Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাজস্ব কর্মকর্তা আমজাদ ও তার স্ত্রীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

রাজস্ব কর্মকর্তা আমজাদ ও তার স্ত্রীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা দুর্নীতি মামলায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সাবেক এপ্রেইজার (বর্তমানে পরিবর্তিত পদ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা) আমজাদ হোসেন হাজারী ও  তার স্ত্রী হালিমা বেগম লিপি চার সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আসামিদের পক্ষে করা আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে আগাম জামিন আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম কামাল আমরুহী।

এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সাবেক এপ্রেইজার (বর্তমানে পরিবর্তিত পদ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা) আমজাদ হোসেন হাজারী ও  তার স্ত্রী হালিমা বেগম লিপির নামে ৩ কোটি ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৮১  টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। পরে ওই অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম ২০১৮ সালের ৩ জুন আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম লিপিকে আসামি করে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং মডেল থানার মামলা দায়ের করেন।

কাস্টমস এপ্রেইজার মো. আমজাদ হোসেন হাজারী কর্তৃক অর্জিত অবৈধ আয়কে বৈধ করার জন্য তার স্ত্রী হালিমা বেগম লিপির নামে আয়কর নথি খুলে পোল্ট্রি ব্যবসার অস্বাভাবিক আয় দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তদন্তাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় আসামিরা হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তাদেকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

খালেদার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর

খালেদার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
খালেদা জিয়া, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানির জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

কারান্তরীণ খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকায় মামলার চার্জ শুনানি হয়নি। চার্জ শুনানিতে কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার বিধান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার-২য় বিশেষ জজ এএইচএম রুহুল ইমরানের আদালত চার্জ শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এছাড়া সাবেক কৃষিমন্ত্রী এমকে আনোয়ার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম এবং সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আমিনুল হক মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামি সংখ্যা আট।

মামলার আট আসামি হলেন-খালেদা জিয়া, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রো বাংলার সাবেক পরিচালক ‍মুঈনুল আহসান এবং সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম। ওই বছরের ৫ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাসেম ফকির খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মো. সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং পেট্রো বাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এসআর ওসমানী আগেই মারা যাওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র করলে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে।
দরপত্রগুলো কারিগরি ও আর্থিকভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিমকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি শ্যান্ডং লুদি কনসোর্টিয়ামকে প্রথম, সুজু কোল মাইনিং গ্রুপ কনসোর্টিয়ামকে দ্বিতীয় ও সিএমসি কনসোর্টিয়ামকে তৃতীয় করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
শ্যান্ডং লুদি কনসোর্টিয়াম চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় সিএমসিকে একই মূল্যে ও শর্তে কাজটি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সিএমসি একই মূল্যে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে পুনঃদরপত্র আহ্বান না করে সিএমসির দাখিল করা মূল্যে ও শর্তে তাদের কার্যাদেশ দেন আসামিরা।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, পুনঃদরপত্র আহ্বান না করে সিএমসির দাখিল করা মূল্যে ও শর্তে তাদের কাজ দেওয়ায় সরকারের ১৫৮ কোটি, ৭১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ টাকা ক্ষতি হয় এবং আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাত করেন।

ঘটনার সময় খালেদা জিয়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। তার জ্ঞাতসারেই পুনঃদরপত্র ছাড়া সিএমসিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আপাতত বহাল রাজীবের ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায়

আপাতত বহাল রাজীবের ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায়
রাজীব হোসেন

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর মারা যাওয়া তিতুমীর কলেজের স্নাতকোত্তর ছাত্র রাজীবের হোসেনের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। ফলে আপাতত হাইকোর্টের রায় বহাল থাকছে।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে স্বজন পরিবহনের করা আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার (১৭ জুলাই)  আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আবেদনটি আগামী ১৩ অক্টোবর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাবুল। আর রাজীবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘রাজীবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন তা স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছে স্বজন পরিবহন। তবে চেম্বার আদালত কোন স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে আপাতত হাইকোর্টেও রায়র বহাল রয়েছে।,

ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুল গত ২০ জুন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান ও আব্দুল্লাহ হৃদয়কে দুই মাসের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও স্বজন পরিবহনকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয় রায়ে। যাত্রী নিরাপত্তায় সাতদফা নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের বাসের চাপায় রাজীব হোসেন ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

রাজীবের বিচ্ছিন্ন হাতের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পরদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজীবের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অন্তবর্তীকালীন আদেশ এবং রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ রুল নিষ্পত্তি করে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র