Alexa

২০১৯-২০২০ অর্থবছর

বাজেটে ভর্তুকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে

বাজেটে ভর্তুকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে

আগামী বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে/ ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে মোট বরাদ্দ প্রথমবারের মতো ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি।

ভর্তুকিতে বরাদ্দ বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার উপর দুই শতাংশ প্রণোদনা আর দেশের গ্যাস খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজির) খাতে ভর্তুকি বাবদ আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

গত ২০ অর্থবছর মধ্যে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ৩৮হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ বলছে, প্রদর্শিত ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ প্রকৃত ব্যয় এর আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় বাড়লেও জিডিপির শতকরা হিসাবে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাধারণত, ভর্তুকি বেশি দেওয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি, পোশাক রফতানি ও পাট খাতে। নগদ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে।

তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেওয়া হয় সেগুলোকে এক ধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

ভর্তুকি: আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেওয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছে গ্যাস খাতের এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি, যার পরিমাণ আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত এলএনজি আমদানি খাতে ভর্তুকি বাবদ পেট্রোবাংলাকে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। খাদ্যেও চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১০৪ কোটি টাক বরাদ্দ কমছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রণোদনা: আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকার অংকে কোনো হেরফের হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের মতো আগামীতেও ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। রফতানিতে নগদ প্রণোদনাও রাখা হচ্ছে চার হাজার কোটি টাকা। আর পাট খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা।

নগদ ঋণ: নগদ ঋণ খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। তবে এই এর মধ্যে বিপিসি ও পিডিবির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। বরং অন্যান্য খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় গত কয়েক অর্থবছর ধরে বিপিসি কোনো ভর্তুকি দেয়নি সরকার। আগামী অর্থবছরেও তাই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আর বিদ্যুৎ খাতে পিডিবির ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তাই এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিতেই হয়। কিন্তু সেই টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তার নজরদারি বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ভর্তুকি কমানো দরকার, সেখানে ভর্তুকি বাড়ছে এটা বোধ হয় গ্রহণযোগ্য নয়।’

পুনঃঅর্থায়ন: নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়া ব্যাংক খাত বাঁচাতে আবারো দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই অর্থ মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পূরণে ব্যয় করা হবে। জাতীয় সংসদে আগামী ১৩ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সংকটে পড়া ব্যাংক খাতের ইমেজ উদ্ধারে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্যও পৃথক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সুযোগ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ না কমিয়ে আরও বাড়াবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক খাতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হয়েছে, যার বেশিরভাগরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরেও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে শেষ সময়ে এর পরিমাণ আরেকটু বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সরকারের কাছে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল। সরকার সেই সময় কিছু অর্থ ছাড়ও করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :