Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কালের সাক্ষী ফরাসিদের ভালোবাসার ‘নটর-ডেম’

কালের সাক্ষী ফরাসিদের ভালোবাসার ‘নটর-ডেম’
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চোখের সামনে আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে নটর-ডেম গির্জাকে। হাজারো মানুষ দেখছেন, কাঁদছে, বিলাপ করছে। চেষ্টা করা হচ্ছে শত বছরের পুরনো এই গির্জাকে যতটুকু সম্ভব আগুনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আগুন যেন ততোধিক তেজে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো গির্জা জুড়ে। ক্রমে আগুনের ভয়াবহতার কাছে হার মেনে ধসে পড়ে গির্জার ছাদ। ভস্ম হয়ে যায় গির্জার আদল।

এভাবেই ভয়ানক অগ্নিকান্ডে সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ফ্রান্স হারালো তার ৮৫০ বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যমন্ডিত নটর-ডেম গির্জা।

বলা হচ্ছে, ফরাসিদের কাছে এর চাইতে হৃদয় বিদারক ঘটনা আর হতেই পারে না। নটর-ডেম গির্জার পাশাপাশি আরো যে ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রয়েছে প্যারিসে, সেটা হলো আইফেল টাওয়ার। তবে ৮৫০ বছরের হাজারো ইতিহাস, ঐতিহ্য, সময়-কাল ও ঘটনার সাক্ষীর কাছে প্রায় শত বছরের আইফেল টাওয়ার নিতান্তই শিশু। সত্যি বলতে, এ দুটোর মাঝে তুলনা চলে না একেবারেই।

শতবর্ষের ‘সাহিত্যের মাস্টারপিস’ বলা হয়ে থাকে ধসে পড়া এই নটর-ডেম গির্জাকে। কালজয়ী লেখক ভিক্টর হুগ লিখেছেন উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অফ নটর-ডেম’ যা ফরাসি ভাষায় ‘নটর ডেম দে প্যারিস’।

এই অগ্নিকাণ্ডের আগে নটর-ডেম শেষ এমন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়। সে সময়ে গির্জার মূর্তি বিক্ষোভকারীদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছিল।

এছাড়া গির্জার বিল্ডিংটি ১৮৭১ সালের বিদ্রোহ এবং দুইটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী বহন করে চলছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশটির নাগরিকের কাছে এটা বড় ধরনের একটি বিপর্যয়। এমন ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাই খুবই স্পর্শকাতর।

অন্যতম চমৎকার এই গির্জাটিতে খুব বেশি মানুষের ভিড় না থাকলেও, স্থানীয় ও বাইরের দেশের দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকতো পুরো বছর জুড়েই।

শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত নটর-ডেম প্রার্থনার স্থানের চাইতেও, সবার গর্বের ও ভালোবাসার একটি স্থাপনা ছিল। তাইতো দেশটির রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মারকন অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটিকে পুরো রাষ্ট্রের জন্য শোকের বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধিদল।

তিন দিনের এ সফরে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক করবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) আইসিসি থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি প্রোসিকিউটর জেমস স্টুয়ার্ট বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।

এর আগে তারা পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির একটি চুক্তি হতে পারে।

এর আগে গত মার্চ মাসে ঢাকায় এসেছিল আইসিসির প্রতিনিধিদল। সে সময় প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকা পরিদর্শন করে।

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব
ছবি. বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মাবলম্বী মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও বেশি। যা সংখ্যায় ৬০ লক্ষের উপরে। থাইল্যান্ডে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিকে বড় বিষয় হিসেবে ধরা হয়। নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিঘ্ন পালনে দেশটি সহায়ক।

দক্ষিণ থাইল্যান্ড অর্থাৎ মালয়েশিয়া সীমান্তেই বেশিরভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস। মোট মুসলিমদের অর্ধেকই বাস করে—নারাথিওয়াত, ইয়ালা, সাথুন, পাত্তানি এবং সোংখালা প্রদেশের কিছু জেলায়। এছাড়া উত্তর থাইল্যান্ডেও রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293611565.jpg
হাই উৎসবে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ◢

