Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

লোকসভা নির্বাচনে ‘চিনি’ ফ্যাক্টর

লোকসভা নির্বাচনে ‘চিনি’ ফ্যাক্টর
হাতির পিঠে করে ফসল পরিবহন করছেন দুই কৃষক/ছবি: সংগৃহীত
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শুনতে অবাক লাগলেও এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘চিনি’। তাই তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন উত্তর ভারতে নির্বাচনী প্রচারণায় যান, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে, তখন তিনি চিনিকে অন্যতম প্রধান খাদ্য হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ভারতের অনেক অঞ্চলেই আখ চাষিরা সুগার মিলগুলোর কাছ থেকে পাওনা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন।

আর এ রাজ্যগুলো শাসন করে মোদির দল বিজেপি। যখন আখ চাষিরা বিক্ষোভ করে রেলপথ, সড়কপথ অবরোধ করেন, তখন মোদিকে বলতে হয়, 'আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনাদের পাই পাই করে পরিশোধ করা হবে'।

এ অবস্থায় ভারতের নির্বাচনে চিনি রাজনীতি বিশাল ভূমিকা রাখছে। এটা অনেকটা ভোট ব্যাংকের মত কাজ করে। উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র মিলে ভারতের মোট ৬০ শতাংশ চিনি উৎপাদন করে। আর লোকসভায় এ রাজ্য দু’টির মোট সংসদীয় আসন ১২৮।

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৫০টি আসনের ভোট চিনি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই মহারাষ্ট্রের চিনি কমিশনার শেখর গায়কয়েড বলেন, ‘চিনি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফসল'।

ভারতের চিনি কলগুলো ৫০ লাখ আখ চাষির ১০০ কোটি ডলারের সমমূল্য বকেয়া রুপি পরিশোধ করতে পারছে না। অনেক সময় এ দেনা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকে। এদিকে, চিনিকলগুলোতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে এক কোটি ২০ লাখ টন অবিক্রিত আখ।

অন্যদিকে, ভারতের চেয়ে বিশ্ব বাজারে চিনির দাম কম। ভারতে রাজনীতির কারণে থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের চেয়ে আখ চাষিদের বেশি অর্থ দিতে হয়। আর এ অর্থ দিতে হয় জনগণের করের টাকায়। তাই ক্ষতি হলেও রাতারাতি চিনি উৎপাদন বন্ধ করাও যায় না।

চিনি ভারতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা। ভারতে প্রায় ৫২৫টি চিনি কলে মৌসুমের সময় তিন কোটি টন চিনি উৎপাদন হয়। ব্রাজিলের পর ভারতই সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদন করে।

বড় বড় মিলগুলো একত্রিত হয়েও অনেক অঞ্চলে চিনি উৎপাদন করে। শুধু ৫০ লাখ চাষি নয়, এ খাতে কোটি মানুষ মিল ফ্যাক্টরি ও চিনি পণ্য বহনের সঙ্গে যুক্ত। ভারতে চিনির ভোক্তা রয়েছে প্রচুর। বিশেষ করে মিষ্টান্ন তৈরিতে অনেক চিনি প্রয়োজন হয়। কোমল পানীয় তৈরিতেও প্রচুর চিনি প্রয়োজন হয়। যদিও তা স্থুলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

হংকং ইস্যু: ইউটিউবের ২১০ চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা

হংকং ইস্যু: ইউটিউবের ২১০ চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে হংকংয়ে গত ৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। সর্বস্তরের মানুষ এ বিক্ষোভে সমবেত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় দেশটির বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ভুল তথ্য অপপ্রচারের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ইউটিউব ২১০টি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ফেসবুক ও টুইটারের পরই ইউটিউব ২১০টি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে চ্যানেলগুলো 'ভুয়া তথ্য' ও ভিডিও প্রকাশের দায়ে হংকংয়ের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অন্যদিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছিল।

আরও পড়ুন: হংকংয়ে পার্লামেন্ট ভবন ভাঙচুর

গুগলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেন হান্টলি একটি ব্লগ পোস্টে বলেন, ফেসবুক ও টুইটারের পর ইউটিউবের যেসব চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এদিকে গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) হংকং বিক্ষোভ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর দায়ে ৯৩৬টি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ফেসবুকের ৭টি পেজ, ৩টি গ্রুপ ও ৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হংকং বিমানবন্দরের ফ্লাইট বাতিল

এ নিয়ে টুইটার কর্তৃপক্ষ জানায়, চীনের বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে যা আন্দোলনকে অন্যদিকে ত্বরান্বিত করছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে দেওয়া এক বরাতে বলেন, বন্ধ করে দেওয়া গ্রুপ ও পেজ গুলো ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে আসছিল।

দু'মাসের বেশিদিন ধরে চলা হংকংয়ের এ বিক্ষোভ ক্রমশই বড় আকার ধারণ করছে। বর্তমানে এ বিক্ষোভ হংকং সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে রূপ নিয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) হংকংয়ে বিক্ষোভকারীরা এক সমাবেশে র‍্যালির আয়োজন করে। সেখানে বিক্ষোভকারী সংগঠন দাবি করেন রোববারের এ সমাবেশে ১৭ লাখের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। তবে হংকং সরকারের হিসেব অনুযায়ী এক লাখ ২৮ হাজারের মতো মানুষ এ বিক্ষোভে সমবেত হয়।

আরও পড়ুন: হংকংয়ে বিক্ষোভ: ক্যারি ল্যামের পদত্যাগ দাবি

গণবিক্ষোভের মুখে হংকংয়ে সরকারি দফতর বন্ধ ঘোষণা

চীনের প্রত্যর্পণ বিলের প্রতিবাদে নতুন ‘আমব্রেলা মুভমেন্ট’

 

ভারত-পাকিস্তান রাজি হলে কাশ্মীর ইস্যুতে আগ্রহী ট্রাম্প

ভারত-পাকিস্তান রাজি হলে কাশ্মীর ইস্যুতে আগ্রহী ট্রাম্প
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

২৪ থেকে ২৬ আগস্ট ফ্রান্সের বিয়ারিৎসে অনুষ্ঠিত ৪৫ তম জি সেভেন সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখোমুখি হবেন। জানা গেছে, সেখানে ট্রাম্প কাশ্মীর নিয়ে যে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনে মোদির পরিকল্পনা জানতে চাইবেন।

ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের ওই বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে জানতে চাইবেন আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস ও কাশ্মীরে মানবাধিকার রক্ষা করতে ভারতের পরিকল্পনা। আমরা দুই দেশের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বন্ধ করে শান্ত ও সংযমী থাকার আহ্বান জানিয়েছি। এছাড়া দুই দেশ একমত হলে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানকে "সহায়তা করতে প্রস্তুত" ট্রাম্প। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই ভাগ করে ভারত। ওই দিন থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় কাশ্মীর উপত্যকা। এরপর কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কাশ্মীর নিয়ে সতর্ক হয়ে কথা বলারও আহ্বান জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র