Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বায়রা লাইফে অবৈধ উদ্যোক্তা-পরিচালক

বায়রা লাইফে অবৈধ উদ্যোক্তা-পরিচালক
ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ না করেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে উদ্যোক্তা-পরিচালক পদে বহাল থাকার পাশাপাশি লাইফ ফান্ডের বিনিয়োগেও অনিয়ম করছে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া হাজার হাজার বিমা দাবি পরিশোধ না করা এবং শেয়ারহোল্ডারদের টাকা লোপাট করছে কোম্পানিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমা আইন ২০১৩ অনুসারে বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নূন্যতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। বায়রা লাইফের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ লাখ ২১ হাজার ৬০০টি। আর সেখানে কোম্পানির ছয়জন পরিচালকের দুই শতাংশ শেয়ার নেই।

এদের মধ্যে পরিচালক মীর মারফত উল্লাহর এক দশমিক ২৪ শতাংশ, ফজলে আকবর চৌধুরীর এক দশমিক ৫৯ শতাংশ, আবুল বারাকাত ভুঁইয়ার এক দশমিক ৫৬ শতাংশ, অলিউল্লাহর দশমিক ৫৯ শতাংশ, সিরাজ মিয়ার দশমিক ১১ শতাংশ এবং নাছির উদ্দিনের এক দশমকি ৫৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শুধু তাই নয়, ১২ জন উদ্যোক্তা-পরিচালকের জায়গায় অবৈধভাবে ১৮ জন পরিচালক হিসেবে বহাল রয়েছেন। অর্থাৎ ছয়জন শেয়ার গ্রহীতা পরিচালকের জায়গায় উদ্যোক্তা-পরিচালক রয়েছেন। এছাড়াও দু’জন নিরপেক্ষ পরিচালক এবং চারজন উপদেষ্টা পরিচালক রয়েছেন। অথচ বিমা আইন ২০১০ এর ৭৬ ধারার অনুসারে পর্ষদে মোট ২০ জন পরিচালক থাকার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ বিমা আইন লঙ্ঘন হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৬৬২৭ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ

মূলধন ও শেয়ার ধারণ বিধিমালা ২০১৬ এর উপবিধি তিন অনুযায়ী কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ৪০ ধাপ নিবন্ধনের দিন থেকে পরবর্তী তিন বছর পর‌্যন্ত জনসাধারণের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু কোম্পানিটি ২০০০ সালে বিমা ব্যবসার নিবন্ধন দেওয়ার পর থেকে এখনও পরিশোধিত মূলধন বাড়ায়নি। এছাড়া তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে আসার বিধান রয়েছে, কিন্তু আসেনি। জরিমানাও দিচ্ছে না।

বিমা আইনের ১৯৩৮ এর ২৭ ধারা এবং বিমা বিধিমালা ১৯৫৮ এর বিধির ১০ এ অনুসারে লাইফ ফান্ডের ৩০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানিটি বিনিয়োগ করছে ৩০ শতাংশের নিচে। বিমা আইন ও বিধিমালা মানছে না। শুধু তাই নয়, বিমা বিধিমালা ১৯৫৮ এর ১০এ বিধান অনুসারে সরকারি সিকিউরিটিজ ব্যতীত অন্যান্য খাতে ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ করার বিধান থাকলেও তা পূরণ করা হয়নি। যা বিমা আইন ও বিধিমালার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। এতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিয়মাণ হয়।

Baira
বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচলনা পর্ষদ, ছবি: সংগৃহীত


সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিমা দাবি পূরণ না করা, অবৈধভাবে পরিচালক পদে থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অনিয়মের বেশকিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

মোবাইল ফোনে বায়রা লাইফের ভারপ্রাপ্ত এমডি ওমর ফারুক ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকরার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এগুলোর সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বায়রা লাইফ

উল্লেখ্য, সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও নোয়াখালীর ছয় হাজার ৬২৭ জন গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২২ কোটি সাত লাখ টাকা। উল্টো অবৈধ ব্যয় দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকাও লোপাট করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের এ টাকায় চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীসহ কর্মকর্তারা দামি ‘লেক্সাস গাড়ি’ ব্যবহারসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আইসিটি টাওয়ারে ইস্টার্ন ব্যাংকের বুথ

আইসিটি টাওয়ারে ইস্টার্ন ব্যাংকের বুথ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এটিএম বুথ চালু করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে এই এটিএম বুথের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড এক্সটার্নাল অ্যাপেয়ারস জিয়াউল করিমসহ ইস্টার্ন ব্যাংক ও আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উভয় পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে

উভয় পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সূচক বেড়ে শেষ হয়েছে এদিনের লেনদেন। এদিন ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ১৭৭ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ১৭ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ২২ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৪৩ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক বাড়ে ৫৮ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে থাকে। বেলা ১১টায় সূচক ৬৩ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১২টায় সূচক ৫৯ পয়েন্ট, বেলা ১টায় সূচক ৮৩ পয়েন্ট, বেলা ২টায় সূচক ১০৪ পয়েন্ট বাড়ে এবং বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ১১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৭ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৮১৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১৬৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২৭টির, কমেছে ১৫ এবং অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

সোমবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ফরচুন সু, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, ডোরিন পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, বিকন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল বিচ অ্যান্ড রিসোর্ট এবং মুন্নু সিরামিকস।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ১৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪৩৪ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ১৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ২৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- কেয়া কসমেটিকস, জাহিন টেক্সটাইল, এপেক্স স্পিনিং, ফারেইস্ট ফাইন্যান্স, এমারেল্ড অয়েল, ঢাকা ডায়িং, আমরা নেটওয়ার্ক, নাভানা সিএনজি, ইমাম বাটন এবং মাইডাস ফাইন্যান্স।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র