Alexa

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদো পুনর্নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদো পুনর্নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা প্রাবোয়া সুবিয়ান্তকে হারিয়ে ফের প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হলেন জোকো উইদোদো। গত মাসে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণার নির্ধারিত দিনের একদিন আগেই মঙ্গলবার (২১ মে) এ ফল ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ফল ঘোষণার পর দেশটিতে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবিলায় রাজধানী জাকার্তায় ৩২ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

৬৭ বছর বয়সী একাধারে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা প্রাবোয়া সুবিয়ান্ত এ নির্বাচনের ফল নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাবেন কি-না তা এখনো জানাননি তিনি। যদিও তার দলের পক্ষ থেকে এ নির্বাচন ‘ব্যাপক প্রতারণা’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে প্রাবোয়া সুবিয়ান্তোর নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র আজিজ সুবেকতি এ নির্বাচনকে প্রতারণার নির্বাচন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের নির্বাচন অবিচার, মিথ্যা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি এ ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558407569311.jpg

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি উইদোদোর কাছে হেরে যান প্রাবোয়া সুবিয়ান্তো। তখন নির্বাচনের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের রায়ও আসে উইদোদোর পক্ষে। 

এদিকে গত মাসের নির্বাচনে ধর্মীয় বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে বলে মত দিয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষরা এ নির্বাচন স্বাধীন ও স্বচ্ছ হয়েছে বলে মত দিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে জোকা উইদোদো পান ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। তার  চেয়ে  দশ  শতাংশ  কম ভোট পান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাবোয়া সুবিয়ান্ত। সুবিয়ান্ত পান ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। 

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিলের এর নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন দেশটিতে মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ ভোটার। ৫৭৫ আসনের বিপরীতে ১৬টি রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই লাখ ৪৫ হাজার প্রার্থী অংশ নেন। এবারই প্রথম একসঙ্গে প্রেসিডেন্ট, সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ২০ হাজার প্রতিনিধি বেছে নেন দেশটির জনগণ।

উল্লেখ্য, এ নির্বাচনের প্রচারাভিযানে দুটি পক্ষই দেশে দুর্নীতি রোধ, অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার আশ্বাস দিয়ে প্রচার চালায়। যদিও নির্বাচনে ধর্মীয় বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ায়। ইন্দোনেশিয়ায় কোন ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়নি। তবে দেশটির প্রায় আশি শতাংশ মানুষই মুসলমান।

দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট বাছাই ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য ছয় মাসের প্রচার শেষে ভোট দেন ভোটাররা। দেশটিতে এই প্রথম সব ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :