Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

৩০০ আসন পেতে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি!

৩০০ আসন পেতে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি!
ছবি: সংগৃহীত
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে লোকসভা বা সংসদের নিম্নকক্ষে মোট ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটের কমপক্ষে ২৭২টি আসন প্রয়োজন।

ছয় ধাপের ভোট শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি প্রধান আমিত শাহ বলতে শুরু করেছেন, তারা এবার ৩০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবেন এবং দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবেন।

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ বা লোকসভার নতুন সংসদ গঠনে উদ্দেশ্যে সাত ধাপের এই ভোট উৎসব ১১ এপ্রিল শুরু হয়, চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। ভোট গণনার দিন ২৩ মে।

এই নির্বাচনে বৈধ ভোটার সংখ্যা ৯০ কোটি, যার কারণে এটি বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ নির্বাচন বলা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেছিল।

অমিত শাহ বলেন, ভোটের ছয় ধাপের পর বিজেপি এরই মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে।

নির্বাচনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ধাপে এটা স্পষ্ট হয়েছে, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এবং সপ্তম পর্যায় অর্থ্যৎ শেষ ধাপে ৩০০ আসন অতিক্রম করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদিও এমনই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গে এক জনসভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ৪২ আসনের মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। আর সারা ভারতে আসনের ক্ষেত্রে এটি ইতিমধ্যে ঘটে গেছে।
নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে দেড়শর বেশি জনসভা করছেন। তারমধ্যে ৪০ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা এবং উত্তর প্রদেশে তিনি জনসভা করেছেন।

অর্থাৎ এ তিনটি প্রদেশকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিজেপি মনে করছে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ তিনটি রাজ্যেকে কেন্দ্র করে। পশ্চিমবঙ্গ ৪২, উড়িষ্যা ২১ এবং উত্তর প্রদেশে ৮০ মোট ১২৩টি আসনে গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমবঙ্গে কোনো জোট হয়নি। উত্তর প্রদেশে বিজেপি বড় কোনো দলের সঙ্গে জোট করেনি। উড়িষ্যাতেও একই অবস্থা

এক সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, ‘আপনি (মিডিয়া) যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, আমরা কত আসন জিতব। আমি সারাদেশ ভ্রমণ করেছি এবং জনপ্রিয়তার দিকে তাকিয়ে বলছি, আমি নিশ্চিতভাবেই নিশ্চিত যে বিজেপি পঞ্চম এবং ষষ্ঠ পর্বের নির্বাচনের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। সপ্তম পর্বে ৩০০ আসন ছাড়িয়ে যাবে এবং এনডিএর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার সরকার গঠন করবেন।

ভারতে ২৯টি প্রদেশ। ২০১৪ সালের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেস ৫৪৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৪৪টি পায়।
আর দলটি প্রায় আড়াইশ আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ ভারতের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ নির্বাচনী আসনে কংগ্রেস এখনও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

এখনো সর্বভারতীয় দল বলতে কংগ্রেস এবং বিজেপি। ১০টি রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে কংগ্রেস। এগুলো হল- আসাম, ছত্তিশগড়, গুজরাত, হরিয়ানা, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও পাঞ্জাব। এই ১০ প্রদেশে রয়েছে লোকসভার ২২৪ আসন। এগুলোর মধ্যে গতবার কংগ্রেস মাত্র ২৯টি পায় এবং ১৫৪টিতে দ্বিতীয় হয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আর এবারের প্রেক্ষাপট এক নয়। এমতাবস্থায় বিজেপি কিভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তা লক্ষ্য করার বিষয়। বিজেপি ও তার জোট গত জাতীয় নির্বাচনে ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার বেশ কিছু রাজ্যে ভোট দেওয়ার হার কমে যাওয়া বিজেপিকে চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে যে রাজ্যগুলোতে বিজেপি নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিজেপি ও কংগ্রেসের বাইরে ভারতের প্রায় সব দলই আঞ্চলিক। এর মধ্যে কমিউনিস্টদের সর্বভারতীয় কিছু সাংগঠনিক কাঠামো থাকলেও কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বিহারের বাইরে তাদের নির্বাচনী কোনো শক্তি নেই বললেই চলে। তারাও চাইছে মোদি হারুক। আঞ্চলিক শক্তিধর দলগুলো চাইছে মোদি হারুক। কংগ্রেস তো আছেই। এত চাওয়ার মাঝেও বিরোধীদলগুলোর অনৈক্য মোদির জন্য একটি আশার আলো।

কমিউনিস্টরা অনেক প্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়তে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ ও উরিষ্যাতেও কংগ্রেস একা। এ রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক দল শক্তিশালী। তাদের সঙ্গে কংগ্রেসের মোদি বিরোধীতায় মিল থাকলেও একসঙ্গে পথচলায় খুব একটা বোঝাপড়া নেই। এমতাবস্থায় নির্বাচন শেষে যদি দেখা যায় মোদির বিরুদ্ধে সরকার গঠন সম্ভব, তখন হয়ত তারা রাহুলকে সমর্থন দেবেন। আবার গড়ে বিরোধীদের আসন সংখ্যা সরকার গঠনের কাছাকাছি হলে তখন নানা শর্তের বেড়াজাল সামনে আসবে। তখন হয়ত, মোদি তাদের কারো সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে চমক দিতে পারেন।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দোলাচল বিরাজ করছে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশে। ৬৪টি আসন সমৃদ্ধ এই দুই রাজ্যে কংগ্রেসের ফল ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই দুই প্রদেশে তারা স্থানীয় শক্তিশালী দলগুলোর হাত ধরেছে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং অন্ধ্রে টিডিপি।

