Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিল চেয়ে নোটিশ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিল চেয়ে নোটিশ
প্রতীকী
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিল চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এটি বাতিল না করলে উচ্চ আদালতে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নোটিশে।

রোববার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেনের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার তৌফিুকুর রহমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ পাঁচজনের বরাবরে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশ প্রেরণকারী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। নিজ সংসদীয় এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী।

নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বর্ণিত আছে। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) এর ১২(২)(৩এ)(এ) ধারায় উল্লেখিত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান স্বতন্ত্র প্রার্থীতার ক্ষেত্রে বড় বাধা। এটি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আরপিওর ১২(২)(৩এ)(এ) ধারার হস্তক্ষেপে জনগণের অধিকার খর্ব হচ্ছে। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এ ধরনের বিধান নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিধানটির প্রয়োগ হয় না।

নোটিশে আরো বলা হয়, এক-এগারোর সেনা নিয়ন্ত্রিত অগণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বিধানটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল আরপিওতে। উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। ভোটাররা গোপন কক্ষে ভোট দেন। এতে প্রতিনিধি নির্বাচনে তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি গোপনীয়তা বজায় থাকে। কিন্তু ১ শতাংশ ভোটার যখন স্বাক্ষর করেন এতে তাদের গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ে। যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে এটি ভোট কেনার সুযোগ করে দেয় যা দুর্নীতিতে প্ররোচিত করতে পারে। এ বিধানের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। এতে মনোনয়ন বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাহালম কাণ্ড: সোনালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা জড়িত

জাহালম কাণ্ড: সোনালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা জড়িত
জাহালাম

পাটকল শ্রমিক জাহালমের বিনা অপরাধে কারাভোগের ঘটনায় ৮ কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে সোনালী ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। আর জালিয়াতি মূলে ছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুল হক।

শনিবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ দায় স্বীকার করেছে সোনালী ব্যাংক।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে গত ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত শুনানিতে সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন জানিয়েছিলেন তারা হলফনামা আকারে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলো। আগামী ২৮ আগস্ট দুপুর দুইটায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

ওইদিন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা এ প্রতিবেদন গ্রহণ করছি না। দুদকের কোন ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তাদের নামের তালিকা জমা দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনটি ৪১৬ পৃষ্ঠার। এত বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বেতন কেটে রাখা, তিরস্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে’ ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন গত ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হলে তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এর পর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ৩০ জানুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ বিনা অপরাধে জাহালমের কারাভোগের ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনের ব্যাখ্যা চান আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সাড়ে তিন বছর কারাভোগের পর মুক্ত হন জাহালম।

গত ২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কিনা, তা অনুসন্ধানে গঠিত দুদকের আভ্যন্তরীণ কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এখন এ বিষয়ে শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এমপিদের শপথের বৈধতা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল

এমপিদের শপথের বৈধতা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল
ছবি: সংগৃহীত

দশম জাতীয় সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিট খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরের অনুমতির আবেদন) করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন এ আপিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দশম জাতীয় সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিট খারিজের আদেশ দেন। একাদশ সংসদের এমপিদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।

আরও পড়ুন: একদিনে ১৫৩ মামলার আসামির জামিন বাতিল

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দলের প্রধানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে একাদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা আগে শপথ নিয়েছেন। আর সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সরকার গঠন করা হয়ে থাকে। তাই রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল।’

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রিট আবেদনটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন। পরে রিট আবেদনটি আবার উপস্থাপন করা হলে ৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারির খারিজ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক পাঠানোর সিন্ডিকেট: তদন্ত ৩ মাসে শেষ করার নির্দেশ

লিভ টু আপিলের যুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্যদের শপথের বিধান রয়েছে। সংবিধানের এ বাধ্যবাধকতা অগ্রাহ্য করে একাদশ সংসদের জয়ী সদস্যরা গত ৩ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন। এরপর ৭ জানুয়ারি নতুন সরকারও শপথ নেয়। দশম সংসদের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই মেয়াদের অবসান না হওয়ার আগেই একাদশ সংসদের সদস্যরা শপথ নেওয়ায় দুটি সংসদ বহাল রয়েছে। যা সংবিধানের পরিপন্থী।’

একই যুক্তি রিট আবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

গত ৮ জানুয়ারি একাদশ সংসদের এমপিদের শপথ বাতিল করে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ দেন আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন নোটিশটি পাঠান। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় পরে ১৪ জানুয়ারি রিট করা হয় হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র