Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অভিষ্ঠ লক্ষ্যে বরিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

অভিষ্ঠ লক্ষ্যে বরিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
দ্রুত এগিয়ে চলেছে বরিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বরগুনা থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাইভেট খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে শুধুমাত্র বরিশাল ৩০৭ মেগাওয়াট প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় ২০২২ সালেই উৎপাদনে আসার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্পের কথা জানিয়েছে।

বর্তমান সরকারের হাত ধরে বিদ্যুৎ খাতের অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু খুবই হতাশাজনক চিত্র সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে। দেশীয় একাধিক খ্যাতনামা কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা হাক-ডাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বরিশাল পাওয়ার কোম্পানির বরিশাল ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। কোম্পানিটি ২০১৭ সালের এপ্রিলে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য জমির প্রয়োজন হবে দেড়শ’ একরের মতো। আমরা সেকেন্ড ফেজ মাথায় রেখেই এগিয়ে যাচ্ছি। সেকেন্ড ফেজ অর্থাৎ দ্বিতীয় ইউনিট করতে হলে আড়াইশ’ একরের মতো জমির প্রয়োজন পড়বে। প্রায় দুইশ’ একর জমির মাটি ভরাট শেষ হয়েছে। প্রথম ইউনিটের জন্য যে জমির প্রয়োজন, সেসব জমির উন্নয়ন শেষ।

আর যদি আড়াইশ’ একর ধরি, তাহলে ৭০ শতাংশ জমি ভরাট শেষ হয়েছে। এখন সাইট অফিস নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসে ডরমেটরি নির্মাণসহ অন্যান্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হবে। তখন এক সঙ্গে মূল পাওয়ার প্লান্টের কাজও শুরু হবে বলে জানান আনোয়ার হোসেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের জটিল বিষয় হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ ও বাসিন্দাদের পুনর্বাসন। অন্যান্য জায়গায় পুনর্বাসন নিয়ে জটিলতা থাকলেও এখানে তেমনটি ছিল না। মাত্র ১৩৯টি বাস্তুহারা পরিবার ওই প্রকল্প এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে জমি কিনে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে বলে জানিয়েছে পুনর্বাসিত আইয়ুব আলীসহ অন্যরা।

htt
দ্রুত এগিয়ে চলেছে  বরিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

প্রকল্প এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে শোভা পাচ্ছে এক সময়ের এসব ভাসমান লোকজনের বাসস্থান।

সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, চারদিকে শত শত মেশিনারিজ বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা ও সমান করার কাজ চলছে। ক্রেন দিয়ে ভারি মালামাল ও যন্ত্রপাতি ওঠানো-নামানো চলছে। বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে চলছে বিরামহীনভাবে মাটি লেভেলিংয়ের কাজ। রোলার দিয়ে হচ্ছে মাটি শক্ত করার কাজ। ভরাটকৃত জমিতে কমপ্যাক্ট নিশ্চিত করার জন্য হ্যামার ব্যবহার করে পানি শুষে নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম দিকে পায়রা নদীর কোল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী শেড।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ভেন্ডর। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬.৭৭ টাকা (প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। কয়লার দাম কম থাকলে সেই অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম কমে যাবে।

আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মঈনুল আলম বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ কাজ ৪৫ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসন প্রত্যক্ষভাবে সহোযেগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

‘প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত করতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণও সাহায্য করছে। সবার সাহায্য সহযোগিতা না পেলে এত বড় কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবো,’ যোগ করেন মঈনুল আলম।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পার্টনার পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।’

htt
দ্রুত এগিয়ে চলেছে  বরিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু ওই এলাকার মিঠা পানির সঙ্কট রয়েছে, তাই গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে বরিশাল পাওয়ার কোম্পানি।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প। এটি হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে বলে আমি মনে করি। আমরা চাই, বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক। প্রকল্পের লোকজন আমাদের নিশ্চিত করেছেন, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ তারা করবেন না। আমরাও এ বিষয়ে সজাগ রয়েছি।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা তাহেরা বেগম একজন গৃহকর্মী। স্বামী সাজিম উদ্দিন রিকশা চালক। তিনি পপুলার লা্ইফ ইন্স্যুরেন্সে ২০১৩ সালে ‘একক বিমা’ করেন। টানা তিনটি কিস্তিও দিয়েছেন। কিন্তু এরপর এজেন্ট আর খোঁজ খবর নেয়নি। একবছর পর সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে তারা জানান, নতুন করে পলিসি করতে হবে। আগের পিলিসির মেয়াদ শেষ।

একই কথা বলেছেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পলিসি হোল্ডার রূপা সাহা। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘২০০৯ সালে আমি চট্টগ্রাম শাখায় বিমা করেছিলাম। আড়াই বছর পলিসির টাকা কিস্তি পরিশোধও করি। কিন্তু এরপর এজেন্ট কিস্তি নিতে না আসায় আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০১৫ সালে বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করতে গেলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নিয়ম কানুন দেখিয়ে নতুন করে পলিসি করতে বলে।’

