Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

নিয়ামকের ভূমিকায় গুজরাটের উপজাতিদের ভোট

নিয়ামকের ভূমিকায় গুজরাটের উপজাতিদের ভোট
আহমেদাবাদের কয়েকজন উপজাতি লোক/ছবি: বার্তা২৪.কম
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আহমেদাবাদ, গুজরাট থেকে: গুজরাটের ২৬ লোকসভা আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে উপজাতিদের ভোট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গুজরাটের রাজনীতিতে উপজাতিরা যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে। রাজ্যে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশই উপজাতি।

এর মধ্যে ছোট উদয়পুর, দহোদ, বর্ধোলি ও ভালসাদ এ চারটি লোকসভা আসনের ভোটের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে উপজাতিরাই।

এসব আসন ছাড়াও ভেরুচ, সাবর্কাঁত, বানসংশাথা এবং পঞ্চমহল লোকসভা আসনেও উপজাতি ভোটারদের কার্যকরী ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশের মত মোদি ঝড়ে এ উপজাতি সংখ্যাধিক্য কেন্দ্রগুলো চলতি স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। বিজেপি ২৬টি আসনই জেতে।

কিন্তু গত পাঁচ বছরে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। এর আগে ২০০৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি সিটে ভালো করেছিল। অন্যদিকে ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আদিবাসী অঞ্চলে ফিরে আসে। ২৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১৫টি কংগ্রেস এবং বিজেপি নয়টি জেতে। ভারতীয় উপজাতীয় দল (বিটিপি) দু’টি জিতেছে এবং মোর্ভা হাদফের আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় ১৮ মাস পর, ক্ষমতাসীন বিজেপি উপজাতি প্রধন এলাকায় আবারও পরীক্ষায় পড়তে পারে। দলটি তিনটি উপজাতি অঞ্চলের পুরনো সংসদ সদস্যকে টিকিট দিয়েছে। দহোদে জাসওয়ান সিং, ভালসাদে কে সি প্যাটেল এবং বর্ধোলিতে প্রভূ বসু বিজেপির প্রার্থী।

ক্ষমতাসীন এমপি রামসিংহ রাথওয়াকে ছোট উদয়পুর আসন থেকে বাদ দিয়ে গীতা রাথওয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে।

কংগ্রেস ভলসাদ থেকে তাদের এমএলএ জিতু চৌধুরী, বারদোলির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তুষার চৌধুরী, দহোদের সাবেক বিজেপি এমপি বাবু কাতারা এবং ছোট উদয়পুরের রঞ্জিত রাথওয়াকে প্রার্থী করেছে।

উপজাতীয় জনসংখ্যা উত্তর বনকান্তা থেকে পূর্ব দহদ জেলা ও পঞ্চমহল পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণে উদয়পুর থেকে নর্মদা, ভালসাদ, টেপি এবং দাঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণ জেলাগুলিতে বিস্তৃত।

এ উপজাতিদের জমি অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হয়। এছাড়াও এখানে উপজাতি সম্প্রদায়গুলোর প্রধান চাহিদা হচ্ছে চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বনভূমির অধিকার ও সেচ সুবিধা। এলাকায় তেমন কর্মসংস্থান নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে আট মাস ধরে শহরে গিয়ে কাজ করছে এক লাখেরও বেশি উপজাতি। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে।

২৩ এপ্রিল নির্বাচনের তৃতীয় পর্যায়ে গুজরাটের ২৬টি আসনে ভোট হবে। গুজরাটের লোকসভা কেন্দ্রগুলো হল কচু, বনকান্তা, পাটান, মহেশনা, সাবারকাঁটা, গান্ধীনগর, আহমেদাবাদ পূর্ব, আহমেদাবাদ পশ্চিম, সুরেন্দ্রনগর, রাজকোট, পোড়বন্দর, জামানগর, জুনাগড়, আমরেলি, ভবন নগর, আনন্দ, ক্ষেত, পঞ্চমহাল, দহোদ, ছোট উদয়পুর,বড্ডো, ভদ্র, বর্ধোলি, সুরত, নবসারী, এবং ভালসাদ।

আপনার মতামত লিখুন :

অরুণ জেটলি: ভারতীয় রাজনীতির মেধাবী পুরুষ

অরুণ জেটলি: ভারতীয় রাজনীতির মেধাবী পুরুষ
অরুণ জেটলি

দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতি, বিশেষ করে ভারতের খোঁজ-খবর যারা রাখেন, তাদের কাছে বেশ কিছু নেতার মুখ খুবই চেনা। নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উপমহাদেশ জুড়ে পরিচিতি পাওয়া তেমন রাজনীতিবিদদের অন্যতম একজন ছিলেন অরুণ (মহারাজ কৃষাণ) জেটলি।   

তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে তীক্ষ্ণতা সম্পন্ন আইনজীবীর পরিচয় ছাপিয়ে অরুণ জেটলি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে রেখেছেন স্থায়ী স্বাক্ষর। প্রায়-নিঃস্ব অবস্থা থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির শীর্ষে আরোহণের পথে জনমত ও মিডিয়া অ্যাক্টিভিজমের ক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যে কয়জন নেতা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে বাজপেয়ী ও আদভানীর পর পরই নাম আসে অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজের।

গত ৬ আগস্ট সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর ১৮ দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট ৬৬ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন অরুণ জেটলি। অবশ্য ৯ আগস্ট তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা হয় নি তার। কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৪ আগস্ট দ্বিপ্রহরে তার জীবনাবসান হয়।  

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শিবিরে এই মৃত্যুজনিত বেদনা গভীর ক্ষত ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি 'বিশ্বস্ত বন্ধু' হারিয়েছেন। বিজেপি'র পক্ষ থেকে অরুণ জেটলির মৃত্যুকে বর্ণনা করা হয়েছে 'মধ্যাহ্নে সূর্যাস্ত' শিরোনামে।

অরুণ জেটলি ছিলেন দলের অন্যতম মুখপাত্র। মিডিয়া ও বিতর্কে দলের নীতি ও আদর্শ তুলে ধরতে লাগাতার সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে তার যুক্তি ও বাচনভঙ্গি প্রায়-অখ্যাত বিজেপি নামক দলটির প্রতি মানুষের মনোযোগ ও আগ্রহ বাড়িয়েছে। নিজের দল ও রাজনীতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক মনোভাব ও আস্থাজনক বার্তা পৌঁছে দিতে অরুণ জেটলি ছিলেন সফল ও পারঙ্গম।            

অরুণ জেটলিকে বলা হতো 'ট্রাবলশুটার’, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ এবং 'কিং মেকার'। মাঠের রাজনীতির চেয়ে কৌশল ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন উজ্জ্বলতর৷ ফলে তিনি নিজে নির্বাচনে লড়েছেন হাতে গোনা কয়েকটি। এমনকি, ২০১৪ সালে প্রবল মোদী হাওয়াতেও অমৃতসর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়ে কংগ্রেস প্রার্থী অমর সিং-এর কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে তাকে গুজরাত থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত করে আনা হয় দলের পক্ষ থেকে। সর্বাবস্থায় তিনি বিজেপির অপরিহার্য নেতা ও  মোদীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থেকে গিয়েছেন বরাবর।

ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময় জেলখানায় রাজনীতির হাতে খড়ি হওয়া তরুণ আইনজীবী অরুণ জেটলি জেল খেটেছেন ১৯ মাস। আর সেই ১৯ মাসেই এমন এমন রাজনৈতিক গুরুদের সংস্পর্শে আসেন তিনি, যে তার জীবনদর্শনই বদলে যায়। সে তালিকায় ছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, নানাজি দেশমুখের মতো প্রবাদ প্রতিম নেতারা। 