তবে নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে, কংগ্রেস যদি গত নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যা ৪৪-এর সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি আসন যুক্ত করতে না পারে, তাহলে তাদের ক্ষমতাসীন হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই। আবার একই সঙ্গে ১০০টি আসন পাওয়া কংগ্রেসের জন্য বেশি কঠিন এটাও জোর দিয়ে বলা যায় না। সবকিছু জানা যাবে ২৩ মে। কিন্তু ততদিন তো চাপানউতোর চলবেই।

আপনার মতামত লিখুন :

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে
মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে ভিন্ন ভিন্ন বিদ্রোহী জোট একজোট হয়ে হামলা চালানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সঙ্গে লড়াই বিস্তার লাভ করেছে। আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এক জোট হয়ে এ হামলা চালায়।

তবে জোটের চতুর্থ সদস্য, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি কোনও আক্রমণে অংশ নিয়েছে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ সশস্ত্র জোটটি ১৫ আগস্ট আর্মি একাডেমিসহ ছয়টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। এর ফলে ১৫ জন নিহত হয়। এর পরেই চার দিন ধরে লাগাতার সেনা ও বিদ্রোহী জোটের আরো সংঘর্ষের খবর মিয়ানমার মিডিয়া জানিয়েছে।

শান স্টেটের ন্যাংচো জনপদের নিকটে পাইয়ন ওও লুইন অঞ্চলে ডিফেন্স সার্ভিসেস টেকনোলজিকাল একাডেমিসহ বিদ্রোহী জোটটি ছয়টি ভিন্ন এলাকায় হামলা পরিচালনা করার পর এ সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এ সংঘর্ষে একজন অ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন যে তারা নাম হাটপাট কার ও কুতকাইয়ের মাঝামাঝি নান্ট কুট গ্রামের কাছে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছে।

গত চারদিন ধরে শানের লাসিও, কুতকাই, কিউকমে, থেইনি এবং মিউজি শহরতলীতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) মিয়ানমারের কমান্ডার-ইন-চিফের অফিসের থেকে বিবৃতিতে, জানানো হয়েছে ইউ টুন মিন্ট নামে একজন ৫৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক অ্যাম্বুলেন্স চালক, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। লশিওয়ের কাছে এ সংঘর্ষের পর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিদ্রোহীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং একটি রকেট চালিত গ্রেনেড দিয়ে তার গাড়িতে গুলি চালায়। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন।

সামরিক বাহিনীর জানায়, বিদ্রোহী জোটটি হালকা এবং ভারী উভয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ জোটের আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বাহিনী দাবি করছে, যে শান ও রাখাইন রাজ্যে জুলাই ও আগস্টে ২১০ কোটি মিয়ানমার মুদ্রার সমমূল্যের মাদক জব্দ করার কারণে আরাকান আর্মি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়  এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বদেশি নাগরিকদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় শান স্টেটে সশস্ত্র বিদ্রোহী জোটের হামলার পরে বিদেশিদের জন্য পাইয়ন ওও লুইন, ন্যাংচো এবং থিবাবের ভ্রমণ বাতিল করতে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ভারতে ভারী বৃষ্টিতে নিহত ৩০

ভারতে ভারী বৃষ্টিতে নিহত ৩০
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও পাঞ্জাব রাজ্যে ভারী বৃষ্টিতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রোববার (১৮ আগস্ট) সারদিন ভারী বৃষ্টিপাতের পর যমুনাসহ অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হওয়ায় দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজ্যটির শিমলা, সোলান, কুল্লু ও বিলাসপুর জেলার সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধসের ঘটনায় কালকা ও শিমলার মধ্যে ট্রেন ও বাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এদিকে হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু ও ৯ জন আহত হয়েছেন। মৃত দুজন নেপালি নাগরিক বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।  

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) প্রবল বৃষ্টিতে হিমাচল প্রদেশে বিদেশি পর্যটকসহ  ২৫ জন   আটকে পড়েন। দুই দিন খাবার ও আশ্রয়বিহীন অবস্থায় আটকে থাকার পর রোববার তাদের উদ্ধার করা হয়। 

রাজ্যে সরকারের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরকাশী জেলার মোরি ব্লকে হড়কা বানে কয়েকটি গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি ভেসে যায়। দেরাদুন জেলায় গাড়ি নদীতে পড়ে এক নারী ভেসে গেছে ও পাঞ্জাবে বাড়ির ছাদ ধসে ৩ জন নিহত হন।

ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানায়বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে  কর্তৃপক্ষ এখানে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র