Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু

অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু
ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর। মূলত, কালো টাকা এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ বন্ধ করতে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব আব্দুর রউফ এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, এই অটোমেশন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে লিংক রয়েছে। ফলে কেউ অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কিনছেন কি-না, সেটি সহজেই ধরা পড়বে। একইসঙ্গে কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের ব্যুরো অফিস (গুলিস্তান) এবং বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়ে এ অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এ প্রকল্প চালু করতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ১২ জানুয়ারি অর্থবিভাগে ‘পাবলিক এক্সপেনডিচার ম্যানেজমেন্ট স্ট্রেনদেনিং প্রোগ্রামম’র অধীনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আগামী ৩ মাস প্রথমিকভাবে ৪টি অফিস থেকে অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী এই প্রকল্প চালু করা হবে। এজন্য ‘ন্যাশনাল সেভিং সার্টিফিকেটস অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

আরো জানা গেছে, নতুন এ ডাটাবেজ চালু হলে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। আর ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। এর বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এজন্য সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন তাদেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। এ উদ্যোগের ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবে। একই সঙ্গে কালোটাকা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

তারা আরো জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রের ঋণের সুদবাবদ সরকারকে বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। যা সরকারি চাকরিজীবীদের মোট বেতন-ভাতার চেয়ে এক হাজার কোটি টাকা বেশি। ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের লাগাম টানতে চায় সরকার। এ জন্য এই খাতে বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে নিট বিনিযোগ এসেছে ২১ হাজার ৬৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৩ শতাংশ। সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

আপনার মতামত লিখুন :

টিভি অনুষ্ঠান চলাকালেই খাবার পৌঁছে দিল 'সহজ’

টিভি অনুষ্ঠান চলাকালেই খাবার পৌঁছে দিল 'সহজ’
অনুষ্ঠানেই অর্ডার, অনুষ্ঠান চলাকালেই পৌঁছে গেল খাবার, ছবি: সংগৃহীত

টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে অনুষ্ঠান চলাকালীন স্বল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপের অর্ডারে উপস্থাপকের কাছে খাবার পৌঁছে দিল সহজ অ্যাপ।

সোমবার (২৪ জুন) বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলার বিরতিতে গাজী টেলিভিশনে ‘বাংলালিংক পাওয়ার প্লে’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা জান্নাত অতিথি খালেদ মাসুদ পাইলটের জন্য সহজ অ্যাপে খাবার অর্ডার করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের মধ্যে খাবার নিয়ে ডেলিভারি ম্যান উপস্থিত হলে চমকিত হন উপস্থাপিকা এবং আমন্ত্রিত অতিথি।

সহজ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা যেকোনো সময় খাবার অর্ডার করতে পারেন, সহজেই!

উল্লেখ্য, দেশের পরিবহন টিকিট সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করা সহজ.কম সম্প্রতি সহজ ফুড সেবার মাধ্যমে শহরের ব্যস্ত মানুষদের স্বল্প সময়ে পছন্দের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

‘করের বোঝায় থমকে গেছে টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধি’

‘করের বোঝায় থমকে গেছে টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধি’
টিআরএনবি'র বাজেট পরবর্তী গোলটেবিল বৈঠকে টেলিকম খাতের সংশ্লিষ্টরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

টেলিকম খাতের উপর করের বোঝা চাপিয়ে এর প্রবৃদ্ধিকে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। ‘প্রস্তাবিত বাজেট: টেলিকম খাতের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিলে মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এই মন্তব্য উঠে আসে।

টিআরএনবি’র সভাপতি মুজিব মাসুদের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। এতে শুরুতে বক্তব্য রাখেন টিআরএনবি’র সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার খান শিপু এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআরএনবি’র ট্রেজারার শামীম জাহাঙ্গীর। বৈঠক সঞ্চালনা করেন টিআরএনবি’র সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

বৈঠকে রবি’র সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি আমাদের সাথে থাকে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। টেলিকম খাতে আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ সরকারি খাতে চলে যায়। আমরা কেন গ্রামীণফোনের মতো মুনাফা করব না? টেলিটক আইসিইউতে রয়েছে। এটি বাদে বর্তমানে তিনটি কোম্পানি রয়েছে। তারাও যদি টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তা এই খাতের জন্য নেতিবাচক হবে।’

মোবাইল ফোন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়ে এসেছে, সেখানেই করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এই খাত থেকে করের বোঝা কমানোর দাবি জানাচ্ছি।’

টেলিটকের ডিজিএম সাইফুর রহমান খান বলেন, ‘টেলিকম খাতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এতে আমাদের মতো ছোট কোম্পানির জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।’

বাংলালিংকের হেড অব ট্যাক্স সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘সরকারের বেশ কিছু টার্গেট রয়েছে। আর এই টার্গেট পূরণের জন্য টেলিকম খাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য খাতকেও টার্গেট করা যেতে পারে। এ ধরনের পরোক্ষ কর না বাড়িয়ে আয়করের দিকে সরকারের বেশি নজর দেওয়া উচিত।’

গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, ‘এই খাতের মধ্যে আমরাই প্রথম পুঁজিবাজারে গিয়েছি। এজন্য করপোরেট ট্যাক্সের উপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে। পুঁজিবাজারে যাওয়ার তিন বছরের মাথায় কর রেয়াত ৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে অন্য কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে যেতে নিরুৎসাহিত হবে।’

এমটবের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘টেলিকম খাতে ১০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই। সেই সঙ্গে সিম ট্যাক্স এই খাতের প্রবৃদ্ধিকে থামিয়ে দিচ্ছে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর জরিপ ও পরিদর্শন) মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করেই কর কিংবা ভ্যাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি এককভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্ম্যার্টফোনের সুফলের চেয়ে কুফলও বেশি দেখা যাচ্ছে। খুব বেশি স্ম্যার্টফোনের দরকার নেই। সব নীতিমালাতে ভালো ফল দেবে, তা আশা করতে পারেন না।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টেলিটকের মতো প্রতিষ্ঠানকে রাখি বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এছাড়া সরকারের কিছু কাজ টেলিটক করে থাকে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও তাকে কর, ভ্যাট দিতে হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র