Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে অবসায়ন (লিকুইডেশন) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশে ব্যাংকের কসফারেন্স কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। এসময় নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়ন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সম্পদের চাইতে আমানতের পরিমাণ বেশি।

তিনি জানান, আমরা আমানতকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেব। কাজেই কোনো আমানতকারীর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ২০১৪ সালে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য আমরা জানতে পারি। যেখানে পরিচালনা বোর্ডের অনেক সদস্যের অনিয়ম পাওয়া যায়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে পরিচালনা বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়।

‘এত কিছুর পরও প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেই। গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয় অবসায়ন করতে অনুমতি দেয়। পরে অবসায়নের জন্য আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

‘অবসায়ন হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে যে হিসাব রয়েছে, এতে প্রতিষ্ঠানটির আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে আমানত দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সম্পদ রয়েছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।'

পিপলস লিজিংয়ের মতো অন্যান্য যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংকটে রয়েছে তাদেরও অবসায়ন করা হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের। এজন্য যা যা করা দরকার আইন অনুযায়ী তা-ই করা হবে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, তারা যেন কোনো বিপদে না পড়েন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সজাগ রয়েছে।

আমানতকারীরা কতদিনের মধ্যে অর্থ ফেরত পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আমরা এ কার্যক্রম সম্পন্ন করব। তবে যেহেতু আমরা আদালতে যাচ্ছি, এটা এখন আদালতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমানতকারীদের অর্থ যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করব।

আমানতকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটাও সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এই প্রথম আর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন হলো। দেশে বর্তমানে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনেক আমানতকারী পিপলস লিজিংয়ের অফিসে আসছেন। কিন্তু তথ্য জানানোর মত কোনো কর্মকর্তা অফিসে নেই।

আরও পড়ুন: পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন

আপনার মতামত লিখুন :

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল
বাংলাদেশ ব্যাংক

শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে বিশেষ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেক ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণবিশিষ্ট গ্রাহকদের তালিকা তৈরি ও আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (২২জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিআরপিডি’র মহাব্যবস্থাপক একেএম মহিউদ্দিন আজাদ সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকসমূহের অপরাপর সব শ্রেণিকৃত ঋণসহ ১০০ কোটি টাকা এবং তদূর্ধ্ব স্থিতি বিশিষ্ট শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ নিবিড় তদারকি একান্ত আবশ্যক। তাই শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকির নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সব ব্যাংক সংশ্লিষ্ট উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রধান করে একটি বিশেষ তদারকি সেল গঠন করবে। যারা ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকি করবে। তদারকি সেল ত্রৈমাসিক বিবরণীতে বর্ণিত শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব আদায় অগ্রগতিসহ যাবতীয় তথ্য স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানাবে। এ ছাড়া ত্রৈমাসিক বিবরণী পরবর্তী মাসের শেষ কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের টাস্কফোর্স সেলে দাখিল করবে।

এ বিবরণীতে প্রদর্শিত শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা অন্য কোনো কারণে নিয়মিত বলে গণ্য হলেও নিয়মিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৮টি (আট) ত্রৈমাসিক পর্যন্ত তা বিবরণীতে রাখতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ওই বিবরণীর যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের বকেয়া আদায়ের নিমিত্তে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিতভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

আগামী অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ওই বিবরণীর হার্ড ও সফট (এক্সএল সিট) কপি দাখিল করতে হবে। আগামী এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক থেকে আলোচ্য বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

শর্তসাপেক্ষে বহুল আলোচিত কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আইনগতভাবে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ না থাকায় শর্তসাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

সোমবার (২২ জুলাই) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সময় বাড়ানোর অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। এ লক্ষ্যে ডিএসই থেকে শিগগিরই সময় বাড়ানোর জন্য বিএসইসিতে চিঠি দেওয়া হবে।

ডিএসই’র তালিকাভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ওই কোম্পানির আইপিও সাবস্ক্রিপশন (আইপিও আবেদন গ্রহণ) শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে সেই সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজার থেকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন পায়। এ টাকা উত্তোলনে ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি বছরের ২৬ মে’র মধ্যে কোম্পানিটি ডিএসইতে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ডিএসই পর্ষদ অনুমোদন না দেয়ায় কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি আটকে যায়।

এরপর ডিএসই’র পর্ষদ কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে বিএসইসির কাছে দিক-নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেয়। তবে বিএসইসি ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোন দিক-নির্দেশনা বা পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

গত ১১ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ম্যানেজমেন্টের কাঁধে দায়িত্ব দেয় পরিচালনা পর্ষদ। এর আলোকে ম্যানেজমেন্ট কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির বিষয়ে আইন-কানুন পর্যালোচনা করে। যা ডিএসইর আজকের সভায় দাখিল করা হয়। যা যাচাই-বাছাই শেষে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই পর্ষদ।

এর আগে ২৩ মে আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতির অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। আর ৪ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের প্রাকটিসিং লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কোম্পানির নিরীক্ষা কাজের যোগ্যতা হারিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র