Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে

হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে
হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে/ছবি: বার্তা২৪.কম
তৌফিকুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের। হাইকোর্ট এ পণ্যগুলো বাতিল ঘোষণা করে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও এখনো বাজারে সিটি গ্রুপ, এসিআই, ড্যানিশ, প্রাণসহ নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলো নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ার পরেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর টাউন হল এবং মোহাম্মদপুরের বাজার ঘুরে এইসব নিম্নমানের পণ্য মজুদ ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে সিটি গ্রুপের তীর সরিষার তেল, এসিআই এর লবণ, মসলা, মোল্লা লবণ, প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ড্যানিশের হলুদ গুঁড়া, কাশেন ফুডের সান চিপস, বনফুলের লাচ্ছা সেমাই, প্রাণের লাচ্ছা সেমাইসহ হাইকোর্ট ঘোষিত ৫২টি ভেজাল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে।

টাউনহলের মুদি দোকানদার রমজান আলী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমরা তো জানিনা এসব পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে । কোম্পানিগুলো তো আমাদের কিছু জানায় নি। আমরা মাল কিনি বিক্রি করি আমাদের তো এগুলো জানবার কথা না।'

বাজার করতে আসা নিলয় হাসানের কাছে জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এসিআই এর মত এরকম নামিদামি কোম্পানির পণ্য যদি ভেজাল ও নিম্নমানের হয় আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ভরসা রাখবে কাদের উপরে। তাই আমি মনে করি অচিরেই এ সব নামিদামি কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া উচিত অপসারণ করা উচিত এদের নিম্নমানের পণ্যগুলো বাজার থেকে।'

টাউন হলের আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আপনারা আমাদের কাছে কেন এসেছেন। যেসব কোম্পানিগুলো এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করে এবং আমাদের সাপ্লাই দেয় না তাদের কাছে যান। আমরা সাধারণ বিক্রেতা ক্রেতারা চাই আমরা বিক্রি করি, এখানে আমাদের কোন লাভ নাই। আর সরকার যদি এসব পণ্য নিষিদ্ধ করে থাকে আমরা অবশ্যই সে সব পণ্য বিক্রি করব না।সবার আগে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ করুন তাহলে বাজারে নিম্নমানের পণ্য আসবে না।'

সরকারি চাকরি করেন মোহাম্মদ রাজা মিয়া নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে এসেছেন জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বিএসটিআই যদি এসব পণ্য নিম্নমানের ঘোষণা করে থাকে তাহলে বাজারে আসছে কিভাবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও নজরদারি করা উচিত। জনগণকে ভেজাল মুক্ত পণ্য নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।'

মোহাম্মদপুর মুদির দোকানদার মিম এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমি শুনেছি কিছু পণ্যকে নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে। আমার দোকানে কিছু এসব পণ্য আছে। তবে খুব শীঘ্রই কোম্পানিকে এসব পণ্য ফেরত দিবো। তবে এসব পণ্য যে নিম্নমানের তা কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়নি।'

বাজার করতে আসা মৌসুমি আক্তার বার্তা২৪.কম-কে অভিযোগ করে বলেন, 'রমজান আসলেই এমন তোড়জোড় দেখা যায়। যেসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের তাদের কিছুই হবে না। দুইদিন পরে আবার এসব পণ্য ঠিকই বাজারে পাওয়া যাবে।'

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, '৫২টি পণ্য ভেজাল ঘোষণা করে বাতিল করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। যেসব কোম্পানি ভোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করেন না তাদের জন্য এটা অশনিসংকেত এবং ভোক্তাদের জন্য সুবার্তা।'

এদিকে গত ৩ মে ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। গত ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

আরও পড়ুন: প্রাণ-এসিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২ ভেজাল পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

আপনার মতামত লিখুন :

সৈয়দপুর রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট বৃদ্ধি

সৈয়দপুর রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট বৃদ্ধি
সৈয়দপুর রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট বৃদ্ধি

১ আগস্ট থেকে সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন ৫টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীর বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার। বর্তমানে সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন ৪ টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এয়ারলাইন্স। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭ টা ও ১০ টা, বিকাল ৪ টা এবং সন্ধ্যা ৬ টায় সৈয়দপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। একইভাবে সৈয়দপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ৯ টা ও সাড়ে ১১ টা, বিকাল সাড়ে ৫ টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। নতুন ফ্লাইটটি দুপুর ১ টা সৈয়দপুরের উদ্দেশে এবং দুপুর আড়াইটায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

এছাড়াও নভোএয়ার বর্তমানে প্রতিদিন চট্টগ্রাম রুটে ৫ টি, কক্সবাজার রুটে ৫টি,যশোর রুটে ৫ টি,  সিলেট রুটে ২ টি, বরিশাল, রাজশাহী এবং কলকাতায় ১ টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

নভোএয়ার বর্তমানে একমুখী যাত্রায় চট্টগ্রাম রুটে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০০ টাকা, কক্সবাজার ৩ হাজার ৯০০ টাকা, সৈয়দপুর ২ হাজার ৭০০ টাকা, যশোর ২ হাজার ৭০০ টাকা, সিলেট ২ হাজার ৭০০ টাকা, বরিশাল ২ হাজার ৭০০ টাকা, রাজশাহী ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং কলকাতা রুটে (দ্বিমুখী) ১১ হাজার ৩০০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করছে।

উভয় পুঁজিবাজারে বড় দরপতন

উভয় পুঁজিবাজারে বড় দরপতন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২১ জুলাই) বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এদিন ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯৬ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ১৮৫ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০ কোটি ১৩ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেন শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক বেড়ে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ২৫ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক কমতে থাকে। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক নেতিবাচক হয়ে যায়। এ সময়ে সূচক কমে ১১ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ৯ পয়েন্ট কমে যায়। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক কমে ১৭ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট কমে যায়। বেলা ১১টায় সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে। বেলা ১২টায় সূচক ৬২ পয়েন্ট, বেলা ১টায় সূচক ৮৪ পয়েন্ট, বেলা ২টায় সূচক ৯৪ পয়েন্ট কমে এবং বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৩ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬১টির, কমেছে ২৭৩ এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

রোববার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আছে-ফরচুন সু, ইউনাইটেড পাওয়ার, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, বেক্সিমকো লিমিটেড, সি পার্ল বিচ অ্যান্ড রিসোর্ট, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ১৮৭ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ২৪৪ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭০০ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ৩০৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতে সিএসইর শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো-সি পার্ল বিচ অ্যান্ড রিসোর্ট, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, প্রাইম ফার্স্ট আইসিবি, আইসিবি সোনালী ফার্স্ট, পিএফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয়, ভ্যানগার্ড এএমএল ব্যালেন্সড ফান্ড, এআইবি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র