Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মহাখালী কাঁচাবাজার: মেয়র সন্তুষ্ট হলেও ক্ষুব্ধ ক্রেতা

মহাখালী কাঁচাবাজার: মেয়র সন্তুষ্ট হলেও ক্ষুব্ধ ক্রেতা
মহাখালী কাঁচাবাজারের একটি মাংসের দোকান, ছবি: সুমন শেখ
মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে কোনও অনিয়ম খুঁজে পাননি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তার মতে, এই বাজারের সব পণ্যই বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যে।

রোববার (১২ মে) আকস্মিকভাবে মহাখালী কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এমন কথাই বলেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। কিন্তু সোমবার (১৩ মে) সরেজমিন গিয়ে এর উল্টো চিত্রই চোখে পড়েছে।

ঠিকই অধিকাংশ দোকানে লোক দেখান নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পণ্য বিক্রি করছেন নিজেদের হাঁকানো দামেই।

অন্যদিকে, বাজার নিয়ে মেয়রকে সন্তুষ্ট দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ক্রেতারা। তারা বলেছেন, মেয়র সন্তুষ্ট হলেও আমরা সন্তুষ্ট না। কেননা, দুই-একটি পণ্য ছাড়া বাজারের প্রায় সব পণ্যই নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী নয়, ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে।

Bazar
মহাখালী কাঁচাবাজারের মুদি দোকানেও পণ্য বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে, ছবি: সুমন শেখ 

 

দেখা গেছে, মাংস ও মুদির দোকানে নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সে দামে মাংস বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫২৫ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না খাসির মাংস, কিন্তু এর নির্ধারিত মূল্য ৭৫০ টাকা। এছাড়া ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ভেড়া ও ছাগীর মাংস। যা বিক্রি হওয়ার কথা ছিল ৬৫০ টাকায়।

জানা গেছে, এই বাজারে কোনও খাসির মাংস বিক্রি হয় না। রোজা শুরু হওয়ার পর দুই-একটি খাসি জবাই করা হয়েছিল, যার দাম কেজি প্রতি ৮০০ টাকার নিচে নামেনি। আর বাকি ছাগীর মাংসকে খাসির মাংস বলে চালিয়ে দিয়ে কখনও ৭০০ বা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া মুদি দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা থাকলেও অধিকাংশ দোকানে তালিকা মেনে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না। এদিকে, সবজির দোকানগুলোতে কোনো মূল্য তালিকাই নেই।

মহাখালী কাঁচাবাজারে আসা মো. আনিস নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, মেয়র সাহেব যখন এসেছিলেন, তখন ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আমরা নির্ধারিত দামে মাংস বা অন্য কোনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই কিনতে পারছি না। তাহলে কীভাবে এই বাজারে অনিয়ম খুঁজে পায়নি সিটি করপোরেশন? একটি দোকানেও কি নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি হচ্ছে? এসব লোক দেখান কথা বললে ব্যবসায়ীরা আরও মাথায় উঠে যাবে।

Capci
সবজির দামও বাড়তি, ছবি: সুমন শেখ 

 

মো. সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতিদিন বাজার মনিটরিং না করে হঠাৎ এসে বলে দিলেই কি হবে যে সব নিয়ন্ত্রণে? আমি তো আজ বাজার করতে এসে মাংস থেকে শুরু করে অধিকাংশ পণ্যই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কিনেছি। এছাড়া অনেক দোকানি মূল্য তালিকা লুকিয়ে রাখেন। অভিযান হলে তালিকা টানিয়ে দেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী এ বাজারের সব থেকে বেশি নিয়ম ভঙ্গ করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। গরু বলে দিচ্ছেন মহিষ, খাসি বলে দিচ্ছেন ছাগী বা ভেড়ার মাংস। আর দামও রাখছেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।

Vegetable
সবজির দামও বাড়তি, ছবি: সুমন শেখ 

 

ক্রেতাদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বাজারের মনু মাংসের দোকানে গিয়ে। দেখা যায়, ছাগীর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে খাসির মাংস বলে। আর দামও চাওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা।

