Alexa

কালের সাক্ষী ফরাসিদের ভালোবাসার ‘নটর-ডেম’

কালের সাক্ষী ফরাসিদের ভালোবাসার ‘নটর-ডেম’

ছবি: সংগৃহীত

চোখের সামনে আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে নটর-ডেম গির্জাকে। হাজারো মানুষ দেখছেন, কাঁদছে, বিলাপ করছে। চেষ্টা করা হচ্ছে শত বছরের পুরনো এই গির্জাকে যতটুকু সম্ভব আগুনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আগুন যেন ততোধিক তেজে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো গির্জা জুড়ে। ক্রমে আগুনের ভয়াবহতার কাছে হার মেনে ধসে পড়ে গির্জার ছাদ। ভস্ম হয়ে যায় গির্জার আদল।

এভাবেই ভয়ানক অগ্নিকান্ডে সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ফ্রান্স হারালো তার ৮৫০ বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যমন্ডিত নটর-ডেম গির্জা।

বলা হচ্ছে, ফরাসিদের কাছে এর চাইতে হৃদয় বিদারক ঘটনা আর হতেই পারে না। নটর-ডেম গির্জার পাশাপাশি আরো যে ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রয়েছে প্যারিসে, সেটা হলো আইফেল টাওয়ার। তবে ৮৫০ বছরের হাজারো ইতিহাস, ঐতিহ্য, সময়-কাল ও ঘটনার সাক্ষীর কাছে প্রায় শত বছরের আইফেল টাওয়ার নিতান্তই শিশু। সত্যি বলতে, এ দুটোর মাঝে তুলনা চলে না একেবারেই।

শতবর্ষের ‘সাহিত্যের মাস্টারপিস’ বলা হয়ে থাকে ধসে পড়া এই নটর-ডেম গির্জাকে। কালজয়ী লেখক ভিক্টর হুগ লিখেছেন উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অফ নটর-ডেম’ যা ফরাসি ভাষায় ‘নটর ডেম দে প্যারিস’।

এই অগ্নিকাণ্ডের আগে নটর-ডেম শেষ এমন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়। সে সময়ে গির্জার মূর্তি বিক্ষোভকারীদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছিল।

এছাড়া গির্জার বিল্ডিংটি ১৮৭১ সালের বিদ্রোহ এবং দুইটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী বহন করে চলছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশটির নাগরিকের কাছে এটা বড় ধরনের একটি বিপর্যয়। এমন ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাই খুবই স্পর্শকাতর।

অন্যতম চমৎকার এই গির্জাটিতে খুব বেশি মানুষের ভিড় না থাকলেও, স্থানীয় ও বাইরের দেশের দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকতো পুরো বছর জুড়েই।

শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত নটর-ডেম প্রার্থনার স্থানের চাইতেও, সবার গর্বের ও ভালোবাসার একটি স্থাপনা ছিল। তাইতো দেশটির রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মারকন অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটিকে পুরো রাষ্ট্রের জন্য শোকের বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :