Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা পাচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প

৩ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা পাচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প
ছবি: বার্তা২৪.কম
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

পোশাক রফতানিকে উৎসাহিত করতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তাতে টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

এ টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বিকেএমইএ ও বিটিএমএ সদস্যসহ বিদেশে রফতানি করা সব পোশাক কারখানা।

সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, রফতানির ওপর আপদকালীন সহায়তা হিসেবে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তার। তাতে সরকারের ব্যয় হতো ১৪ হাজার কোটি টাকা। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাজেটে এই ঘোষণা থাকছে।

এ সহায়তার সঙ্গে সঙ্গে চলতি বাজেটের মতোই নতুন বাজারে রফতানির জন্য ৪ শতাংশ নগদ সুবিধা এবং করপোরেট কর ১০ এবং ১২ শতাংশ হারে থাকছে বাজেটে। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক খাত ৩১ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ পণ্য বিদেশে রফতানি করে থাকে।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা ক্রান্তিকাল পার করছি। তৈরি পোশাক খাত এখন সঙ্কটাপন্ন। গত এক-দেড় মাসে ২৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। যেখানে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে এখন সহায়তা না দিলে সমস্যায় পড়ব। তাই পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো জন্য, আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আগামী বাজেটে সব বাজারে রফতানি পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। একক প্রণোদনা হিসেবে ৫ শতাংশ হারে রফতানিতে ভর্তুকি দিলে টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। আমরা এই সুবিধা আগামী ৫ বছর চাই।

ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ মেয়াদ দ্বিগুণ করার দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, যেসব কারখানা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি নয়, তাদের উৎপাদন কাজে ফিরে যাওয়া এবং ব্যবসা সচল রাখার জন্য সুযোগ হিসেবে পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ দ্বিগুণ করা উচিত। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, সর্বোপরি অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের প্রত্যাশা করছি।

এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানির জন্য ১৬ শতাংশ শুল্ক কর প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছি। এছাড়াও রফতানি পণ্যের ওপর সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি
সাধারণ বিমা করপোরেশন

সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে ৪০টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

পুনঃবিমার প্রিমিয়ামের এই টাকা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেও তা পরিশোধ করেনি বিমা কোম্পানিগুলো।

পাওনা টাকা আদায়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করেছে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও খুব বেশি ফল পায়নি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

নিময় অনুসারে ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলোর বিমার ওপর শতভাগ পুনঃবিমা করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সাধারণ বিমা করপোরেশনে করা বাধ্যতামূলক। বাকি ৫০ শতাংশ পুনঃবিমা কোম্পানি ইচ্ছা করলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করতে পারে।

পুনঃবিমার এ আইন অনুসারে ৪০টি বিমা কোম্পানির কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাবে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করছে না। এতে এসবিসির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমাখাতও। বিমা কোম্পানির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা।

এসবিসি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলো এসবিসিকে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম বাবদ এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, আমরা পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর ক্লেইমগুলো পরিশোধ করছি। যাতে বিমা কোম্পানিগুলো দ্রুত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। আইডিআরএ’র মনিটরিং টিমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, এসবিসি’র সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৫৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৯ টাকা, তৃতীয় অবস্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪২ কোটি ১২ হাজার ৩১ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা ইসলামিক ইসন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩টাকা ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পাওনা রয়েছে।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ টাকা, জনতার কাছে ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকা, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৩২ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭৩ টাকা, কর্ণফুলীর কাছে ২৬ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা, মেঘনার কাছে ২৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৮০ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টাকা, ইস্ট ল্যান্ডের কাছে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ১২৯ টাকা, এশিয়ার কাছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ টাকা, ইসলামী কমার্শিয়ালের কাছে ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ১১ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ৪৩৭ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিকের কাছে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার ১৯১ টাকা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯১ টাকা, সোনার বাংলার কাছে ২ কোটি ৭৮ লাখ২০ হাজার ৯৭ টাকা, রিপাবলিকের কাছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা, মার্কেন্টাইলের কাছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮০ টাকা, সিটি’র কাছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৯০৮ টাকা, প্রভাতীর কাছে ১০ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৬২ টাকা, দেশ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ও রিলায়েন্সের কাছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ টাকা পাবে এসবিসি।

১০ কোটি টাকার নিচে পাওনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, বিডি করপোরেশন, বিডি ন্যাশনাল, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টালের, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন, ফেডারেল,গ্লোবাল, নিটলের, নর্দান, প্যারামাউন্ট, ফনিক্সের, প্রাইম, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড, ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড, সাউথ এশিয়ার, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা রয়েছে এসবিসি'র।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাধারণ বিমা করপোরেশনের কাছে বিমা দাবি পাওনা রয়েছে। পাওনাগুলো সমন্বয় করা হলে খুব বেশি টাকা বাকি থাকবে না।

প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

প্রাইম ব্যাংক ও সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভূক্তি কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকার হিসাবধারীদের মাঝে ঋণ বিতরণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চীফ বিজনেস অফিসার মো: তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ এবং সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর নির্বাহী পরিচালক মো: আব্দুল হামিদ ভূইয়া নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র