Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে
ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ডিমিউচ্যুলাইজড পরবর্তী পুঁজিবাজারের অভিভাবক বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জই (সিএসই) এখন সেই অভিভাবক শূন্য। কোনোটিতেই এমডি নেই। দু’টোই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনসহ পুঁজিবাজারের প্রাথমিক কাজ করার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। আর এ দায়িত্বটি সম্পূর্ণ পালন করেন এমডি। কিন্তু বাজারের ক্রান্তিকালে গত ১২ দিন ধরে ডিএসইতে এমডি নেই। অপর বাজার সিএসইতে নেই দেড় মাস ধরে। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই চলছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টির কার্যক্রম। পূর্ণকালীন এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এমডি নিয়োগ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বসে আছে লোক দেখানো আইন সংস্কারের ফুলঝুরি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার কিংবা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ডিএসইর সদস্যদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন এমডি অব্যশক। আর তাকে অব্যশই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। তাহলে তার পরিকল্পনার আলোকেই স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশনেরও তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেন বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে তো স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এমডির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে তো একজন পূর্ণকালীন এমডি থাকা আরো বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসইর পর্ষদ এমডির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে থাকলে বিএসইসির সেটি অনুমোদন করা উচিত। যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে তার মেয়াদ বাড়ানো না যায়, তাহলে সেটিও দ্রুত জানানো উচিত। যাতে করে ডিএসইর পর্ষদ নতুন এমডি নিয়োগে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। আর সিএসইকেও দ্রুত একজন যোগ্য এমডি খুঁজে বের করতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য মতে, ডিএসইর এমডি হিসেবে কেএএম মাজেদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ১১ জুলাই। তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য পাঠায় ডিএসইর পর্ষদ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। ফলে ডিএসইর সব ধরনের কার্যক্রম আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর পুঁজিবাজার সিএসইর এমডি হিসেবে এম সাইফুর রহমান মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে এক্সচেঞ্জটির মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নতুন এমডি নিয়োগ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতেও।

নাম না প্রকাশের শর্তে সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘সিএসইর পর্ষদ সাইফুর রহমানকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেনি। এরপর এক্সচেঞ্জটি এ পর্যন্ত দুই দফা এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। আশা করি, পেয়ে যাব।’

এদিকে অভিভাবকহীন পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের পর আরেক দফা ধস নামছে। নতুন এ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। আর তাতে সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

আপনার মতামত লিখুন :

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই
পুঁজিবাজার ছবি: সংগৃহীত

ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্থাৎ (এমডি) খুঁজছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ডিএসই কর্তৃপক্ষ এমডি নিয়োগে পত্রিকার পাশাপাশি ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে সিএসই দুই দফা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর এখনো তিন মাস সময় চেয়ে আবারও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে এমডির খুঁজে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্র মতে, চলতি বছরের ১১ জুলাই ডিএসই’র এমডি পদ শূন্য হয়। গত ৭ আগস্ট ডিএসই কর্তৃপক্ষ নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ডেইলি অবজারভার, প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববারের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ দুই দফা সময় বৃদ্ধির পর আবারও আবেদনের সময় বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন সিএসই’র ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক।

আবেদনের জন্য ক্লিক করুন: https://www.dsebd.org/pdf/dse-md-2019.pdf

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে
শেয়ার বাজারের প্রতীকী ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২১ আগস্ট) সূচক কমে শেষ হয়েছে এ দিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৩ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৭২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৯ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৪ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১৮ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা কমতে থাকে। বেলা ১১টায় সূচক ১২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার পর সূচক নেতিবাচক হতে শুরু করে। বেলা ১২টায় সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। বেলা সোয়া ১২টায় সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হয়ে যায়। এ সময়ে সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। এরপর সূচক ওঠানামা করতে থাকে। বেলা ১টায় সূচক ২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ২টায় সূচক ১ পয়েন্ট কমে। কিন্তু বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক প্রায় এক পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২০৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বুধবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ইউনাইটেড পাওয়ার, ওরিয়ন ইনফিউশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মুন্নু সিরামিকস, বিকন ফার্মা, কেপিসিএল, সিলকো ফার্মা এবং আলহাজ টেক্সটাইল।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩২ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- আরএকে সিরামিকস, সায়হাম টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিচ হ্যাচারি, জেনেক্সিল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, কেয়া কসমেটিকস, তুংহাই নিটিং এবং স্টান্ডার্ড সিরামিকস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র