Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মুনাফার ভাগ পাচ্ছেন না প্রাণের শেয়ারহোল্ডাররা

মুনাফার ভাগ পাচ্ছেন না প্রাণের শেয়ারহোল্ডাররা
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মুনাফা হচ্ছে, আর্থিক প্রতিবেদনেও দেখাচ্ছে, কিন্তু শেয়াহোল্ডারদেরকে সেই মুনাফার প্রকৃত ভাগ দিচ্ছে না এগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রাণ গ্রুপ। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে মুনাফার এই টাকা রিজার্ভ নামক ফান্ডে রেখে দিচ্ছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এএমসিএল-প্রাণ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৮ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫-১৮ সাল পর্যন্ত ৩২ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে। অথচ কোম্পানির মুনাফা পরিমাণ হিসাবে দেখা গেছে ৫০-৬০ শতাংশ হারে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারতো। কিন্তু তা না করে শেয়ারহোল্ডারদের ঠকাচ্ছে।

পাশাপাশি কোম্পানির মালিকানায় যাতে নতুন করে কেউ আসতে না পারে, সে জন্য বোনাস শেয়ার লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছে না। আর প্রতিবছরের এই অর্থ রির্জাভে জমা হচ্ছে। এমন অযৌক্তিক রিজার্ভ বৃদ্ধিকে নিরুৎসাহিত করতে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার কর আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জানানো হয়েছে, কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বঞ্চিত করে সংরক্ষিত আয় হিসাবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের প্রবণতা রোধে কোম্পানির কোনো আয় বছরে সংরক্ষিত আয়, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে অতিরিক্ত অংশের উপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। 

এদিকে, ন্যূনতম ‍২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হওয়ায় এএমসিএল-প্রাণের পরিচালক পদ হারানো উজমা চৌধুরী আবারও ফিরছেন পরিচালনা পর্ষদে। তবে তিনি এবার নমিনি পরিচালক হিসাবে পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। ফলে যে উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ার ধারণের নির্দেশনা দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।

বিএসইসি ২০১১ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়ে উজমা চৌধুরী পর্ষদ থেকে বাদ পড়েন। ওইসময় শেয়ার ধারণে ব্যর্থ পরিচালকদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করা হয়। তবে তিনি শেয়ার ধারণ না করেই আবারও পর্ষদে ফিরে এসেছেন। এবার তিনি প্রাণে নমিনি পরিচালক হিসাবে এসেছেন।

উজমা চৌধুরী এখন এম-এস প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পক্ষে এএমসিএল প্রাণের পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৭ অক্টোবর পর্ষদে যোগ দিয়েছেন।

২০১১ সালে শেয়ার ধারণে ব্যর্থতার কারণে পর্ষদ থেকে বাদ গেলেও কোম্পানিতেই থেকে যান উজমা চৌধুরী। তবে পর্ষদে না, সেটা ম্যানেজম্যান্ট। তিনি ম্যানেজম্যান্টে ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে প্রাণে কাজ চালিয়ে যান।

কোম্পানির তথ্য মতে, প্রাণের এই কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৮ কোটি টাকা। আর কোম্পানিটিতে শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটির (রিটেইন আর্নিংস, প্রিমিয়াম, রিভ্যালুয়েশন সারপ্লাস ও পরিশোধিত মূলধন) পরিমাণ ৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুনাফার ৪৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মুনাফার বাকি ৫৪ শতাংশই রেখে দেওয়া হয় রিজার্ভ নামক ফান্ডে। তবে সেই বছর শেয়ারহোল্ডারা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ পায়নি।

একইভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মুনাফার ৪৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৮ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৭ শতাংশ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৬ শতাংশ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশে দেয়। এ হিসাবে প্রতিবছরই মুনাফার বেশি অংশই কোম্পানিতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

প্রাণে মুনাফার বড় অংশ নিয়মিত রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৪৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ইক্যুইটি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে ৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এসময় ইক্যুইটির পরিমাণ বেড়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ২৪ শতাংশ। কিন্তু মুনাফা আগের মতো রয়েছে।

দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার মুনাফা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা মুনাফা হয়।

মুনাফার মতোই কোম্পানির গত ৫ অর্থবছরে লভ্যাংশে কোনো উন্নতি হয়নি। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিবছরই ৩২ শতাংশ হারে শেয়ারপ্রতি ৩.২০ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছেন।

প্রাণের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট ২৫৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রয় হয়েছে। এরমধ্যে কোম্পানিটি থেকে ১২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বুধবারও (২৪ জুলাই) মতিঝিলের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারারীরা। দুপুরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীরা এসব কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় পরিষদের সভপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে এখন মেকিং প্লে চলছে। এটা কুচক্রীদের চক্রান্ত।

দরপতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের পদত্যাগসহ ১৫ দফা দাবি জানান বিনিয়োগকারীরা।

দেশের প্রথম অনলাইন ইন্সুরেন্স পলিসি ‘নিরাপদ’

দেশের প্রথম অনলাইন ইন্সুরেন্স পলিসি ‘নিরাপদ’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ইন্সুরেন্স পলিসি সেবা অনলাইনে দেওয়া এবং এর গতি আরো দ্রুত করার জন্য দেশের অন্যতম নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড চালু করেছে ‘নিরাপদ’। এই ইন্সুরেন্স পলিসির মাধ্যমে নিরাপদ হবে দেশের একমাত্র পরিপূর্ণ প্রাইভেট কার ইন্সুরেন্স পলিসি।

তাছাড়া, একটি গাড়ি নিজস্ব ক্ষতি, তৃতীয় পক্ষের শারীরিক ক্ষতি মৃত্যু এবং সম্পদের প্রতি ব্যক্তিগত দুর্ঘটনায় দায়বদ্ধতা সহ গাড়ির ট্র্যাকারও কভার করবে এটি। এছাড়াও এই পলিসি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কভারেজ অন্যান্য বিবিধ বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবে।

বুধবার (২৪ জুলাই) ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইন্সুরান্স পলিসি ঘোষণা দেয় নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিটল ইন্স্যুরেন্স চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম মনিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন ও নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাটলুব আহ্মদ।

Nirapod

মনিরুল হক বলেন, আমাদের গ্রাহকদের জন্য এই ইন্সুরান্স পলিসি শুরু করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি যে, এটা দেশে প্রাইভেট কার ইন্সুরেন্সের ক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে আসবে এটি।

শেখ কবির হোসেন বলেন, নিটল ইন্স্যুরেন্স নতুন নতুন কার্যকরি বিমা নিতে উন্নয়নে অগ্রণী হয়ে উঠেছে। ‘নিরাপদ’ -এর মত নীতিগুলো সামগ্রিক বিমা শিল্পের মান বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আমরা আশাবাদী।

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তার গ্রাহকদের কাছে নতুন মাত্রার ইন্সুরেন্স পলিসি নেওয়ার জন্য বিগত দুই দশক ধরে অবিরত কাজ করে চলেছে। সেই প্রক্রিয়ার সফল আত্মপ্রকাশ হল ‘নিরাপদ’।

বিমা প্রতি গ্রাহকদের আস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি একটি অভিযোগ সেল গঠন করে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে। এই কাজ যদি অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারব। এছাড়া জাতীয় অর্থনীতিতে ডাইভারসিফিকেশনের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে, যার মধ্যে থাকতে পারে প্রবাসীদের বিমা, শিক্ষা বিমাসহ নানা ধরনের স্কিম।

নতুন এ বিমার সেবা গ্রহণ করতে একজন গ্রাহককে গুগল প্লেস্টোর থেকে ‘নিরাপদ‘ অ্যাপ নামিয়ে নিতে হবে। এরপর সেখানে দেখানো পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে গ্রহণ করলে একজন গ্রাহক সহজে একটি বিমার মালিক হতে পারবেন। নিরাপদ বিমার উল্লেখযোগ্য একটি ফিচার হচ্ছে- এ বিমার প্রিমিয়াম কিস্তির মাধ্যমে একজন গ্রাহক পরিশোধ করতে পারবেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র