Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডিএসইতে প্রধান সূচক ৪, সিএসইতে বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট

ডিএসইতে প্রধান সূচক ৪, সিএসইতে বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট
ছবি: বার্তা২৪
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) প্রধান সূচক ও লেনদেনে বেড়ে শেষ হয়েছে এ দিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪ পয়েন্ট এবং সিএসইতে সিএসসিএক্স বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ১৪ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক বেড়ে যায়। প্রথম ১০ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ২ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের পর সূচক ৮ পয়েন্ট বাড়ে। তবে এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতায় কমতে থাকে। বেলা ১১টার পর সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হয়ে যায়। আর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সূচক কমে ১৭ পয়েন্ট। আর বেলা সাড়ে ১১টায় সূচক প্রায় ১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে বেলা পৌনে ২টার পর থেকে সূচক আবারও ইতিবাচক হতে থাকে। বেলা ২টায় সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট এবং বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৭৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৯১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ২৪৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৩৮ এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বৃহস্পতিবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- সিলকো ফার্মা, এসকে ট্রিমার, জেএমআই সিরিঞ্জ, বিবিএস কেবল, জেনেক্সিল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাস ফাইন্যান্স, ইস্টার্ন হাউজিং, পিপলস ইন্স্যুরেন্স এবং সিঙ্গার বিডি।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫২০ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৭৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- সিলকো ফার্মা, নর্দান ইন্স্যুরেন্স, ফাস ফাইন্যান্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ডায়িং এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স।

আপনার মতামত লিখুন :

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে
ছবি: সংগৃহীত

ডিমিউচ্যুলাইজড পরবর্তী পুঁজিবাজারের অভিভাবক বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জই (সিএসই) এখন সেই অভিভাবক শূন্য। কোনোটিতেই এমডি নেই। দু’টোই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনসহ পুঁজিবাজারের প্রাথমিক কাজ করার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। আর এ দায়িত্বটি সম্পূর্ণ পালন করেন এমডি। কিন্তু বাজারের ক্রান্তিকালে গত ১২ দিন ধরে ডিএসইতে এমডি নেই। অপর বাজার সিএসইতে নেই দেড় মাস ধরে। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই চলছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টির কার্যক্রম। পূর্ণকালীন এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এমডি নিয়োগ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বসে আছে লোক দেখানো আইন সংস্কারের ফুলঝুরি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার কিংবা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ডিএসইর সদস্যদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন এমডি অব্যশক। আর তাকে অব্যশই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। তাহলে তার পরিকল্পনার আলোকেই স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশনেরও তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেন বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে তো স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এমডির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে তো একজন পূর্ণকালীন এমডি থাকা আরো বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসইর পর্ষদ এমডির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে থাকলে বিএসইসির সেটি অনুমোদন করা উচিত। যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে তার মেয়াদ বাড়ানো না যায়, তাহলে সেটিও দ্রুত জানানো উচিত। যাতে করে ডিএসইর পর্ষদ নতুন এমডি নিয়োগে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। আর সিএসইকেও দ্রুত একজন যোগ্য এমডি খুঁজে বের করতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য মতে, ডিএসইর এমডি হিসেবে কেএএম মাজেদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ১১ জুলাই। তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য পাঠায় ডিএসইর পর্ষদ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। ফলে ডিএসইর সব ধরনের কার্যক্রম আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর পুঁজিবাজার সিএসইর এমডি হিসেবে এম সাইফুর রহমান মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে এক্সচেঞ্জটির মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নতুন এমডি নিয়োগ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতেও।

নাম না প্রকাশের শর্তে সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘সিএসইর পর্ষদ সাইফুর রহমানকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেনি। এরপর এক্সচেঞ্জটি এ পর্যন্ত দুই দফা এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। আশা করি, পেয়ে যাব।’

এদিকে অভিভাবকহীন পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের পর আরেক দফা ধস নামছে। নতুন এ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। আর তাতে সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলমান দরপতন আবারও ধসে রূপ নিয়েছে। ফলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান সূচক কমে আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। আর তাতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পুঁজি হারাচ্ছেন। যা  আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ২০ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিলো ৪ হাজার ৯৩১ পয়েন্ট। আর সোমবার (২২ জুলাই) সেই সূচক সকাল ১১ টা ৪০ মিনিট পর্য‌ন্ত সময়ে আগের দিনের চেয়ে ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজা ৯২৬ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৩৬ পয়েন্ট ।

এইকই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)ও। সেখানে সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৯৯ পয়েন্ট। নতুন করে পুঁজিবাজারের এই ধস যেন ২০১০ সালের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছেন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সব পুঁজি শেষ হয়ে যাবে এমন শঙ্কায় শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা  কাজ করছে।

এ দিকে সর্বশেষ ১৫ কার্য‌দিবসে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হাওয়া হয়েছে ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৫০০কোটি ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৭৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র