Alexa

‘ব্ল্যাক হোল’ এর প্রথম ছবি প্রকাশ

‘ব্ল্যাক হোল’ এর প্রথম ছবি প্রকাশ

ব্ল্যাক হোল এর ছবি প্রকাশ, ছবি: নাসা

মহাশূন্যের কৃষ্ণ গহ্বরের (ব্ল্যাক হোল) প্রথম ছবি প্রকাশ করলো ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

বুধবার (১০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষ্ণ গহ্বরের প্রথম ছবি প্রকাশ করা হয়।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) গবেষণার প্রথম দফার ফলাফল হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি কৃষ্ণ গহ্বরের প্রথম চিত্রটি ধারণ করেন।

এটি প্রধানত ধুলো ও গ্যাসের একটি স্তর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তোলা ছবিটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের মেসিয়ার ৮৭ ছায়াপথের অবস্থানরত একটি বিশাল কৃষ্ণ গহ্বরের বাইরের আকৃতি।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কালো অংশের চারপাশ জুড়ে রয়েছে এক আগুনের বলয়। যার উজ্জ্বলতা কয়েক লক্ষ নক্ষত্রের সমষ্টিকেও ছাপিয়ে যাবে। আর সেইজন্যই এত দূর থেকেও সেই আগুন এত স্পষ্ট। আসলে নক্ষত্র থেকে নির্গত গ্যাস থেকেই তৈরি হয়েছে ব্ল্যাক হোল। এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ধারণা করা হচ্ছে, এটির ছবি আবিষ্কারের ফলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তুর বিশ্লেষণে একটি বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। মহাশূন্যের কৃষ্ণ গহ্বরগুলো এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি কালীন সময়ে তৈরি হওয়া একেকটি কালো ফাঁদের মতো, যা আলো কিংবা অন্য সবকিছুকেই গ্রাস করতে সক্ষম।

তবে দীর্ঘ গবেষণার পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পাওয়া ফলাফল বলছে কৃষ্ণ গহ্বরের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের জাগতিক কোনও সূত্রই এই বেলায় কাজ করে না।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) প্রায় দুইশ'র বেশি বিজ্ঞানীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অ্যান্টার্কটিকা থেকে স্পেন এবং চিলিতে অবস্থানরত আটটি রেডিও টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছবিটি ধারণ করা হয়েছে।

প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার জীবনের অধিকাংশ সময় কৃষ্ণ গহ্বরের গবেষণাতেই কাটিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কৃষ্ণ গহ্বরের মধ্যবর্তী স্থানে সেটির ভর একটিই জিরো ডাইমেনশনাল পয়েন্টে আটকানো থাকে। এ পর্যন্ত মহাকাশের কৃষ্ণ গহ্বরের রহস্য কেউ ভেদ করতে না পারলেও এই প্রথম এর ছবি ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আপনার মতামত লিখুন :