 

গত শুক্রবার (১২ জুলাই) ব্যাংককের স্পোর্টস একাডেমি মাঠে থাই মুসলিমদের নিজস্ব মিলনমেলা ‘হাই উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়। এ মেলায় স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজেদের সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও খাদ্যাভ্যাসের রীতি তুলে ধরে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থাইরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিমদের এই উৎসবে অংশ নেয়।হাই উৎসবে বড় প্যান্ডেলের নিচে মূল মঞ্চে বিকেল থেকেই স্কুল পর্যায়ের হামদ-নাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই পর্যায়ে দর্শক শ্রোতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পর্বে হয়তো মানুষের ভিড় হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294341183.jpg
রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস ◢

 

এখানে যে কোনো নাইট মার্কেট বা উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান। হাই উৎসবেও ব্যতিক্রম নয়৷ ছোট বড় প্রায় ৬০টির মতো খাবারের দোকান রয়েছে মেলায়। দোকানগুলোতে গরুর কাবাব থেকে শুরু করে রয়েছে ছাগলের মাংস বা দুধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294469719.jpg
উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান ◢

 

এখানকার হালাল খাবার খেতে মুসলিমরা তো বটেই, ভিড় করে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠীর খাবার আইটেমগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মালয় খাবারের স্বাদ ও রঙের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293755759.jpg
ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের মিলনস্থল এই উৎসব ◢

 

জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হলেও ইসলামী ব্যাংকিং এখানকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যতম একটি দিক। হাই উৎসবেও রয়েছে ইসলামিক ইন্সুরেন্স, হালাল ফুড ইন্ড্রাস্টিজসহ আরো অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্টল৷ থাইল্যান্ডের মুসলিমরাও অন্য শহরগুলোর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মতো একত্রে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এখানে রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস। ব্যাংককের সবচেয়ে বড় মসজিদটিও রয়েছে এখানেই। এই মেলা শুধু কেনা বেচার জায়গাই নয়, ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থলও এটি।

থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ মুসলিমরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামিও রয়েছে অনেকের মধ্যে। যেমন সরকারি বাধার পরেও বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচেতন হতে ইচ্ছুক নয় এখানকার অনেক মুসলিম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293856809.jpg

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294108139.jpg
বোরকার ফ্যাশনে পরিবর্তন এনেছে থাই মুসলিমরা ◢

 

মেলায় দুটি প্যান্ডেলের নিচে রয়েছে মুসলিমদের পরিধেয় কাপড়ের দোকান। মুসলিমদের মধ্যে শার্ট প্যান্টের পাশাপাশি জোব্বা পরিধানের রেওয়াজ রয়েছে৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মুসলিমদের মতো বড় কুর্তার বদলে ধর্মীয় পোশাক বলতে জোব্বারই আধিক্য। আমাদের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ান ঘরানার পাঞ্জাবি এই উৎসবে খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ রয়েছে মেয়েদের বোরকার দোকান। বোরকার ফ্যাশনে যে কত ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব সেটা থাইল্যান্ডের এই বোরকার দোকানগুলো না দেখলে বোঝা যাবে না। আবার একরঙা সাদা বা কালো বোরকার দামও অনেক। কারণ এগুলোতে বসানো রয়েছে ঝকঝকে পাথর। দাম ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294262086.jpg
মুসলিমদের উৎসবে বক্তব্য রাখছেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ◢

 

আরেকটি স্টলে চলছে একটি কর্মশালা। যেখানে একজন মুসলিম পুরুষ কয়েকজন নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কিভাবে একটি ওড়নাকে ব্যাগ এবং হরেক রকমের পাগড়ি বা স্কার্ফের মতো ব্যবহার করা যায়।

সন্ধ্যা হলে মূল মঞ্চে অতিথিরা আসতে থাকেন। সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও বক্তব্য রাখছিলেন। থাই ভাষায় বললেও তার উপস্থাপনায় একটি ভিডিওতে ছিল ইংরেজি সাবটাইটেল। আর উপস্থাপনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘প্রদান করাই মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র