গত এক বছরে এভাবেই নতুন সাড়ে চার লাখ পলিসির টাকা দেশের ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে। গ্রাহকদের টাকা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাড়ি-গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপকক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সরকারি-বেসরকারি ৩২ বিমা কোম্পানির পলিসির সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪২টিতে। ফলে এক বছরে নতুন পলিসির সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫টি। টাকার অংকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

অবাক করার বিষয় হলো, গত এক বছরে বিমা কোম্পানিগুলোতে নতুন পলিসি ইস্যু বেড়েছে মাত্র ৭ হাজার। ২০১৭ সালে পলিসির সংখ্য ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টিতে। অর্থাৎ বিমা কোম্পানিরগুলো নতুন করে পলিসি করতে আগ্রহী নয় বরং গ্রাহকদের অর্থ লুপাটের নেশায় নিমজ্জিত।

এদিকে বিমা কোম্পানির এই অবস্থানকে ‘অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক’ বলে মনে করে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক প্রতিবেদেনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশিরভাগ পলিসিরই প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দেওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে তামাদি হয়ে যাচ্ছে। প্রথম পলিসি নেওয়ার পর এজেন্টরা আর গ্রাহকদের কাছে যাচ্ছেন না। তারা প্রথম বর্ষের কমিশন নিয়েই নতুন পলিসি খুঁজছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পলিসি হারিয়ে গেলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে এজেন্টদের তদারকি করা হচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর পলিসিগুলো তামাদি হয়ে যাচ্ছে। তাতে বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদায়ী বছরের তামাদি বিমার শীর্ষে রয়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে। দ্বিতীয় স্থানে প্রাইম ইসলামী লাইফ, তৃতীয় স্থানে মেটলাইফ ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এরপর যথাক্রমে- হোমল্যান্ড লাইফ, রুপালী লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পপুলার লাইফ, সন্ধানী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার, ডেল্টা লাইফ, প্রগতি লাইফ, মেঘনা লাইফ, সানলাইফ, জেনিথ ইসলামী লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, যমুনা লাইফ, আলফা ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ, সোনালী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং চ্যাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক খলিল আহেমেদ বার্তাটোয়েন্টফোর.কম-কে বলেন, ‘বিমার ওপর সাধারণ মানুষের অস্থা নেই। তাই কোম্পানির তামাদি পলিসি সংখ্যা বাড়ছে। বিমা সেক্টরকে আস্থায় ফেরাতে তামাদি পলিসির সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। এটি নিয়ে কাজ করছি।’

মায়ের জন্য ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন রিকশাচালক

মায়ের জন্য ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন রিকশাচালক
মিলিয়নিয়ার হয়ে মহাখুশি পিরোজপুরের রিকশাচালক আব্দুর রহিম।

মায়ের জন্য কিস্তিতে একটি ওয়ালটন ফ্রিজ কেনেন পিরোজপুরের কামারকাঠী গ্রামের আব্দুর রহিম। সেই ফ্রিজেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে তাদের। রিকশাচালক রহিম হয়ে যান মিলিয়নিয়ার। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে কেনা ফ্রিজে মিলে যায় ১০ লাখ টাকা।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-ফোর এর আওতায় ফ্রিজ ক্রেতাদের এ সুযোগ দিচ্ছে ওয়ালটন। যে কোনো মডেলের ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই প্রতিদিনই ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আছে ১ লাখ টাকা ক্যাশব্যাক, টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ অসংখ্য পণ্য ফ্রি কিংবা নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। এ সুবিধা থাকছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে আব্দুর রহিমের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু, স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির, নেছারাবাদ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম, ওয়ালটনের বিপণন বিভাগের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মশিউর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563616452649.jpg

আব্দুর রহিম জানান, বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং দুই ছেলে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার তার। টাকা ধার করে কেনা রিকশা নিয়ে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তিনি। ৯ জুলাই স্বরূপকাঠীতে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ থেকে ১,৮০৬ টাকার মাসিক কিস্তিতে ফ্রিজটি কেনেন তিনি। এরপর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করলে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায় তার মোবাইলে।

ওয়ালটন ফ্রিজ কেনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই কোম্পানির ফ্রিজ অনেক ভালো। দামেও কম এবং কিস্তি সুবিধায় কেনা যায়।

তিনি বলেন, ‘ওয়ালটনের এত বড় অফারের কথা জানতাম না। মায়ের দোয়ায় এটা হইছে। এই টাকা দিয়া জমি কিনা পোলাপানেরে দিমু যাতে আমি না থাকলেও ওরা চলতে পারে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ওয়ালটন নিয়ে আমাদের গর্ব হয়। দেশে এরকম একটি কোম্পানি আছে যারা বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছে। ওয়ালটনের পণ্য কিনে গ্রাহকরা অনেক খুশি। এ অঞ্চলে ওয়ালটন পণ্য শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

উল্লেখ্য, অনলাইনে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে সারা দেশে এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর এবং ক্রয়কৃত পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে, ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে গেলেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত কাক্সিক্ষত সেবা মিলবে। সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন।

এর আগে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন আরও তিনজন। তারা হলেন, চাঁদপুরের মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ জাকির, কুমিল্লার রাজমিস্ত্রি নাজমুল হাসান এবং ফেনীর কাঠমিস্ত্রি মোহাম্মদ ইয়াছিন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র