এ ব্যাপারে দোকানের মালিক মো. মনুরুদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনও বাজারেই খাসির মাংস ৮০০-৮৫০ টাকার নিচে নেই। আর যা ৭০০ টাকা বা ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তা ছাগীর মাংস। ৭৫০ টাকায় খাসির মাংস বিক্রি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তালিকায় যাই থাকুক না কেন। আর গরুর মাংস কোথাও ৫২৫ টাকায়, আবার কোথাও ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Atik
বাজার পরিদর্শন করেন মেয়র, ছবি: সংগৃহীত

 

নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পণ্য বিক্রির বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল স্টোরের দোকানি মো. ইসমাইল বার্তা২৪.কমকে বলেন, এ বাজারের মুদি দোকানগুলোতে তালিকা অনুযায়ীই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজি ও মাংসের দোকানের ব্যাপারে কিছু অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং হলে হয়তো তারাও নিয়মের মধ্যেই চলবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে
ছবি: সংগৃহীত

ডিমিউচ্যুলাইজড পরবর্তী পুঁজিবাজারের অভিভাবক বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জই (সিএসই) এখন সেই অভিভাবক শূন্য। কোনোটিতেই এমডি নেই। দু’টোই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনসহ পুঁজিবাজারের প্রাথমিক কাজ করার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। আর এ দায়িত্বটি সম্পূর্ণ পালন করেন এমডি। কিন্তু বাজারের ক্রান্তিকালে গত ১২ দিন ধরে ডিএসইতে এমডি নেই। অপর বাজার সিএসইতে নেই দেড় মাস ধরে। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই চলছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টির কার্যক্রম। পূর্ণকালীন এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এমডি নিয়োগ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বসে আছে লোক দেখানো আইন সংস্কারের ফুলঝুরি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার কিংবা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ডিএসইর সদস্যদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন এমডি অব্যশক। আর তাকে অব্যশই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। তাহলে তার পরিকল্পনার আলোকেই স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশনেরও তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেন বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে তো স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এমডির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে তো একজন পূর্ণকালীন এমডি থাকা আরো বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসইর পর্ষদ এমডির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে থাকলে বিএসইসির সেটি অনুমোদন করা উচিত। যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে তার মেয়াদ বাড়ানো না যায়, তাহলে সেটিও দ্রুত জানানো উচিত। যাতে করে ডিএসইর পর্ষদ নতুন এমডি নিয়োগে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। আর সিএসইকেও দ্রুত একজন যোগ্য এমডি খুঁজে বের করতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য মতে, ডিএসইর এমডি হিসেবে কেএএম মাজেদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ১১ জুলাই। তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য পাঠায় ডিএসইর পর্ষদ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। ফলে ডিএসইর সব ধরনের কার্যক্রম আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর পুঁজিবাজার সিএসইর এমডি হিসেবে এম সাইফুর রহমান মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে এক্সচেঞ্জটির মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নতুন এমডি নিয়োগ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতেও।

নাম না প্রকাশের শর্তে সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘সিএসইর পর্ষদ সাইফুর রহমানকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেনি। এরপর এক্সচেঞ্জটি এ পর্যন্ত দুই দফা এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। আশা করি, পেয়ে যাব।’

এদিকে অভিভাবকহীন পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের পর আরেক দফা ধস নামছে। নতুন এ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। আর তাতে সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলমান দরপতন আবারও ধসে রূপ নিয়েছে। ফলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান সূচক কমে আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। আর তাতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পুঁজি হারাচ্ছেন। যা  আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ২০ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিলো ৪ হাজার ৯৩১ পয়েন্ট। আর সোমবার (২২ জুলাই) সেই সূচক সকাল ১১ টা ৪০ মিনিট পর্য‌ন্ত সময়ে আগের দিনের চেয়ে ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজা ৯২৬ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৩৬ পয়েন্ট ।

এইকই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)ও। সেখানে সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৯৯ পয়েন্ট। নতুন করে পুঁজিবাজারের এই ধস যেন ২০১০ সালের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছেন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সব পুঁজি শেষ হয়ে যাবে এমন শঙ্কায় শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা  কাজ করছে।

এ দিকে সর্বশেষ ১৫ কার্য‌দিবসে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হাওয়া হয়েছে ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৫০০কোটি ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৭৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র