Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

সুখি ভুটানে শনিবারের ডাক্তার প্রধানমন্ত্রী

সুখি ভুটানে শনিবারের ডাক্তার প্রধানমন্ত্রী
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, পুরনো ছবি
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শনিবারের ভুটান। জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ন্যাশনাল রেফারেল হসপিটালে লোটে শেরিং মাত্র একটি ইউরিনারি ব্লাডার রিপেয়ার সার্জারি শেষ করে বের হয়েছেন। তবে শেরিং শুধু চিকিৎসকই নন, হিমালয়ের দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। যে দেশটি গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেসের জন্য বিখ্যাত।

সাড়ে ৭ লাখ মানুষের দেশ ভুটানে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেরিং। তিনি বলেন, 'এটা আমার দ্বিতীয় কর্তব্য।’

৫০ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অনেকে গলফ খেলেন, অনেকে তীর-ধনুকের চর্চা করেন আর আমি এই রোগী দেখতে পছন্দ করি। আমি আমার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি এখানে কাটাই।'

হাসপাতালে কেউই শেরিংয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করছেন না। একটি বিবর্ন অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের করিডরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শেরিং। হাসপাতালের নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও নিজেদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557403908154.jpg

এই বৌদ্ধ প্রধান দেশটি বিভিন্ন কারণেই নিজেকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চেয়ে সুখের সমৃদ্ধির প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে বেশি।

এই সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধির অন্যতম একটি উপাদান হিসেবে বলা হয়েছে, পরিবেশ রক্ষাকে। ভুটানে কার্বন শূন্য দেশ এবং সাংবিধানিকভাবে দেশের মোট আয়তনের ৬০ শতাংশের বেশি বন রয়েছে। এটি ইকো-ট্যুরিজমকে উৎসাহ দেয় এবং মৌসুমে একজন পর্যটককে আড়াইশ ডলার বা প্রায় ২১ হাজার টাকা দিয়ে এই দেশে প্রবেশ করতে হয়।

রাজধানী থিম্পুতে নেই কোনো ট্রাফিক লাইট। এখানে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ এবং মাত্র ১৯৯৯ সাল থেকে টেলিভিশন দেখার অনুমতি দেয়া হয়।

তবে থান্ডার ড্রাগনের এই দেশেরও নিজ সমস্যা রয়েছে অনেক। দুর্নীতি, প্রান্তিক দারিদ্রতা, বেকার সমস্যা এবং অপরাধীদের গ্যাংসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত দেশটি।

শেরিং বাংলাদেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকায় চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৩ সালে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন শেরিং। তবে সেই সময় নির্বাচনে পরাজয় লাভ করে তার দল।

নির্বাচনে হারের পর রাজা জিগমে খেসার নামজিল ওয়াংচুকের আদেশে শেরিংয়ের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল ভুটানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন।

এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কাছে রেফার করা রোগীদের দেখেন শেরিং এবং বৃহস্পতিবার সকালে ইন্টার্ন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। রোববারের সময়টুকু দেন পরিবারকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তার চেয়ারের পেছনে একটি অ্যাপ্রোন ঝুলানো রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/09/1557403939100.jpg

তিনি বলেন, এই অ্যাপ্রোনটি আমাকে সকলের জন্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ভুটানে রোগীদের চিকিৎসার জন্যে সরাসরি কোনো টাকা দিতে হয় না। তবে স্বাস্থ্য সেবার জন্যে আমাদের আরও অনেক কিছু করার রয়েছে।

ভুটান যখন জীবন যাপনে উন্নতি সাধন করেছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে এবং সংক্রামিত রোগ নিয়ন্ত্রণে  এসেছে, একই সঙ্গে মদ্য পান এবং ডায়াবেটিস এবং অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শেরিং বলেন, আমাদেরকে এখন আরও উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দিতে হবে। শনিবার বাদে অন্য দিনগুলোতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।  হাসপাতালে শেরিংয়ের ৪০ বছর বয়সী রোগী বুমথাপ বলেন, আমি যখন দেশের সেরা চিকিৎসক এবং প্রধানমন্ত্রীর অধীনে চিকিৎসায় রয়েছি, তখন অনেক বেশি আস্বস্ত বোধ করি।

