Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার বাজার

ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার বাজার
দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা পদের মসলা, ছবি: বার্তা২৪.কম
তৌফিকুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বাকি আর সপ্তাহখানেক। রাজধানীর মসলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদে মাংস রান্নায় বিভিন্ন ধরনের মসলা দরকার হয়। তাই ঈদের সময় তুলনামূলকভাবে চাহিদা বাড়ে মসলার। বাজার বুঝে এ সময় দামও বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর মসলার বাজারে এরই মধ্যে এলাচের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে যে এলাাচ বিক্রি হতো ২৪০০ টাকায়। এখন তা ২৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজিতে এলাচ বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে এবার জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে ঈদ কেন্দ্রিক মসলার এই বাড়তি দামের বিষয়টি জানা যায়।

Kismis
দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিসমিস, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মসলা ব্যবসায়ী রহমান মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, মসলার আমদানি শুল্ক বেড়েছে। আমাদের খরচ বাড়লে পণ্যের দামের ওপর সে প্রভাব পড়ে। পাইকারি থেকে খুচরা সবখানেই দাম বেড়ে যায়।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মসলা কিনতে আসা মো. আতাউর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের সামনে মসলার দাম বাড়ায় আমরা সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছি। কোনো উৎসব এলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়ে দেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোটা ব্যবসায়ীদের একটা অপকৌশল। আর আমরা সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়ে তাদের অপকৌশলের বলি হই।

কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী এরাইট স্টোরের মালিক আব্দুল খালেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, বেশির ভাগ মসলার দাম এবার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এলাচ, জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামের দাম কিছুটা বাড়তি। এসব পণ্যের দাম ঈদ উপলক্ষে বাড়েনি। মসলার আমদানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন, আমাদের এখানে এলাচের বড় অংশ আমদানি করা হয় কুয়েত থেকে। সেখানে এলাচের ফলন কম হওয়ায় এবার এলাচের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে জয়ত্রী ও পেস্তা বাদামও এবার কম এসেছে। ফলে দাম একটু বেড়েছে।

ঈদের বাজার করতে আসা রওশন আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের সময় যেহেতু স্পাইসি খাবার বেশি রান্না করা হয়, তাই মসলার চাহিদা একটু বেশি থাকে। তবে মসলা কিনতে এসে দেখি দাম গত মাসের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে যতটুকু কিনতে চেয়েছিলাম তার চেয়ে একটু কম কিনতে হচ্ছে।

সরকারের নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারতেন না বলেও মনে করেন তিনি।

টাউনহলের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত মসলার মজুদ আছে। ঈদকে সামনে রেখে মসলার কোনো সংকট হবে না। মসলার দাম ঈদের আগে আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

Spice

বর্তমান বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি জয়ত্রী ২৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ২০০০ টাকা, পেস্তা বাদাম ১৯০০ থেকে ২১৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১৭০০ টাকা, দারুচিনি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, লবঙ্গ ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, জিরা ৩২০ থেকে ৩২০ টাকা, তেজপাতা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৭০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৫০০ টাকা, জয়ফল ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কিসমিস ৩০০ থেকে ৩৭০ টাকা, আলুবোখারা ৩৩০ টাকা, পোস্তদানা ৯৮০ থেকে ১১৫০ টাকা, কাঠবাদাম ৭৫০ টাকা, কাজুবাদাম ৯০০ টাকা ও চিনাবাদাম ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ভোক্তাদের উদ্দেশে বার্তা২৪.কমকে বলেন, যে সব মসলার দাম বেড়ে গেছে, ক্রেতারা যদি সেগুলো একটু কম কেনেন, তাহলে এসব পণ্যের দাম কমে যাবে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কথায় আছে, ‘চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী'। আমাদের ব্যবসায়ীদের অবস্থা ঠিক ওই রকমই। যারা শুধু লাভের পেছনে ছোটেন, তারা তো ভোক্তার কথা চিন্তা করবেন না।

আপনার মতামত লিখুন :

