Alexa

সিইটিপি নির্মাণে চাইনিজ ঠিকাদারের অসহযোগিতা

সিইটিপি নির্মাণে চাইনিজ ঠিকাদারের অসহযোগিতা

ঊর্মি মাহবুব, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম

 

ঢাকা: কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চামড়া শিল্প ব্যবসায়ীরা। কবে নাগাদ শেষ হবে সিইটিপি নির্মাণ কাজ-এই প্রশ্ন এখন চামড়া শিল্পনগরীর সবার। চাইনিজ ঠিকাদার জিয়াংসু লিংজাই এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেড কাজে যথাযথ সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাভারে চামড়া শিল্প পার্কের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। আর বিসিক থেকেই চাইনিজ ঠিকাদার কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে।

বিসিক থেকে জানা যায়, সিইটিপি নির্মাণ কাজের জন্য চাইনিজ ঠিকাদার কোম্পানিকে সাতবার সময় বৃদ্ধি করে সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সহায়তা করছে না। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে তাদের জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে ২৮ জুলাই পর্যন্ত। এর মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এ বিষয়ে বিসিকের প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, সিইটিপি নির্মাণের কাজে চাইনিজ কোম্পানি খুব একটা সহযোগিতা করছে না এটা সত্য। তবে আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সিইটিপি নির্মাণের কাজ শেষ করতে আরো সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, সিইটিপি নির্মাণের কাজ এখনো ৩০ শতাংশ বাকি আছে। যদিও বিসিকের দাবি কাজ বাকি আছে ১০ শতাংশ। 

সলিড বর্জ্য নিয়েই সবচেয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। পঁচা গন্ধ তৈরি হচ্ছে,  দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। গন্ধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ছে। পরিবেশ দূষণের কারণে ২০১৪ সালে চামড়া শিল্পের নামকরা ইউরোপীয়ান ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

ঈদুল আযহার আগে সিইটিপির কাজ শেষ না হলে চামড়া শিল্প নগরীর ব্যবসায় ধ্বস নামতে পারেন বলে মনে করছেন ট্যানারি মালিকরা।

সিমিন লেদারস এর কর্মকর্তা ফয়সাল আহেমদ বলেন, এখন আমরা কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। আশেপাশের এলাকার লোকজন প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছে দূষণ নিয়ে অভিযোগ করছেন। যখন কারখানার পানি ছাড়া হয় তখন নদীতে মাছ মরে যাচ্ছে। এলাকাবাসী আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু আমরা কি করবো। এসব বর্জ্য সিইটিপির মাধ্যমে শোধনাগার করার কথা ছিলো। কিন্তু সিইটিপিই নির্মাণ হয়নি। ক্রেতারাও বারবার প্রশ্ন করছে পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কিন্তু আমরা উত্তর দিতে পারছি না। 

একমাত্র পরিবেশ দূষণের কারণে ইউরোপীয়ান ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত এক বছরে আমাদের রফতানির দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন ব্যবসার কি অবস্থা। রফতানি কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। আমাদের এখানে পরিবেশ দূষণের অযুহাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আসছেন না । কিন্তু সিইটিপির বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা বিসিককে জানিয়েছি। এই ঈদুল আযহার আগে যদি সিইটিপির কাজ শেষ না হয় তাহলে অনেক কারখানা আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে।

চামড়া শিল্প নগরীতে বর্তমানে ১১২টি ট্যানারি রয়েছে। কাজ করছে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। ইপিবির (বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে গত বছরের তুলনায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি কমেছে প্রায় ৬২৮ কোটি টাকা।

 

অর্থনীতি এর আরও খবর