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)-এর সর্বভারতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওকালতির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে রাজনীতিকেও কেরিয়ার হিসাবে বেছে নেন তিনি।

রাজনীতিকে কেরিয়ার হিসাবে বেছে নিলেও, নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ততটা সাফল্য পাননি অরুণ জেটলি। অরুণ জেটলি নিজে অবশ্য শেষ বার ভোটে জিতেছিলেন ১৯৭৪ সালে দিল্লির ছাত্র সংসদের নির্বাচনে। তার পর থেকে তিনি চলে গিয়েছিলেন মঞ্চের পিছনে।

পরের চার দশক ধরে তিনি ‘ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট’। বহু নির্বাচনেই দলের হয়ে রণকৌশল এবং প্রচার কৌশল তৈরির কারিগর ছিলেন তিনি। কিন্তু, নিজে ভোটে লড়েননি, অন্যদের লড়িয়ে জিতিয়ে এনেছিলেন।

লোকসভা নির্বাচনে (২০১৪ সালে) দেশ জুড়ে প্রবল মোদি ঝড়েও কিন্তু অরুণ জেটলি পপুলার ভোটে জিততে পারেন নি। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে ভোটে লড়ে পরাজিত হন তিনি। তাতে অবশ্য মোদি বা দলের কাছে তার গুরুত্ব কমেনি। প্রথম মোদি সরকারের অর্থ মন্ত্রক তো বটেই প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ছিল অরুণ জেটলির কাঁধে। কিন্তু, শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ। একটু একটু করে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরেও আসতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের ভোটে আর দাঁড়াননি তিনি।

তারপরেও তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা উঠলে তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন শারীরিক কারণ দেখিয়ে। ২৮ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে দিল্লিতে আইনজীবী পিতা মহারাজ কৃষাণ জেটলি ও মাতা রতন প্রভা জেটলির ঘরে  জন্ম গ্রহণকারী এই নেতা রাজধানীর সরব রাজনীতি থেকে দূরেই থেকেছেন শেষ দিনগুলো। স্মৃতিচারণ করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তাল ঘটনাক্রম আর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের।

স্ত্রী সঙ্গীতা, যার পিতা ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থমন্ত্রী গিরিদরী লাল দুর্গা এবং দুই আইনজীবী সন্তান, পুত্র রোহন ও কন্যা সোনালি ছাড়াও পুরো দিল্লিতে ছড়িয়ে ছিল তার অসংখ্য আত্মীয়, পরিজন ও গুণগ্রাহী। তথাপি তিনি শেষ জীবনের অসুস্থতার কারণে রাজনীতি ও সামাজিক ভিড় এড়িয়ে নিভৃতচারীর মতো জীবনযাপন করেন।          

দিল্লির অভিজাত আবাসিক এলাকা গ্রেটার কৈলাশের বাড়ির নির্জনে অরুণ জেটলির জীবনাবসানে কেবল বিজেপি নয়, ভারতীয় রাজনীতি এক মেধাবী পুরুষকে হারিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া হারিয়েছে একজন উচ্চাঙ্গের রাজনৈতিক নেতা ও সুশিক্ষিত-সুদক্ষ ব্যক্তিত্বকে। 

মেসিডোনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

মেসিডোনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর মেসিডোনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অভিবাসী বাংলাদেশি যুবক (২০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিহত বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

সংবাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে ১৩ জন অভিবাসী নিয়ে একটি ভ্যান মালবাহী ট্রাকের পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আগুন লেগে যায়।

আহতদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি ও ১০ জন পাকিস্তানি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। গুরুতর অসুস্থ চার জনকে মেসিডোনিয়ার রাজধানীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গ্রীস থেকে অবৈধভাবে দালালচক্রের মাধ্যমে তাদেরকে পাচার করা হচ্ছিল। তারা সাইবেরিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র