Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অর্থমন্ত্রীর প্রথম, দেশের ৪৮তম বাজেট

অর্থমন্ত্রীর প্রথম, দেশের ৪৮তম বাজেট
প্রতীকী
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট সংসদে উত্থাপিত হবে বৃহস্পতিবার। এটি হবে দেশের ইতিহাসে ৪৮তম বাজেট। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তাফা কামালের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে প্রথম বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।

এবার বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি বাজেট আগের বাজেটের আকার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন। এটি হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৯তম বাজেট। প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাজেট সারণি তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী। বিকেল ৩টায় বাজেট উত্থাপনের আগে বিকেল ২টায় সংসদ ভবন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হবে। এরপর নতুন অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হবে। বাজেট বক্তৃতা শেষে অর্থমন্ত্রী ‘অর্থ বিল- ২০১৯’ সংসদে উত্থাপন করবেন। কতিপয় আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলটি আগামী ৩০ জুন পাস হবে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা আলোচনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন পাওয়ার পর বাজেট বিলে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এরপর সংসদে নিজ কক্ষে বসে বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করবেন তিনি। এছাড়াও প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এজন্য সংসদ ভবন ও তার আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাজেটের সবকিছু চূড়ান্ত করেছেন। বাজেটের সব ডকুমেন্ট ছাপা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতার বই ছাপার কাজ শেষ পর্যায়ে। বৃহস্পতিবার সকালেই তা পৌঁছে যাবে সংসদ সচিবালয়ে। অধিবেশন শুরুর আগে তা পৌঁছে দেওয়া হবে সংসদ সদস্যদের টেবিলে।

গত মঙ্গলবার (১১ জুন) থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। যা আগামী ১১ জুলাই শেষ হবে। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ জুন বাজেট পাসের পর এক সপ্তাহের বিরতি দিয়ে ৭ জুলাই থেকে পুনরায় অধিবেশন বসবে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পাশাপাশি বিএনপি ও গণফোরাম সদস্যদের অংশগ্রহণে পুরো অধিবেশন উত্তপ্ত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে যান ৭২ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে তিনি হাসপাতালেই থেকে যান। সংসদে বাজেট পেশের দুই দিন আগে অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ তৈরি হলেও বুধবার বিকেলে তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনে অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাজেট দেন। তিনি ও বিএনপি আমলের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ১২টি করে বাজেট দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

টিভি অনুষ্ঠান চলাকালেই খাবার পৌঁছে দিল 'সহজ’

টিভি অনুষ্ঠান চলাকালেই খাবার পৌঁছে দিল 'সহজ’
অনুষ্ঠানেই অর্ডার, অনুষ্ঠান চলাকালেই পৌঁছে গেল খাবার, ছবি: সংগৃহীত

টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে অনুষ্ঠান চলাকালীন স্বল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপের অর্ডারে উপস্থাপকের কাছে খাবার পৌঁছে দিল সহজ অ্যাপ।

সোমবার (২৪ জুন) বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলার বিরতিতে গাজী টেলিভিশনে ‘বাংলালিংক পাওয়ার প্লে’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা জান্নাত অতিথি খালেদ মাসুদ পাইলটের জন্য সহজ অ্যাপে খাবার অর্ডার করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের মধ্যে খাবার নিয়ে ডেলিভারি ম্যান উপস্থিত হলে চমকিত হন উপস্থাপিকা এবং আমন্ত্রিত অতিথি।

সহজ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা যেকোনো সময় খাবার অর্ডার করতে পারেন, সহজেই!

উল্লেখ্য, দেশের পরিবহন টিকিট সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করা সহজ.কম সম্প্রতি সহজ ফুড সেবার মাধ্যমে শহরের ব্যস্ত মানুষদের স্বল্প সময়ে পছন্দের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

‘করের বোঝায় থমকে গেছে টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধি’

‘করের বোঝায় থমকে গেছে টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধি’
টিআরএনবি'র বাজেট পরবর্তী গোলটেবিল বৈঠকে টেলিকম খাতের সংশ্লিষ্টরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

টেলিকম খাতের উপর করের বোঝা চাপিয়ে এর প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। ‘প্রস্তাবিত বাজেট: টেলিকম খাতের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিলে মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এই মন্তব্য উঠে আসে।

টিআরএনবি’র সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এতে শুরুতে বক্তব্য রাখেন টিআরএনবি’র সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার খান শিপু এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবি’র ট্রেজারার শামীম জাহাঙ্গীর। বৈঠক সঞ্চালনা করেন টিআরএনবি’র সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

বৈঠকে রবি’র সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি আমাদের সাথে থাকে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। টেলিকম খাতে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ সরকারি খাতে চলে যায়। আমরা কেন গ্রামীণফোনের মতো মুনাফা করব না? টেলিটক আইসিইউতে রয়েছে। এটি বাদে বর্তমানে তিনটি কোম্পানি রয়েছে। তারাও যদি টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তা এই খাতের জন্য নেতিবাচক হবে।’

মোবাইল ফোন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়ে এসেছে, সেখানেই করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এই খাত থেকে করের বোঝা কমানোর দাবি জানাচ্ছি।’

টেলিটকের ডিজিএম সাইফুর রহমান খান বলেন, ‘টেলিকম খাতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এতে আমাদের মতো ছোট কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।’

বাংলালিংকের হেড অব ট্যাক্স সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘সরকারের বেশ কিছু টার্গেট রয়েছে। আর এই টার্গেট পূরণের জন্য টেলিকম খাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য খাতকেও টার্গেট করা যেতে পারে। এ ধরনের পরোক্ষ কর না বাড়িয়ে আয়করের দিকে সরকারের বেশি নজর দেওয়া উচিত।’

গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, ‘এই খাতের মধ্যে আমরাই প্রথম পুঁজিবাজারে গিয়েছি। এজন্য করপোরেট ট্যাক্সের উপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে। পুঁজিবাজারে যাওয়ার তিন বছরের মাথায় কর রেয়াত ৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে অন্য কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে যেতে নিরুৎসাহিত হবে।’

এমটবের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘টেলিকম খাতে ১০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই। সেই সঙ্গে সিম ট্যাক্স এই খাতের প্রবৃদ্ধিকে থামিয়ে দিচ্ছে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর কিংবা ভ্যাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্ম্যার্টফোনের সুফলের চেয়ে কুফলও বেশি দেখা যাচ্ছে। খুব বেশি স্ম্যার্টফোনের দরকার নেই। সব নীতিমালাতে ভালো ফল দেবে, তা আশা করতে পারেন না।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টেলিটকের মতো প্রতিষ্ঠানকে রাখি বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এছাড়া সরকারের কিছু কাজ টেলিটক করে থাকে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও তাকে কর, ভ্যাট দিতে হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র