Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাইকারি বাজার পেরুলেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ

পাইকারি বাজার পেরুলেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ
কারওয়ান বাজারে শাক-সবজি কিনছেন ক্রেতারা | ছবি: সুমন শেখ
রাকিবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে প্রতিদিন কারওয়ান বাজারে ভিড় জমান রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। খুচরা ক্রেতাদের পাশাপাশি পাইকারি দরে বাজার করতে এখানে আসেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও। তারা কারওয়ান বাজার থেকে পণ্যসামগ্রী কিনে নগরীর অন্যান্য বাজারে বিক্রি করেন খুচরা দামে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ পাইকারি বাজার থেকে বের হলেই পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে পণ্যের দাম আর খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত বদলে যাওয়া দামে বিস্তর ফারাক দেখা যায়।

পাইকারি সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি দরে পটল কেজি ১৫ টাকা কিন্তু খুচরা বিক্রি ৪০ টাকায়। একইভাবে কচু লতি ২৫ টাকা কিনে খুচরা বিক্রি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, চালকুমড়া প্রতি পিস ১০ টাকা দরে কিনে বিক্রি হয় ২০/২৫ টাকায়, কাঁচাকলা হালি ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি ২৫ টাকায়, করলা প্রতি কেজি ১৫ টাকায় কিনে বিক্রি ৩০/৩৫ টাকা, লাউ ২০ টাকায় কিনে বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

তবে লাগামহীন বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। পাইকারি বিক্রেতাদের থেকে প্রতি কেজি ৩৫/৩৬ টাকায় কেনা মরিচ খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৭০ টাকারও বেশি দরে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560153935247.jpg
বাজার সূত্রে জানা যায়, কারওয়ান বাজারের পাইকারি বেচাকেনা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে পাশেই শুরু হয় খুচরা বিক্রি। রাতভর যেখানে পাইকারি বিক্রি হয়েছে সেখানে সকাল থেকে চলে খুচরা বিক্রি। রাতের ফুরিয়ে সকাল হতেই দাম বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। কারওয়ান বাজারে পাইকারির চেয়ে দ্বিগুণ দামে কাঁচাবাজার করেও অনেক ক্রেতা স্বস্তি প্রকাশ করেন। কারণ, কারওয়ান বাজার থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলেই কোনো কোনো পণ্যের দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে যাবে।

নিয়মিত কারওয়ান বাজারে আসেন সরকারি কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, আমি বনশ্রীতে থাকি, সময় সুযোগ পেলেই সকালে চলে আসি কারওয়ান বাজারে। এখানে যে সবজির মূল্য ৩০ টাকা বনশ্রীতে গেলে তার মূল্য দাঁড়ায় ৫০ টাকার বেশি।

ঈদের পরে প্রথম দিন বাজারে এসেছেন জানিয়ে শাহজাহান বলেন, রোজায় যে দামে সবজি কিনলাম ভেবেছিলাম এখন তার চেয়ে কম দামে পাওয়া যাবে। এসে দেখি দামটা আগের মতোই।

কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিদিন ইজারা তুলেন হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, পাইকারি বাজার শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়, শেষ সকাল ৭টায়। এরপর পাইকারি বিক্রি আর থাকে না। সকালের পর বাজার মূল্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা তাদের মতো দাম রাখেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560153958409.jpg
সবজির পাইকারি ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছি। বলতে গেলে অনেকটা কেনা দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ছেড়ে দিচ্ছি। এখন বাজারে তেমন মানুষ নাই। সবজির যোগান প্রচুর। সে দিক থেকে ক্রেতা নেই বললেই চলে।

দাম নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদ মঞ্জিল নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের পরে সব মানুষ এখনও ঢাকায় ফেরেনি। দুই-একদিনের মধ্যেই মানুষ ফিরবে, আমাদের বিক্রিও বেড়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল

সেঞ্চুরিয়ান খেলাপি ঠেকাতে বিশেষ সেল
বাংলাদেশ ব্যাংক

শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে বিশেষ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেক ব্যাংককে ১০০ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণবিশিষ্ট গ্রাহকদের তালিকা তৈরি ও আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (২২জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিআরপিডি’র মহাব্যবস্থাপক একেএম মহিউদ্দিন আজাদ সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকসমূহের অপরাপর সব শ্রেণিকৃত ঋণসহ ১০০ কোটি টাকা এবং তদূর্ধ্ব স্থিতি বিশিষ্ট শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ নিবিড় তদারকি একান্ত আবশ্যক। তাই শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকির নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সব ব্যাংক সংশ্লিষ্ট উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রধান করে একটি বিশেষ তদারকি সেল গঠন করবে। যারা ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব তদারকি করবে। তদারকি সেল ত্রৈমাসিক বিবরণীতে বর্ণিত শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাব আদায় অগ্রগতিসহ যাবতীয় তথ্য স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানাবে। এ ছাড়া ত্রৈমাসিক বিবরণী পরবর্তী মাসের শেষ কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের টাস্কফোর্স সেলে দাখিল করবে।

এ বিবরণীতে প্রদর্শিত শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা অন্য কোনো কারণে নিয়মিত বলে গণ্য হলেও নিয়মিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৮টি (আট) ত্রৈমাসিক পর্যন্ত তা বিবরণীতে রাখতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ওই বিবরণীর যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের বকেয়া আদায়ের নিমিত্তে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। পরিচালনা পর্ষদ নিয়মিতভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

আগামী অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ওই বিবরণীর হার্ড ও সফট (এক্সএল সিট) কপি দাখিল করতে হবে। আগামী এপ্রিল-জুন, ২০২০ ত্রৈমাসিক থেকে আলোচ্য বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন

ডিএসইতে কপারটেকের তালিকাভুক্তির অনুমোদন
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

শর্তসাপেক্ষে বহুল আলোচিত কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আইনগতভাবে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ না থাকায় শর্তসাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

সোমবার (২২ জুলাই) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সময় বাড়ানোর অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। এ লক্ষ্যে ডিএসই থেকে শিগগিরই সময় বাড়ানোর জন্য বিএসইসিতে চিঠি দেওয়া হবে।

ডিএসই’র তালিকাভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ওই কোম্পানির আইপিও সাবস্ক্রিপশন (আইপিও আবেদন গ্রহণ) শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে সেই সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজার থেকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন পায়। এ টাকা উত্তোলনে ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি বছরের ২৬ মে’র মধ্যে কোম্পানিটি ডিএসইতে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ডিএসই পর্ষদ অনুমোদন না দেয়ায় কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি আটকে যায়।

এরপর ডিএসই’র পর্ষদ কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে বিএসইসির কাছে দিক-নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেয়। তবে বিএসইসি ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোন দিক-নির্দেশনা বা পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

গত ১১ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ম্যানেজমেন্টের কাঁধে দায়িত্ব দেয় পরিচালনা পর্ষদ। এর আলোকে ম্যানেজমেন্ট কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির বিষয়ে আইন-কানুন পর্যালোচনা করে। যা ডিএসইর আজকের সভায় দাখিল করা হয়। যা যাচাই-বাছাই শেষে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই পর্ষদ।

এর আগে ২৩ মে আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতির অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। আর ৪ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের প্রাকটিসিং লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কোম্পানির নিরীক্ষা কাজের যোগ্যতা হারিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র