে নিয়েছিল এবং ভ্রমণের জন্য তাকে অনুমতিও দিয়েছিল।

চেন-ইনে সবকিছু ঠিক থাকার পর সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে ৭ জুন ফেরার পথে বাড়তি সতর্কতা স্বরূপ সে কেবিন ক্রুকেও তার অ্যালার্জির বিষয়ে জানায়।

পুরো ভ্রমণের সময়টুকুতে সে কোন খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে চায়নি সতর্ক থাকার জন্য। তথাপি তুরস্কের পুলিশ প্লেনে এসে তাকে নামিয়ে দেয়।

এ ঘটনা সম্পর্কে বিবরণ দেওয়ার সময় জন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল যে আমি হয়তো কোন অন্যায় করেছি। আমি যদি মাতাল হতাম তাহলে বুঝতাম যে আমি কোন অন্যায় করেছি। কিন্তু এটা আমার শারীরিক একটা সমস্যা। তারা কি বলতে চায়? যাদের বাদামে অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা কখনো প্লেন ভ্রমণ করবে না?’

পরবর্তিতে এই ঘটনার পর জন তার বান্ধবির সাথে অন্য একটি এয়ারলাইন যোগে ফিরে আসে।

আপনার মতামত লিখুন :

মার্কিন আদালতে মেক্সিকান মাদক সম্রাটের যাবজ্জীবন

মার্কিন আদালতে মেক্সিকান মাদক সম্রাটের যাবজ্জীবন
মাদক সম্রাট এল ছাপো গুজম্যান, ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকান মাদক সম্রাট এল ছাপো গুজম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। এছাড়া ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং সহ ১০ মামলায় আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদক মামলায় যাবজ্জীবন ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দায়ে তাঁকে আরও ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ১২.৬ বিলিয়ন সমপরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের মেক্সিকোর কারাগারে আটককৃত অবস্থায় একটি টানেল দিয়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে এল ছাপো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মাদক সরবরাহকারী সিনালোয়া কারটেলের প্রধান ছিলেন।

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও তিন শীর্ষ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এ নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরা বিপাকে পড়তে পারেন। দেশটির অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরা ইউরোপ-আমেরিকায় পড়াশোনা করেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়-সহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সাত সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেয় তাহলে সমস্ত সেনাবাহিনীর ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তখন বিদেশে পড়তে যাওয়া সেনা সন্তানদের সবাইকে মিয়ানমারে ফিরে আসতে হতে পারে।

মিয়ানমারে গত ৫০ বছরে সামরিক আমলে সরকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সন্তানদের পড়াতে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে স্বচ্ছল পরিবারগুলো বেছে নিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারতের মত দেশকে।

মিয়ানমারে স্নাতক পড়ুয়াদের জন্য খুব কম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্যবসা ও প্রকৌশলের মতো পছন্দসই বিষয়ে পড়তে বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীরা বিদেশেই যান। বেশিরভাগই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো কাছাকাছি দেশগুলোতে যান। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও অনেকের পছন্দের গন্তব্যস্থল। তবে প্রতিবেশী দেশে শিক্ষার খরচ বাড়ছে। কিন্তু এ দেশগুলোর শিক্ষার মান পশ্চিমা মানের নয়। তাই সামরিক কর্মকর্তারা তাদের সন্তানদের পশ্চিমেই পাঠিয়ে থাকেন।

আর যারা গবেষণা করতে চান তাদের জন্য পছন্দসই গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা উন্নত মার্কেটিং জ্ঞান অর্জনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থী ভিসা পেতে অসুবিধার কারণে অতীতে অল্পকিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতো। এ স্বল্প কয়েজনের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরাই বেশি সুযোগ পেতেন।

তবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভিসা পাওয়া সহজ হয়। মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ‘এডুকেশন ফেয়ার’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

এক হিসাব মতে মিয়ানমারের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা ক্রমাগতই বাড়ছে।

থাইল্যান্ড হলো মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিদেশি গন্তব্য, প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী সেখানে যাচ্ছেন।

এশিয়াতে অন্যান্য গন্তব্য সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার, জাপানে সাড়ে ৩ হাজার, চীনে ৩ হাজার ও মালয়েশিয়ায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়তে গেছেন। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পড়াশোনা করছেন।

পশ্চিমে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬শ’ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৬শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এদের বড় একটি সংখ্যা সামরিক অফিসারদের সন্তান।

মিয়ানমারে প্রায় ৩০টি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় আছে। সবগুলোতে পশ্চিমা পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। এর ফলে শুরুতেই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এই শিক্ষার্থীরা। এর অর্থ তারা সবাই বিদেশে অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র