Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাস বিকৃতির রিটের বাদী ইরতেজা হাসানকে তলব

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাস বিকৃতির রিটের বাদী ইরতেজা হাসানকে তলব
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে করা রিটে তথ্য গোপন করায় বাদী ড. কাজী ইরতেজা হাসানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। তাকে ৩০ জুলাই সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

বুধবার (১৯ জুন) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ তলব আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।

রায় ঘোষণার ধার্য দিনে আদালত বাদীকে তলব করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: হাইকোর্ট

আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই: হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

আমরা বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি চাই বলে ওয়াসার উদ্দেশে এ মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। ওয়াসার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, অ্যামোনিয়া ও মলের অস্তিত্বের ব্যাখ্যার শুনানিতে হাইকোর্ট এ মন্তব্য করেছেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানিতে ওয়াসার আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটির নমুনা পরীক্ষায় কলির্ফম পাওয়া গিয়েছিল। প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিসিডিআরবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পানির নমুনা পরীক্ষায় পুরনো ঢাকার পাতলা খান লেনের পানি ভালো পেয়েছি। আর মিরপুরের ফলাফল রোববার পাব।

জবাবে আদালত বলেন, ওয়াসা যদি সমস্যা সমাধান করতে পারে তাহলে ভালো। আমাদের দরকার পানি। বিশুদ্ধ পানি। আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই।

এরপর বিচারপতি আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন।

আদালতে ওয়াসার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাসুম। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

গত ৪ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়া চারটি সংস্থা-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত কমিটি পানির নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন জানায় ওয়াসার ১০টি মডস জোনের মধ্যে ৪টি (১, ২, ৪ ও ৭) এবং সায়েদাবাদ ও চাঁদনীঘাট এলাকার ৮টি নমুনায় ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, অ্যামোনিয়া, ট্রাই-ক্লোরামাইসিন, ডাই-ক্লোরামাইসিন, হ্যালোজেনিক অ্যসিড এবং মলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদনের পর ৭ জুলাই প্রতিবেদনের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার বক্তব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ অপরিচ্ছন্ন এবং অনিরাপদ উৎসের পানি পান করছে। পানির নিরাপদ উৎসগুলোর ৪১ শতাংশই ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত এবং ১৩ শতাংশে রয়েছে আর্সেনিক। এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে গত বছরের ১৪ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রানালয় তাদের মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। এ কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন-আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।

আবুল খায়ের গ্রুপের ২০০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি, ৫৪ আপিল উচ্চ আদালতে

আবুল খায়ের গ্রুপের ২০০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি, ৫৪ আপিল উচ্চ আদালতে
আবুল খায়ের গ্রুপের লোগো

দেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপ আবুল খায়ের কোম্পানির ২০০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কমিশনার অব কাস্টমসের করা আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালতে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৫৪ টি আপিলের বিপরীতে বিপুল পরিমাণের এ অর্থ আটকে আছে। চলতি বছরের আগের আপিল মিলিয়ে শুল্ক ফাঁকির মামলা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আপিলগুলো নিষ্পত্তি হলে রাষ্ট্রের কোষাগারে এ টাকা জমা পড়ত। বিদেশ থেকে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে আমদানি করা গুঁড়া দুধ, ভোগ্যপণ্য ও স্টিলের কাঁচামালে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে কোম্পানিটি।

উচ্চ আদালতের সূত্র জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেডের শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে ২৯টি আপিল দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব আপিলের বিপরীতে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৮৪ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ৭৬৯ টাকা। অন্যদিকে কোম্পানিটির কনজ্যুমার ও স্টিল শাখার শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে ২৫টি আপিল দায়ের করেছে কমিশনার অব কাস্টমস। এসব আপিলে শুল্ক ফাঁকির অর্থের পরিমাণ ১১৬ কোটি ৫৫ হাজার ১০৬ টাকা। সবমিলিয়ে শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ৪০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮২ টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563944431524.jpg
আবুল খায়ের গ্রুপ, চট্টগ্রাম হেড অফিস

 

উচ্চ আদালতে শুল্ক ফাঁকি (কাস্টমস), ভ্যাট ও আয়কর মামলার আপিল নিষ্পত্তির জন্য মাত্র দুটি বেঞ্চ রয়েছে। দুটি বেঞ্চ থাকায় মামলার শুনানি এবং নিষ্পত্তি হচ্ছে ধীরগতিতে। ফলে আবুল খায়ের গ্রুপের শুল্ক ফাঁকির আপিল এ বছরও নিষ্পত্তি হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, শিগগির পর্যায়ক্রমে ৫৪টি আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) আসবে।  কার্যতালিকায় আসার পর শুনানি শুরু হবে এসব আপিলের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল জানিয়েছেন, অনেকগুলো আপিল দায়ের করেছে চট্টগ্রামের কমিশনার অব কাস্টমস। আপিলগুলো সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রস্তুত হয়ে এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

