Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোনো প্রবলেম নেই, পুঁজিবাজার ঠিক আছে: অর্থমন্ত্রী

কোনো প্রবলেম নেই, পুঁজিবাজার ঠিক আছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

টানা তিনমাস ধরে চলা দরপতনকে পুঁজিবাজারের জন্য খারাপ মনে করছেন না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বরং তিনি বলছেন, ‘পুঁজিবাজারের অবস্থাকে আমি খারাপ বলবো না। এটা ঠিক আছে, ভালো আছে। পুঁজিবাজারে এখন কোনো প্রবলেম নেই।’

গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দুই বাজারে দরপতন চলছে। এই দরপতনে সূচক কমেছে ৬০০ পয়েন্ট। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। ক্ষতি ঠেকাতে ব্রোকারেজ হাউজ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে বিনিয়োগকারীরা। সোমবার সন্ধ্যায় (২২এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিএসইসি ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তাহলে বিদেশ সফর শেষে ছুটির দিনে কেন জরুরি বৈঠকে বসেছেন এর জবাবে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন,‌‌‌ ‌‌আপনারা তো পত্রিকায় লিখছেন পুঁজিবাজার নেই, বাংলাদেশ নেই, আমরাও নেই। তাই ছুটির দিনেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) এলাম। সব কিছু জানলাম। আমি তো পুঁজিবাজারে অবস্থা ঠিকই আছে দেখলাম।

উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় সেই রকম ঘটনা ঘঠেছে। মার্কেট কোথায় ফল (ধস) করছে? মার্কেটের সূচক কত ছিলো আগে, সূচক ছিলো সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্ট, সেটা বেড়ে হয়েছিলো ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্ট। এখন সেটা কমে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তাতে এমন কি হয়েছে?

তাহলে মার্কেটে কোনো প্রবলেম নেই বলে মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে উঠা-নামা করতেই পারে। গত ২০ বছর ধরে এতো লম্বা সময় ধরে মার্কেটে দরপতন হয়নি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না এটা ঠিক না। আপনি জানেন না। আগে জেনে আসুন। আর দরপতন হতেই পারে। জাপানে তো ১৯৮৯ সালে ৩৯ হাজার ছিলো সেখান থেকে কমে ২০০৭ সালে সূচক নেমে এসেছে ৭ হাজার পয়েন্টে। আমেরিকায় ১৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ও ভারতে ২১ হাজার থেকে ৭ হাজার এ এসেছিল। তবে ভারতে সেই সূচক এখন ২২ হাজার, ২৩ হাজার উঠে গেছে। সব জায়গাতেই এমন হয়।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে কাউকে জোর করে আনতে পারবেন না। কেউ আসতে চাইলে আসবে। না আসলে নেই। মার্কেট খারাপ আমরা দেখি না। এখানে মার্কেট চলে আপনাদের দ্বারা। আপনারাই চালাচ্ছেন। আপনারা যেভাবে চালান মনে হয় যেনো বাজারই নেই। যেভাবে আঁকে (অংঙ্কন করে) দেখান তাতে মনে হয় বাংলাদেশে শেয়ার মার্কেটেই নেই। কি যে একে দেখান তার অমি বুঝিনা।

আমার কথা বলো, আপনারা যেভাবে দেখান, সেটা হলো ভয় দেখাচ্ছেন, ভয় দেখালে তো হবে না। কারণ আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা তো অনান্য দেশের মতো নয়। অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরা লেখাপড়া জানেন,পুঁজিবাজার বুঝেন,জেনে বুঝে বিনিয়োগ করেন। আর এখানে এই সংখ্যাটা খুবই কম। সবাই যদি বুঝতেন তাহলে বাজার নিয়ে এত শক্তিশালী কমশনের দরকার ছিলো না। অনেক আইন কানুন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বাজারে যারা আসে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়দিন পরপর পুঁজিবাজারে পতন হয়। এরইমধ্যে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে দুটি বড় ধস হয়েছে। এর পেছনে নিশ্চয় কেউ না কেউ আছে। এদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বাজারে কারসাজিকারীদের আইনের আওতায় আনা হয়। জেল জরিমানা করা হয়। সুন্দরভাবে আইন করা আছে। এমনটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে খুবই কম।

একসময় বাজারে মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৮০-৯০ ছিল বলে জানান আহ ম মুস্তফা কামাল। এখন সেটা ১৫-২০ এর ঘরে রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় বাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে। পিই কম থাকা বাজারের জন্য ভালো। এখন শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত অবস্থায় নেই।

আপনার মতামত লিখুন :

সূচক বাড়ছে পুঁজিবাজারে

সূচক বাড়ছে পুঁজিবাজারে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবসে সূচক বেড়ে চলছে দিনের লেনদেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২১ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ৪৬ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং সিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ টাকা।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১৭ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ১৯ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৮ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ২১ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১১টায় সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৪৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ২০৮ পয়েন্টে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮২টির, কমেছে ৭৯টির এবং অপরিবর্তীত রয়েছে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে— ইউনাইটেড পাওয়ার, ন্যাশনাল টিউবস, বেক্সিমকো লিমিটেড, ফরচুন সু, ওরিয়ন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার, জেনেক্সিল, স্টান্ডার্ড সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেন এবং মুন্নু সিরামিকস।

সিএসই
অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৫ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ৮১ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো—তাল্লু স্পিনিং, বিচ হ্যাচারি, বেক্স সিনথ, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, কেয়া কসমেটিকস, অ্যাপোলো ইস্পাত, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিএনএ টেক্সটাইল এবং আল আরাফা ব্যাংক।

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই
পুঁজিবাজার ছবি: সংগৃহীত

ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্থাৎ (এমডি) খুঁজছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ডিএসই কর্তৃপক্ষ এমডি নিয়োগে পত্রিকার পাশাপাশি ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে সিএসই দুই দফা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর এখনো তিন মাস সময় চেয়ে আবারও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে এমডির খুঁজে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্র মতে, চলতি বছরের ১১ জুলাই ডিএসই’র এমডি পদ শূন্য হয়। গত ৭ আগস্ট ডিএসই কর্তৃপক্ষ নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ডেইলি অবজারভার, প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববারের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ দুই দফা সময় বৃদ্ধির পর আবারও আবেদনের সময় বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন সিএসই’র ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক।

আবেদনের জন্য ক্লিক করুন: https://www.dsebd.org/pdf/dse-md-2019.pdf

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র