Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রণোদনায়ও থামছে না পুঁজিবাজারের দরপতন

প্রণোদনায়ও থামছে না পুঁজিবাজারের দরপতন
প্রতীকী
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাঁচ দফা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল বাজেট ঘোষণার পর পুঁজিবাজার চাঙা হবে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর থেকেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে চলছে অব্যাহত দরপতন। সবশেষ সাত কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই কমেছে সূচক। ফলে বিনিয়োগকারীরা সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পুঁজি হারিয়েছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে কোম্পানির রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ এবং কর পরিশোধ করে বোনাস শেয়ার/লভ্যাংশ দিলে তার ওপর আরও ১৫ শতাংশ কর আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে। তবে কোম্পানির রিজার্ভের ওপর প্রস্তাবিত কর হার বাতিল এবং আবাসন ও শিল্প খাতের মতো পুঁজিবাজারে বিনা শর্তে কালো টাকা বিনিয়োগের বিধান থাকলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, গত ১৩ জুনের পর থেকে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৮৭ পয়েন্ট। আর বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছেন পাঁচ হাজার ১৪৯ কোটি টাকার বেশি।

প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার পরিবর্তে রিটেইনড আর্নিংস বা বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ হিসেবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড পান না বিনিয়োগকারীরা। ফলে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে৷ এ ধরনের প্রবণতা রোধে কোম্পানির কোন আয় বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে যতটুকু বেশি হবে তার ওপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

বাজেটে রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উদ্যোক্তারাই কোম্পানি চালাবেন। তারাই শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবেন এবং লভ্যাংশ দেবেন। কোম্পানি পুঁজি গঠনের জন্য কাজ করবে। তবে এই পুঁজি গঠনের প্রক্রিয়া যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটে রিজার্ভের ওপর ট্যাক্স নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে কোথাও ভুল হয়েছে। কনসেপ্টটা সঠিক নয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তারা বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হবে বলে আশা করছি। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে
ছবি: সংগৃহীত

ডিমিউচ্যুলাইজড পরবর্তী পুঁজিবাজারের অভিভাবক বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জই (সিএসই) এখন সেই অভিভাবক শূন্য। কোনোটিতেই এমডি নেই। দু’টোই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনসহ পুঁজিবাজারের প্রাথমিক কাজ করার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। আর এ দায়িত্বটি সম্পূর্ণ পালন করেন এমডি। কিন্তু বাজারের ক্রান্তিকালে গত ১২ দিন ধরে ডিএসইতে এমডি নেই। অপর বাজার সিএসইতে নেই দেড় মাস ধরে। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই চলছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টির কার্যক্রম। পূর্ণকালীন এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এমডি নিয়োগ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বসে আছে লোক দেখানো আইন সংস্কারের ফুলঝুরি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার কিংবা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ডিএসইর সদস্যদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন এমডি অব্যশক। আর তাকে অব্যশই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। তাহলে তার পরিকল্পনার আলোকেই স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশনেরও তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেন বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে তো স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এমডির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে তো একজন পূর্ণকালীন এমডি থাকা আরো বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসইর পর্ষদ এমডির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে থাকলে বিএসইসির সেটি অনুমোদন করা উচিত। যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে তার মেয়াদ বাড়ানো না যায়, তাহলে সেটিও দ্রুত জানানো উচিত। যাতে করে ডিএসইর পর্ষদ নতুন এমডি নিয়োগে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। আর সিএসইকেও দ্রুত একজন যোগ্য এমডি খুঁজে বের করতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য মতে, ডিএসইর এমডি হিসেবে কেএএম মাজেদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ১১ জুলাই। তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য পাঠায় ডিএসইর পর্ষদ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। ফলে ডিএসইর সব ধরনের কার্যক্রম আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর পুঁজিবাজার সিএসইর এমডি হিসেবে এম সাইফুর রহমান মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে এক্সচেঞ্জটির মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নতুন এমডি নিয়োগ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতেও।

নাম না প্রকাশের শর্তে সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘সিএসইর পর্ষদ সাইফুর রহমানকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেনি। এরপর এক্সচেঞ্জটি এ পর্যন্ত দুই দফা এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। আশা করি, পেয়ে যাব।’

এদিকে অভিভাবকহীন পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের পর আরেক দফা ধস নামছে। নতুন এ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। আর তাতে সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলমান দরপতন আবারও ধসে রূপ নিয়েছে। ফলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান সূচক কমে আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। আর তাতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পুঁজি হারাচ্ছেন। যা  আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ২০ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিলো ৪ হাজার ৯৩১ পয়েন্ট। আর সোমবার (২২ জুলাই) সেই সূচক সকাল ১১ টা ৪০ মিনিট পর্য‌ন্ত সময়ে আগের দিনের চেয়ে ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজা ৯২৬ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৩৬ পয়েন্ট ।

এইকই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)ও। সেখানে সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৯৯ পয়েন্ট। নতুন করে পুঁজিবাজারের এই ধস যেন ২০১০ সালের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছেন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সব পুঁজি শেষ হয়ে যাবে এমন শঙ্কায় শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা  কাজ করছে।

এ দিকে সর্বশেষ ১৫ কার্য‌দিবসে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হাওয়া হয়েছে ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৫০০কোটি ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৭৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র