Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

শিশু অপহরণ: ২ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন

শিশু অপহরণ: ২ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

টিএনজেড গ্রুপের মালিকের ছেলে আবির (৮) অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দুই আসামির ফাঁসি নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া দুই সহোদরসহ আট আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মশিউর রহমান (৪০) ও মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর (৩৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৮), ইকবাল হোসেন শুভ (২৮), সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন (৪৭), আলিম হোসেন চন্দন ওরফে চঞ্চল (২৭), দুই সহোদর কাউসার মৃধা (২৫) ও রেজা মৃধা (৩০)।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের বিভিন্ন অংকের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে কাউসার মৃধা ও রেজা মৃধা পলাতক আছেন। বাকি আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় জহির উদ্দিন বাবর ও শাহ মো. অলিউল্লাহকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিবরণ থেকে জানা যায়, টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবির (৮) উত্তরার একটি মাদরাসায় পড়ত। তাকে অপহরণের জন্য প্রায় চার মাস ধরে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহ করে অপহরণকারীরা।

২০১৫ সালের ২ মে আবির গাড়ি করে মাদরাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে বনানী ফ্লাইওভারের নিচে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আবিরের গাড়ি আটকায় ও তাকে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর অপহরণকারীরা আবিরের মুক্তিপণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন। আবিরের পিতা গোপনে র‍্যাবকে জানায়। চারদিন দর-কষাকষির পর দুই কোটি টাকায় তারা রাজি হয়। এরপর আবিরের পিতা এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসাবে প্রদান করেন।

এছাড়া হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ টাকা নগদ দেন। এরপর অপহরণকারীরা শিশু আবিরকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়।

আবিরকে ফিরে পাওয়ার পর অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

এরপর একেক করে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন :

হাইকোর্টের ৩ বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া হয়নি

হাইকোর্টের ৩ বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া হয়নি
হাইকোর্ট

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতিকে বিচার কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হককে বিচার কাজ থেকে বিরত রাখা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের এ বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আজকের কার্যতালিকায় তিন বিচারপতির নাম নেই। এ বিষয়ে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাইকোর্টের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ কার্যতালিকা করে বিচারপতিদের এখতিয়ার ও অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেন।

আগের দিন বুধবার এ তিন বিচারপতির বেঞ্চ ও এখতিয়ার ছিল। তারা দেওয়ানি মামলার রুল ও আবেদন শুনতেন।

মূল ভবনের ১০ নম্বর এজলাসে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপ বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ দ্বৈত বেঞ্চে বসতেন। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক মূল ভবনের ৬ নম্বর এজলাসে এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক অ্যানেক্স ভবনের ৩০ নম্বর এজলাসে বসতেন।

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ২০০২ সালের ২৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। দুই বছর স্থায়ী বিচারপতির শপথ নেন তিনি।

বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হন তারা।

আদালতে না নিয়ে সাজা: সতর্ক করা হলো চট্টগ্রামের ইউএনও, ওসিদের

আদালতে না নিয়ে সাজা: সতর্ক করা হলো চট্টগ্রামের ইউএনও, ওসিদের
ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার বা আটকের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সতর্ক করেছেন চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে আইন বহির্ভূত এ ধরনের সাজা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) কামরুন নাহার রুমীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কীকরণ করা হয়েছে। নোটিশটি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের হাতে এসেছে বুধবার (২১ আগস্ট)।

নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার থানার ওসিরা ধৃত আসামিদের নিয়মিত আদালতে হাজির না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করছে। এরপর ইউএনও এবং এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছে। যা স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন উৎস থেকে গোচরীভূত হয়েছে সিজেএম কার্যালয়ে।

এ ধরণের সাজা দেওয়া ঘটনা ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ এবং হাইকোর্টের রায়ের লঙ্ঘন।

২০১৭ সালের ১৪ মে স্বপ্রণোদিত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রাষ্ট্র বনাম ইউএন, সখীপুর টাঙ্গাইল এবং অন্যান্য মামলায় ঘোষিত এক রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার শুরুর আগে পুলিশের হাতে আটক বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ এ শাস্তি প্রদানের সুযোগ নেই। যদি কোন ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া কুলষিত বলে বিবেচিত হবে। ঘোষিত শাস্তি অবৈধ ও এখতিয়ার বহির্ভূত হবে।

নোটিশে বলা হয় সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক এ রায় মানা সকলের জন্য বাধ্যকর।

টাঙ্গাইলের সখিপুরে প্রতীমা পাবলিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে ইউএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ বছরের সাজা দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বয় জেলড ফর এফবি কমেন্ট অ্যাবাউট এমপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের নজরে আনেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি এবং পরে সখীপুরের ইউএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং ওসি মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমকে তলব করেন হাইকোর্ট।

২০১৭ সালের ১৪ মে রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দুই বছরের সাজা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সাব্বির শিকদারকে নির্যাতনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ইউএনও এবং ওসিকে সখীপুর থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র