Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

বাজেটে ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

বাজেটে ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘোষণাকালে এই ঘাটতি উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল সোয়া ৩টায় জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের' শিরোনামে দেশের ৪৮তম বাজেট ঘোষণা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটা তার প্রথম বাজেট। আর আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট এটি।

তিনি বলেন, '২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করছি। এর মধ্যে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ টাকা। আর পরিচালন ব্যয় তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকার প্রস্তাব করছি।'

এবারের বাজেট মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশ। টাকার অংকে বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির পরিমাণ ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'সবচেয়ে বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৭৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করছি। বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ও এনবিআর-এনবিআর বহির্ভূত সবমিলিয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার। ফলে এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির রাখার প্রস্তাব করছি।'

এর আগের অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ছিল এক লাখ ২১ হাজার ২৪২ টাকা। এই ঘাটতি পূরণের বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া প্রস্তাব ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, ঘাটতির এই টাকা ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেবে ৪৭ হাজার ৩৬৪কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত খাত তেকে ঋণ নেওয়া হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা, জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়াও অন্যান্য খাত থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে স্বল্প মেয়াদে ১৯ হাজার ২৭০ কোটি এবং দীর্ঘমেয়াদে ২৮ হাজার ৯৪ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

অপরিকল্পিত ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই চামড়ার বাজারে ধস!

অপরিকল্পিত ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই চামড়ার বাজারে ধস!
পোস্তায় লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ফিরে: রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ থেকে সাভারে অপরিকল্পিতভাবে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই দেশের চামড়া শিল্প খাতে ধস নেমেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ট্যানারি কেন্দ্রীক সমস্যার সমাধান না হলে এ শিল্পে পূর্ণ যৌবন ফিরবে না।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) শিল্প নগরীর ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: গত বছরের চামড়া মজুদ, নতুন চামড়া কেনার কদর নেই

ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই দেশের চামড়া শিল্পে ধস নামেনি। দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে নানান অব্যবস্থাপনার কারণে চামড়া শিল্পে আজ এই দুরবস্থা। গত ৩০ বছর ধরে অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়া কেনেন। কিন্তু তারা এখন বাংলাদেশ বিমুখ। এটা হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা আর এদেশ থেকে চামড়া নিতে চাইছেন না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় তারা অন্যদেশ থেকে চামড়া কিনছেন।

আরও পড়ুন: কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি..

হেমায়েতপুরের ট্যানারি পল্লীর এস বি শাহী ট্যানারির লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান ভূঁইয়া সাজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘হাজারীবাগে থাকতে বিদেশি ক্রেতাদের অনেক চাপ থাকতো। সে সময় দেশের চামড়া শেষ করে আমদানি করা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে হতো। কিন্তু এখন গত বছরের চামড়াই বিক্রি করতে পারিনি। ক্রেতা না থাকলে বিক্রিও করবো কাদের কাছে।‘

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565939243399.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতা হারানোর অন্যতম কারণ হাজারীবাগ থেকে অপরিকল্পিতভাবে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর।’

শিফন হালদার নামে আরেক ট্যানারির মালিক বলেন, ‘ইউরোপ আর আমেরিকার ক্রেতারা না থাকায় চীনের ক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছে। তারা ফুটপ্রতি চামড়া এক ডলারে অর্ডার দেয়। পরে চামড়া তৈরি হওয়ার পর এসে বলে ৭০ সেন্ট করে দেবে, না হলে আমাদের কাছ থেকে চামড়া নেবে না। ফলে লোকসান হলেও ক্রেতা ধরে রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করি। এভাবে লোকসান দিতে থাকলে আমরা কতদিন টিকবো?’

আরও পড়ুন: কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের দিকে সরকার এক নোটিশে হাজারীবাগ থেকে ২২২টি ট্যানারি বন্ধ করে দেয়। তখন সাভারের হেমায়েতপুরে কিছুই হয়নি। এরপর দুই-তিন বছর সময় লাগলো হেমায়েতপুরের ট্যানারিপল্লী স্থানান্তর হতে। এই সময়ের মধ্যে ক্রেতারা বসে থাকেনি। নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে তারা অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে চলে গেছে। আর এরপর থেকেই ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। ফলে দেশের চামড়া শিল্পে ধস নামতে থাকে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে হেমায়েতপুরে ট্যানারিপল্লী চালু করা হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় পরিশোধন কেন্দ্র (সিইটিপি) এবং ডাম্পিং-এর কাজ শেষ হয়নি। এমনকি অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নও বাকি আছে। এছাড়া আমরা এখনও জমির লিজ বুঝে পাইনি। ফলে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে ট্যানারি স্থানান্তর করায় সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মূলধারায় ফিরতে পারছি না। তাই ক্রেতারা চলে গেছেন অন্য দেশে। তবে এখনও সুযোগ আছে। সরকার যদি আগামী এক বছরের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে দুই বছরের মধ্যে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারব। চামড়ার বাজারও চাঙা হবে।’

কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী-আড়তদাররা

কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী-আড়তদাররা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

গেল কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চামড়া মাটিতে পুতে ফেলে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে চামড়া রফতানি করে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

জানা গেছে, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বাকি থাকায় কাঁচা চামড়া রফতানিতে আগ্রহী পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

তাদের দাবি, কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে অন্তত ট্যানারি মালিকদের কাছে বছরের পর বছর টাকা বাকি রাখতে হবে না। আর দেশের মানুষও চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাবেন। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কারণ কাঁচা চামড়া রফতানি হলে তাদের আর প্রয়োজন পড়বে না। ফলে তারা বেকার হয়ে যেতে পারেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তে আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাইরের অনেক এজেন্সি ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কিন্তু আমাদের লাইসেন্স নাই। সরকার চাইলে ১০-১২ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দিতে পারে। কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ- কাঁচা চামড়া রফতানি হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু আমরা তাদের ক্ষতি করতে চাইনি। শতকরা ৯০ ভাগ ট্যানারি মালিক ব্যবসায়ীদের টাকা বাকি রেখেছেন। ফলে এই পরিবর্তনের দায় তাদের নিতে হবে। কাঁচা চামড়া রফতানি শুরু হলে ট্যানারি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সত্য। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটা পথ বের হবে। আমরা আর কতদিন টাকা বাকি রেখে চলব? আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা চাচ্ছি কাঁচা চামড়া রফতানি হোক। চীনে কাঁচা চামড়ার অনেক চাহিদা আছে।’

পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী নিজামুল হক অ্যান্ড সন্সের মালিক মো. নিজামুল হক নজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে আমরা উপকৃত হব। কিন্তু রফতানি করবে কে? সরকার নাকি ব্যবসায়ীরা সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকার যদি আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে রফতানি করে তাহলে আমরা বেশি উপকৃত হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া রফতানি হলে এই সেক্টরের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া ফিনিশড চামড়া তৈরি করতে অনেকে বিদেশ থেকে মেশিন কিনে এনেছেন। এখন এগুলোর কী হবে? তবে সরকার ফিনিশড চামড়ার সঙ্গে ব্লু (প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করা) চামড়াও রফতানি করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া চামড়া শিল্প নগরী সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে অনেকে বেকার হয়ে পড়বেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র