Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

মৃত্যুর ৬ দিন আগে জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করেন বঙ্গবন্ধু

মৃত্যুর ৬ দিন আগে জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করেন বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

৯ আগস্ট এমন একটি দিন যেদিন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অভাবনীয় সিদ্ধান্তে পিলে চমকে গিয়েছিল অনেক বোদ্ধার। নির্মম ব্যাপার হলো ঐতিহাসিক সেই দিনের মাত্র ৬ দিন পর বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালের সেই দিনে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র (তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা) নামমাত্র মূল্যে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। যার ওপর ভিত্তি করেই এখন দাঁড়িয়ে আছে দেশের জ্বালানি খাত।

একইসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিশন কোম্পানিতে থাকা শেল অয়েলের সব শেয়ার কিনে নেয় বাংলাদেশ। ১৮ বছরে মোট ৩৬টি কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হিসাবে চুক্তি সম্পাদন করা হয়। অনেকে এই মূল্যকে নামমাত্র মূল্য হিসেবে মনে করেন। কারণ প্রকৃত মূল্য ছিল কয়েক গুণ বেশি। জাতির জনকের কৌশলী বুদ্ধিতে সেদিন অনেকটা বোকা বনে গিয়েছিলো বহুজাতিক কোম্পানি শেল অয়েল।

সেই সময় ওই ৫টি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস মজুদ ছিল ১৩ দশমিক ৩৩৫ টিসিএফ। হিসাবে দেখা গেছে ২০১০ সালের জুন পযর্ন্ত ৬.৫২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৭৯ হাজার কোটি টাকা। পুরো গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। গ্যাস ক্ষেত্রগুলো সেদিন কিনে নেওয়ায় স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এ কারণে ৯ আগস্টকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। ঐতিহাসিক ওই ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সাল থেকে ৯ আগস্টকে ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মোবাইলে এসএমএস প্রদান, আলোচনা সভা ও বিশেষ সেমিনার, নির্ধারিত সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ, বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে জেলা পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সরকার জ্বালানি খাতের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। শত্রু সম্পতি হওয়ায় সিলেট ও ছাতক গ্যাস ক্ষেত্রের পরিচালনার দায়িত্ব সরকার নিজ হাতে নেয় এবং পেট্রোলিয়াম অধ্যাদেশ জারি করে।

পেট্রোলিয়াম অপারেশনের সব বিষয় পরিচালনা এবং পরিবীক্ষণের জন্য পেট্রোবাংলা গঠন করা হয়। একইভাবে কয়লাসহ কঠিন খনিজ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য বাংলাদেশ মিনারেল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন গঠন করেন বঙ্গবন্ধু।

সংস্থা দু’টির চেয়ারম্যানকে সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পেট্রোলিয়াম কনসেশন প্রথা বিলুপ্ত করে প্রডাকশন শেয়ারিং কন্টাক্ট (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) প্রথা চালু করেন জাতির জনক। ৫টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সমুদ্র উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করেন তিনি।

ওই সময়ই বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে পুনর্গঠন ও গতিশীল করা হয়। মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্পের আর্থ-কারিগরি সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগ ও আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, সোভিয়েত রাশিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু যে দূরদর্শী নেতা ছিলেন এই একটি উদাহরণেই যথেষ্ট। তার সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কারণে জাতি আজ অনেকখানি স্বস্তিতে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ত্রিপুরা নয়, উত্তরাঞ্চল দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

ত্রিপুরা নয়, উত্তরাঞ্চল দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ভারত সহযোগিতা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেছেন, ত্রিপুরার পরিবর্তে উত্তরাঞ্চল দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ভাবছে বাংলাদেশ। কারণ আমাদের কুমিল্লা অঞ্চলে এখন তেমন সংকট নেই।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ভারতের বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা সংক্রান্ত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিনিয়র সচিব বলেন, এখন ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। আরও বাড়তি বিদ্যুৎ আমদানি করা হলে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হবে। ওই অঞ্চলে রয়েছে গ্যাস ভিত্তিক সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর চেয়ে ভালো হয় যদি আমরা উত্তরাঞ্চল দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি করি।

রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এলাকায় আমাদের সংকট রয়েছে। এসব অঞ্চলে ঘাটতি সামাল দিতে তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। যা অনেক ব্যয় বহুল। এর চেয়ে যদি কমদামে বিদ্যুৎ আমদানি করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

একটি টেকনিক্যাল টিম সমীক্ষা করবে। যদি অর্থনৈতিক ও টেকনিক্যালি সফলতার সম্ভাবনা থাকে তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সচিব।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশেষ বিশেষ সময়ে আমাদের বিদ্যুৎ অব্যবহৃত থাকছে। সেই বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। স্টিয়ারিং কমিটি যদি একমত হয়, তাহলে আর কোনো জটিলতা নেই। তাদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তারা এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করে দেখবে।

সচিব বলেন, স্টিয়ারিং কমিটি দু'দেশের বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার কাজ করে যাচ্ছে। নতুন নতুন উইন্ডো ওপেন করা হচ্ছে। আর সে সব বিষয় এগিয়ে নেবে টেকনিক্যাল টিম যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে দিন দিন সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার হার বাড়ছে। আরও কিভাবে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে যাচ্ছি।

এর আগে পৃথক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেন দু'দেশের সচিব। সে সময় নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেন নি। তারা বলেন, আমরা দু'দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছি।

রোববার (২৫ আগস্ট) হোটেল সোনারগাঁও এ শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে সিনিয়র সচিব ডক্টর আহমেদ কায়কাউস বাংলাদেশের পক্ষে, ভারতের পক্ষে দেশটির বিদ্যুৎ সচিব শ্রী সুভাষ চন্দ্র গার্গি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রথম দিনে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির ১৭ তম বৈঠক। এছাড়া    রোববার (২৫ আগস্ট) রামপালে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ভারতীয় বিদ্যুৎ সচিব।

 

সূচক কমছে পুঁজিবাজারে

সূচক কমছে পুঁজিবাজারে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৬ আগস্ট) সূচক কমে চলছে লেনদেন কার্যক্রম। এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৯ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ১০ পয়েন্ট।

এছাড়া একই সময়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক কমে। লেনদেনের শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক কমে ১ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক কমার প্রবণতা বাড়তে থাকে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক কমে ৪ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ৩ পয়েন্ট কমে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ৮ পয়েন্ট কমে। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে। বেলা ১১টায় সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১৯৮ পয়েন্টে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১৭৭টির এবং অপরিবর্তীত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- সিলকো ফার্মা, আইটিসি, ইউনাইটেড পাওয়অর, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু স্টাফলারস, মুন্নু সিরামিকস, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, ভিএফএসটিডিএল, জেএমআই সিঞ্জি এবং বেক্সিমকো লিমিটেড।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ১০ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৬৮৭ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ২৩ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- ভিএএমএলআর বিবিএফ, এবি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বেঙ্গল উইন্ডসর, নিটল ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার লিজিং, স্কয়ার টেক্সটাইল, যমুনা ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র