Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খালেদার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার শুনানি ১৮ জুলাই

খালেদার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার শুনানি ১৮ জুলাই
খালেদা জিয়া, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি পিছিয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় বুধবার (১৯ জুন) মামলার চার্জ শুনানি হয়নি। চার্জ শুনানিতে কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার বিধান রয়েছে।

বুধবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ এএইচএম রুহুল ইমরানের আদালত আগামী ১৮ জুলাই পরবর্তী চার্জ শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়। সাবেক কৃষিমন্ত্রী এমকে আনোয়ার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম মারা গেছেন। সম্প্রতি সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আমিনুল হক মারা গেছেন। এজন্য তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার আসামি সংখ্যা আট।

মামলার আট আসামি হলেন-খালেদা জিয়া, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রো বাংলার সাবেক পরিচালক ‍মুঈনুল আহসান এবং সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সেই সময়ের সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম। ওই বছরের ৫ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাসেম ফকির খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র করলে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে।

দরপত্রগুলো কারিগরি ও আর্থিকভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিমকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি শ্যান্ডং লুদি কনসোর্টিয়ামকে প্রথম, সুজু কোল মাইনিং গ্রুপ কনসোর্টিয়ামকে দ্বিতীয় ও সিএমসি কনসোর্টিয়ামকে তৃতীয় করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

শ্যান্ডং লুদি কনসোর্টিয়াম চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় সিএমসিকে একই মূল্যে ও শর্তে কাজটি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সিএমসি একই মূল্যে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে পুনঃদরপত্র আহ্বান না করে সিএমসির দাখিল করা মূল্যে ও শর্তে তাদের কার্যাদেশ দেন আসামিরা।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, পুনঃদরপত্র আহ্বান না করে সিএমসি দাখিল করা মূ্ল্যে ও শর্তে তাদের কাজ দেওয়ায় সরকারের ১৫৮ কোটি, ৭১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ টাকা ক্ষতি হয় এবং আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করেন।

ঘটনার সময় খালেদা জিয়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। তার জ্ঞাতসারেই পুনঃদরপত্র ছাড়াই সিএমসিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

যুদ্ধাপরাধ মামলা: গাইবান্ধার ৫ জনের রায় যেকোনো দিন

যুদ্ধাপরাধ মামলা: গাইবান্ধার ৫ জনের রায় যেকোনো দিন
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার পাঁচ আসামির রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রোববার (২১ জুলাই) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো.শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন মোখলেসুর রহমান বাদল। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে মো. রঞ্জু মিয়া কারাগারে আছেন। পলাতক বাকি ৫ আসামিরা হলেন- রাজাকার কমান্ডার আবদুল জব্বার (৮৬), মো. জাফিজার রহমান খোকা (৬৪), মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল (৬২), মো. মমতাজ আলী বেপারি মমতাজ (৬৮)। অপরদিকে, আসামি আজগর হোসেন খান (৬৬) মারা গেছেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মান্তর ও দেশান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে।

তারা গাইবান্ধা সদরের নান্দিদা ও ফুলবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং সবাই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। আসামিদের মধ্যে মো. আবদুল জব্বার, মো. জাফিজার রহমান খোকা ও মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ১৯৭১ সালের আগে থেকেই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭২ সালে জব্বার ও খোকা মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার হলেও তাদের কোনো বিচার হয়নি।

রাজধানীর কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা খোকা। তিনি ১৯৭৫ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালে অবসর নেন। মো. মমতাজ আলী বেপারি মমতাজ ১৯৭৪ সালে কৃষি বিভাগে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সালে অবসর নেন।

বিএনপির দণ্ডিত ৪৩ নেতাকর্মীর খালাস চেয়ে আপিল

বিএনপির দণ্ডিত ৪৩ নেতাকর্মীর খালাস চেয়ে আপিল
মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, পুরনো ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন দণ্ডিত আসামিরা। বিচারিক আদালতের রায়ে আটজনের মৃত্যুদণ্ড, ২২ জনের যাবজ্জীবন এবং দশ বছর সাজা পাওয়া ১৩ জন, সবমিলিয়ে দণ্ডিত ৪৩ ব্যক্তি খালাস চেয়ে এ আপিল করেন।

রোববার (২১ জুলাই) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দাখিল করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আপিলের পর আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, '১৯৯৪ সালের একটি ঘটনায় একটি ন্যক্কারজনক ও লজ্জাজনক রায় হয়েছে। এ রায়ে বিএনপির নেতাকর্মী ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে দশ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। মামলার ৫৪ জন সাক্ষী থাকলেও মাত্র ১২  জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন। আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ অন্যরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এই রায়ের মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুধু অন্যায় করা হয়নি, অবিচার করা হয়েছে। আমি মনে করি, এটা প্রকারান্তরে জুডিশিয়াল কলিং।'

এদিকে গত ১৪ জুলাই পাবনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে এ মামলার রায়ের নথিপত্র ডেথ রেফারেন্সে হিসেবে হাইকোর্টে পৌঁছে।

১৯৯৪ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে এম আখতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু (পলাতক), কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান ওরফে বাবলু, তার ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, অপর ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান ওরফে পলাশ, বিএনপি নেতা মো. অটল, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি শ্যামল (নূরে মোস্তফা), স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে শাহীন ও বিএনপির সাবেক নেতা শামসুল আলমের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত হন ২৫ জন। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৩ জনকে।

গত ৩ জুলাই পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ রায় দেন। একইসঙ্গে, মামলার সকল কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলা: ৯ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ২৫

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র