কাস্টমস আপিল নম্বর ৫৫ দায়ের করা হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি। কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ১৯৬ অনযায়ী কমিশনার অব কাস্টমস আপিলটি হাইকোর্টে দায়ের করেন। আপিলে বিবাদী হলেন-কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল, কমিশনার অব কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) এবং আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড।

আপিলের নথি থেকে দেখা যায়, আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস অস্ট্রেলিয়া থেকে স্কিমড গুঁড়া দুধ আমদানি করে প্রতি টন ২ হাজার ৬২৪ ডলারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563945337222.jpg

২০১৫ সালের ৪ মে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাখিল করা বিল পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য প্রতি টন ২ হাজার ৭০০ ডলার নির্ধারণ করে খালাসের আদেশ দেয়। আদেশ অনুযায়ী আবুল খায়ের মিল্ক কোম্পানি পণ্য খালাসও করে নেয়। পণ্য খালাস করে কাস্টমসের মূল্য নির্ধারণের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে তারা। ওই বছরের ২৯ জুন কমিশনার (আপিল) আবুল খায়েরর আপিল মঞ্জুর করে চালান অনুযায়ী খালাসের আদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপিল করলে কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গত বছর ২৯ অক্টোবর কাস্টমসের আপিল নামঞ্জুর করে।

কাস্টমসের দাবি অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের পণ্যের মূল্য চালানের ভিত্তি নির্ধারণের আদেশ বহাল রেখে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনায় না নিয়ে আইনগত ভুল করেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সকল নথিপত্র যাচাই করে দেখেছে কোম্পানিটি চালনে ঘোষিত মূল্য বিদ্যমান মূল্যের চেয়ে অনেক কম।

গত ১০ জানুয়ারি দায়ের করা ১১ নম্বর আপিলে দেখা যায় আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড নিউজিল্যান্ড থেকে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। ওই বছরের ২১ মার্চের চালানে প্রতি টন গুঁড়া দুধের মূল্য দেখানো হয় ২ হাজার ৩৯৯ ডলার। পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের সকল নথিপত্র যাচাই করে বিশ্ববাজারের বিদ্যমান মূল্য নির্ধারণ করেছে। কমিশনার অব কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) বরাবরে কোম্পানিটি আপিল করলে চালান অনুযায়ী মূল্য বহাল রাখা হয়। একইসঙ্গে অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত বছর ১৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল কাস্টমসের আপিল খারিজ করে দেয়। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে সংক্ষুব্ধ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563946007168.jpg

কাস্টমস আপিল নম্বর ৪৩ দায়ের করা হয় গত ৩১ জানুয়ারি। চট্টগ্রামের কমিশনার অব কাস্টমস (আমদানি) আপিলটি দায়ের করে। এ আপিলের বিবাদী কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল, কমিশনার অব কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) এবং আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড।

আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড গুঁড়া দুধের জন্য ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল এক চালানে জাপান থেকে প্রাথমিক গুণগতমানের ৩ টন ইলেকট্রোলাইটিক টিন প্লেট আমদানি করে। চালানে প্রতি টন টিন প্লেটের মূল্য ৭৯০ ডলার দেখিয়ে পণ্য খালাস করে আমদানিকারক আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস। কিন্তু কাস্টমস ভেলুয়েশন বিধিমালা ২০০০ এর ৫ ধারা অনুযায়ী প্রতি টন টিন প্লেটের মূল্য ছিল ৯০০ ডলার। কাস্টমসের দাবি একই পণ্য অন্যান্য দেশে প্রতি টন ৯০০ ডলার। এর বিরুদ্ধে রিভিউ (পুর্নবিবেচনার) আবেদন করে আবুল খায়ের মিল্ক। রিভিউ কমিটি কাস্টমসের মূল্য নির্ধারণ খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করে কাস্টমস। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রিভিউ কমিটির কিছুটা সংশোধন করে মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি টন ৮৫০ ডলার। এ রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেছে।

একই ধরণে আরো অর্ধশতাধিক আপিল করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব আাপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালতে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র