প্রধানমন্ত্রী শেরিং বলেন, রাজনীতিটা হচ্ছে একজন ডাক্তার হয়ে ওঠার মতো। হাসপাতালে আমি রোগীদের শরীর স্ক্যান করি এবং সেবা দেই। আবার রাজনীতির স্বাস্থ্য ঠিক করতেও আমাকে কাজ করতে হয়। আমি আমৃত্যু এই কাজটি করে যেতে চাই।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে নিজের অফিসিয়াল চালক ছাড়া নিজেই গাড়ি নিয়ে থিম্পুতে ঘুড়ে বেড়ান তিনি। বলেন, ছুটির দিনগুলোতে হাসপাতালে আসার চেষ্টা থাকে সবসময়ই।

আপনার মতামত লিখুন :

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গ্রেফতার

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গ্রেফতার
পি চিদাম্বরম

ভারতের সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমকে আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় গ্রেফতার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সিবিআই।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে নয়াদিল্লিতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চিদাম্বরমের বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে সিবিআই কর্মকর্তারা তাকে গ্রেফতার করেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট চিদাম্বরমের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ভারতের সাবেক এই অর্থমন্ত্রী। কিন্তু মামলাটি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানোয় গ্রেফতারি এড়াতে পারেননি তিনি।

পি চিদাম্বরম ২০০৭ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ‘ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ড’ (এফআইপিবি)-এর কাছে বিদেশি লগ্নির আবেদন করেছিল আইএনএক্স মিডিয়া। লগ্নির অর্থ সহযোগী সংস্থাগুলোতেও বিনিয়োগের অনুমতি চেয়েছিল তারা।

তবে লগ্নি অনুমোদন করলেও সেই অর্থ সহযোগী সংস্থায় বিনিয়োগে সায় দেয়নি এফআইপিবি। ওই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করায় আইএনএক্স মিডিয়ার বিপক্ষে দাঁড়ায় ভারতীয় আয়কর দফতর।

এরপর আইএনএক্স মিডিয়ার যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা পিটার ইন্দ্রাণী ও অনান্যরা চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি চিদাম্বরমের কোম্পানির দ্বারস্থ হন। সেই সময় অর্থের বিনিময়ে আইএনএক্স মিডিয়াকে ছাড়পত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন কার্তি। পি চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছেলের সংস্থার হয়ে আইএনএক্সকে অন্যায় সুবিধা দিয়েছিলেন।

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পেরে এখন বিপাকে মিয়ানমার। এই দুই দেশ ছাড়াও আরও প্রায় ২০টি দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে দেশটি।

যৌথ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করেছে।

কমিটি বলেছে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচ; পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিল্প এসব খাতে ১০.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে এ বছর ঋণ নেওয়ার হার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ যা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্য অর্থ।

২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চীন থেকে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে যা দেশটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিল্প, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচখাতে ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার জাপানের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। অন্যান্য ঋণদাতাদের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থার যোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার। এ সুদের হার ২.৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ। উচ্চতর সুদের হার ও মিয়ানমারে নিম্নমূল্যের মুদ্রা দেশের উপর একটি ভারী বোঝা সৃষ্টি করেছে। এই জাতীয় ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে কমিটি সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে উচ্চতর সুদের হার, দুর্বল কায়াত এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে সরকারী অর্থায়নে ক্ষতি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিল্প মন্ত্রকের অধীনে বেশ কিছু ব্যর্থ প্রকল্প রয়েছে যারা ঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সেচের জন্য বিতরণের পরে কর্পোরেট প্রশাসনকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি না করার ফলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র