বিনিয়োগের নতুন প্রস্তাব আসছে: প্রতিমন্ত্রী

বিনিয়োগের নতুন প্রস্তাব আসছে: প্রতিমন্ত্রী
ব্যবসা সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিদিন বিনিয়োগের নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে বলে জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের বিনিয়োগে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকায় প্রতিদিন বিনিয়োগের নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত জেএইচএম গ্রুপের ব্যবসা সম্মেলনে তিনি এসব একথা বলেন।

সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পখাতের বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে শিল্প মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। দেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় একটি শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের জেএইচএম গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন নতুন ভারী ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জেএইচএম গ্রুপের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান বিপ্লব এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে শিল্প প্রতিমন্ত্রী জেএইচএম গ্রুপের শ্রেষ্ঠ ডিলারদের পুরস্কার প্রদান করেন।

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা তাহেরা বেগম একজন গৃহকর্মী। স্বামী সাজিম উদ্দিন রিকশা চালক। তিনি পপুলার লা্ইফ ইন্স্যুরেন্সে ২০১৩ সালে ‘একক বিমা’ করেন। টানা তিনটি কিস্তিও দিয়েছেন। কিন্তু এরপর এজেন্ট আর খোঁজ খবর নেয়নি। একবছর পর সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে তারা জানান, নতুন করে পলিসি করতে হবে। আগের পিলিসির মেয়াদ শেষ।

একই কথা বলেছেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পলিসি হোল্ডার রূপা সাহা। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘২০০৯ সালে আমি চট্টগ্রাম শাখায় বিমা করেছিলাম। আড়াই বছর পলিসির টাকা কিস্তি পরিশোধও করি। কিন্তু এরপর এজেন্ট কিস্তি নিতে না আসায় আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০১৫ সালে বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করতে গেলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নিয়ম কানুন দেখিয়ে নতুন করে পলিসি করতে বলে।’

গত এক বছরে এভাবেই নতুন সাড়ে চার লাখ পলিসির টাকা দেশের ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে। গ্রাহকদের টাকা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাড়ি-গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপকক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সরকারি-বেসরকারি ৩২ বিমা কোম্পানির পলিসির সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪২টিতে। ফলে এক বছরে নতুন পলিসির সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫টি। টাকার অংকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

অবাক করার বিষয় হলো, গত এক বছরে বিমা কোম্পানিগুলোতে নতুন পলিসি ইস্যু বেড়েছে মাত্র ৭ হাজার। ২০১৭ সালে পলিসির সংখ্য ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টিতে। অর্থাৎ বিমা কোম্পানিরগুলো নতুন করে পলিসি করতে আগ্রহী নয় বরং গ্রাহকদের অর্থ লুপাটের নেশায় নিমজ্জিত।

এদিকে বিমা কোম্পানির এই অবস্থানকে ‘অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক’ বলে মনে করে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক প্রতিবেদেনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশিরভাগ পলিসিরই প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দেওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে তামাদি হয়ে যাচ্ছে। প্রথম পলিসি নেওয়ার পর এজেন্টরা আর গ্রাহকদের কাছে যাচ্ছেন না। তারা প্রথম বর্ষের কমিশন নিয়েই নতুন পলিসি খুঁজছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পলিসি হারিয়ে গেলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে এজেন্টদের তদারকি করা হচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর পলিসিগুলো তামাদি হয়ে যাচ্ছে। তাতে বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদায়ী বছরের তামাদি বিমার শীর্ষে রয়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে। দ্বিতীয় স্থানে প্রাইম ইসলামী লাইফ, তৃতীয় স্থানে মেটলাইফ ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এরপর যথাক্রমে- হোমল্যান্ড লাইফ, রুপালী লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পপুলার লাইফ, সন্ধানী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার, ডেল্টা লাইফ, প্রগতি লাইফ, মেঘনা লাইফ, সানলাইফ, জেনিথ ইসলামী লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, যমুনা লাইফ, আলফা ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ, সোনালী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং চ্যাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক খলিল আহেমেদ বার্তাটোয়েন্টফোর.কম-কে বলেন, ‘বিমার ওপর সাধারণ মানুষের অস্থা নেই। তাই কোম্পানির তামাদি পলিসি সংখ্যা বাড়ছে। বিমা সেক্টরকে আস্থায় ফেরাতে তামাদি পলিসির সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। এটি নিয়ে কাজ করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র